০৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
বৈশ্বিক অর্থনীতির ‘মহাভুল’: সংকটের সমাধান মুদ্রার দরে নয় জাতীয় নিরাপত্তার  ওডিসিউস তীব্র লোডশেডিংয়ে রাজশাহীর ১৪ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা, ঘাটতি ২৫ শতাংশ বন্যার সঙ্গে সহাবস্থান, নদীকে বুঝে বাঁচার শিক্ষা আসামের বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি এডিবি বিনিয়োগ পাইপলাইন, সংস্কারে জোর বাংলাদেশকে ব্যবহার করে এশিয়ায় ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা আল-কায়েদার পানির নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ গড়বে নতুন প্রজন্ম হত্যার আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের বিমান বদল, গোপনে ছোট সামরিক বিমানে সরানো হয়েছিল প্রেসিডেন্টকে তুরস্কে ইরানি হামলার আশঙ্কা, গোপনে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হতেই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১১২)

একাদশ পরিচ্ছেদ

নিজের ওপর ফু’সে-ওঠা উন্মত্ত ক্রোধের সঙ্গে চারিদিকের সেই অভিশপ্ত বুক-

খাঁখাঁ-করা নৈঃশব্দ্যের প্রতি বিতৃষ্ণা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল আমার মধ্যে। আর, নিষ্ফল আক্রোশ, মনস্তাপ আর হতাশায় পাগল হয়ে গিয়ে আচমকা লাফিয়ে উঠে পড়ে আমি পকেট থেকে বোমাটা টেনে বের করলুম। তারপর বোমার সেফটি ক্যাচ খুলে দিয়ে ঘাসফুল, ঘন ক্লোভার-ঘাস আর শিশিরে-ভেজা ব্লু-বেল ফুলের মাঝখানে সেই সবুজ মাঠের ওপর সজোরে ছুড়ে মারলুম সেটা।

আমি একান্তভাবে যা চাইছিলুম তাই হল। কান-ফাটানো আওয়াজ করে ফাটল বোমাটা। আর তার উন্মত্ত প্রতিধ্বনি দূর থেকে দূরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল।

জঙ্গলের ধার ঘে’ষে এরপর হে’টে চললুম আমি।

‘হেই, কে যায় ওখেনে?’ সঙ্গে সঙ্গে ঝোপের আড়াল থেকে একটা গলার আওয়াজ পেলুম।

চলতে চলতেই জবাব দিলুম, ‘আমি।’

‘আরে, আমিটা কে? না-কইলি এখখুনি গুলি চালাব।’

‘চুলোয় যা. চালা গুলি, দেখি!’ রেগে চে’চিয়ে মাওজারটা টেনে বের করলুম।

‘এই পাগল্য, থাম্।’ এবার আরেকটা, যেন একটু চেনা-চেনা, একটা গলা শোনা গেল। ‘এই ভাস্কা, দাঁড়া দিকি এক মিনিট। ও যেন আমাদের বরিস বলে মনে লিচ্ছে?’

আমাদের বাহিনীরই একজন, খনি-মজুর মালিগিনের দিকে পিস্তল তাক করে গুলি করতে যাব এমন সময় নিজেকে সংযত করার মতো সুবুদ্ধি দেখা দিল আমার।

‘আরে, কোন চুলো থেকে আসচ বাপু? আমাদের বাহিনী এই কাছেই আচে। বোমটা ফাটাল কে তাই দেখতে পাঠিয়েচে আমাদের। তুমিই বোম ফাটালে নাকি?’

‘হ্যাঁ।’

‘বলি, মতলবখানা কী? ইদিক-উদিক বোম ফাটাচ্চ কোন্ আক্কেলে? নড়াইয়ের জন্যি কি হাত নিল্পিশ করচে? তা, মাতাল হও নি তো রে বাপু?’

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈশ্বিক অর্থনীতির ‘মহাভুল’: সংকটের সমাধান মুদ্রার দরে নয়

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১১২)

০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

একাদশ পরিচ্ছেদ

নিজের ওপর ফু’সে-ওঠা উন্মত্ত ক্রোধের সঙ্গে চারিদিকের সেই অভিশপ্ত বুক-

খাঁখাঁ-করা নৈঃশব্দ্যের প্রতি বিতৃষ্ণা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল আমার মধ্যে। আর, নিষ্ফল আক্রোশ, মনস্তাপ আর হতাশায় পাগল হয়ে গিয়ে আচমকা লাফিয়ে উঠে পড়ে আমি পকেট থেকে বোমাটা টেনে বের করলুম। তারপর বোমার সেফটি ক্যাচ খুলে দিয়ে ঘাসফুল, ঘন ক্লোভার-ঘাস আর শিশিরে-ভেজা ব্লু-বেল ফুলের মাঝখানে সেই সবুজ মাঠের ওপর সজোরে ছুড়ে মারলুম সেটা।

আমি একান্তভাবে যা চাইছিলুম তাই হল। কান-ফাটানো আওয়াজ করে ফাটল বোমাটা। আর তার উন্মত্ত প্রতিধ্বনি দূর থেকে দূরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল।

জঙ্গলের ধার ঘে’ষে এরপর হে’টে চললুম আমি।

‘হেই, কে যায় ওখেনে?’ সঙ্গে সঙ্গে ঝোপের আড়াল থেকে একটা গলার আওয়াজ পেলুম।

চলতে চলতেই জবাব দিলুম, ‘আমি।’

‘আরে, আমিটা কে? না-কইলি এখখুনি গুলি চালাব।’

‘চুলোয় যা. চালা গুলি, দেখি!’ রেগে চে’চিয়ে মাওজারটা টেনে বের করলুম।

‘এই পাগল্য, থাম্।’ এবার আরেকটা, যেন একটু চেনা-চেনা, একটা গলা শোনা গেল। ‘এই ভাস্কা, দাঁড়া দিকি এক মিনিট। ও যেন আমাদের বরিস বলে মনে লিচ্ছে?’

আমাদের বাহিনীরই একজন, খনি-মজুর মালিগিনের দিকে পিস্তল তাক করে গুলি করতে যাব এমন সময় নিজেকে সংযত করার মতো সুবুদ্ধি দেখা দিল আমার।

‘আরে, কোন চুলো থেকে আসচ বাপু? আমাদের বাহিনী এই কাছেই আচে। বোমটা ফাটাল কে তাই দেখতে পাঠিয়েচে আমাদের। তুমিই বোম ফাটালে নাকি?’

‘হ্যাঁ।’

‘বলি, মতলবখানা কী? ইদিক-উদিক বোম ফাটাচ্চ কোন্ আক্কেলে? নড়াইয়ের জন্যি কি হাত নিল্পিশ করচে? তা, মাতাল হও নি তো রে বাপু?’