০২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই

গাজায় মানসিক আঘাতের সুনামি: সহিংসতার পর চিকিৎসা নিতে ছুটছেন হাজারো মানুষ

ইসরায়েলি অভিযানের ধ্বংসযজ্ঞের পর মানসিকভাবে বিধ্বস্ত গাজার জনগণ — শিশুরা ভুগছে ভয়, ক্ষুধা ও নিদ্রাহীনতায়

গাজার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পর থেকে গাজা এখন এক ‘মানসিক আগ্নেয়গিরির’ মতো ফেটে পড়ছে। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকেই অসংখ্য মানুষ মানসিক চিকিৎসা ও সহায়তার জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন।

দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞে বিপর্যস্ত গাজা

গত দুই বছরে ইসরায়েলের অবিরাম বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৬৮ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন, খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটে পড়েছে। ফলে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রায় সবাই মানসিক আঘাত ও হতাশায় ভুগছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা।

Gaza's psychological trauma brings large numbers to seek help | Reuters

মানসিক হাসপাতালে রোগীর ঢল

গাজা সিটি মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রধান আবদাল্লাহ আল জামাল বলেন, “যুদ্ধবিরতি শুরু হতেই মনে হলো, যেন আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়েছে। অসংখ্য মানুষ একসঙ্গে মানসিক চিকিৎসার জন্য ছুটে আসছে। আগের মতো মানসিক রোগীর কাছে যাওয়া নিয়ে কোনো ভয় বা লজ্জা এখন আর নেই।”

তবে হাসপাতালটি যুদ্ধের সময় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন তারা একটি অস্থায়ী ক্লিনিক থেকে কাজ করছেন। সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে জামাল ও তাঁর সহকর্মীরা প্রতিদিন শতাধিক রোগীকে দেখছেন। গোপনীয় পরামর্শের জায়গা না থাকায় একই ঘরে একাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। জামাল বলেন, “এভাবে চিকিৎসা দেওয়া সত্যিই অসম্মানজনক, কিন্তু বিকল্প নেই। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।”

শিশুদের ভয় ও মানসিক বিপর্যয়

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে ব্যাপকভাবে রাতের দুঃস্বপ্ন, হঠাৎ কান্না, বিছানা ভেজানো, মনোযোগের ঘাটতি এবং আতঙ্কের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

Gaza's psychological trauma brings large numbers to seek help | Reuters

সংগঠনের বিশেষজ্ঞ নিভিন আবদেলহাদি বলেন, “গাজার শিশুরা এখন খাবার, পানি, আশ্রয় ও পোশাক—সব কিছুর ঘাটতিতে দিন কাটাচ্ছে। আমরা তাদের জন্য গল্প বলা, খেলা ও আঁকাআঁকির মতো মানসিক সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছি।”

যুদ্ধবিরতি সাময়িক স্বস্তি দিলেও সহিংসতা অব্যাহত

১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বড় আকারের সংঘর্ষ কিছুদিনের জন্য থামালেও মাঝেমধ্যেই নতুন সহিংসতা দেখা দিচ্ছে।

এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাসের এক হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১২০০ জন নিহত হয় বলে ইসরায়েলি পরিসংখ্যান জানায়।

তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার মানুষ এখনও ভয়, ক্ষুধা ও মানসিক আঘাতে দিন কাটাচ্ছে — একটি প্রজন্ম ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে ট্রমা, ক্ষতি ও অনিশ্চয়তার ভার নিয়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ

গাজায় মানসিক আঘাতের সুনামি: সহিংসতার পর চিকিৎসা নিতে ছুটছেন হাজারো মানুষ

০৬:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ইসরায়েলি অভিযানের ধ্বংসযজ্ঞের পর মানসিকভাবে বিধ্বস্ত গাজার জনগণ — শিশুরা ভুগছে ভয়, ক্ষুধা ও নিদ্রাহীনতায়

গাজার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পর থেকে গাজা এখন এক ‘মানসিক আগ্নেয়গিরির’ মতো ফেটে পড়ছে। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকেই অসংখ্য মানুষ মানসিক চিকিৎসা ও সহায়তার জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন।

দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞে বিপর্যস্ত গাজা

গত দুই বছরে ইসরায়েলের অবিরাম বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৬৮ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন, খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটে পড়েছে। ফলে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রায় সবাই মানসিক আঘাত ও হতাশায় ভুগছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা।

Gaza's psychological trauma brings large numbers to seek help | Reuters

মানসিক হাসপাতালে রোগীর ঢল

গাজা সিটি মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রধান আবদাল্লাহ আল জামাল বলেন, “যুদ্ধবিরতি শুরু হতেই মনে হলো, যেন আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়েছে। অসংখ্য মানুষ একসঙ্গে মানসিক চিকিৎসার জন্য ছুটে আসছে। আগের মতো মানসিক রোগীর কাছে যাওয়া নিয়ে কোনো ভয় বা লজ্জা এখন আর নেই।”

তবে হাসপাতালটি যুদ্ধের সময় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন তারা একটি অস্থায়ী ক্লিনিক থেকে কাজ করছেন। সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে জামাল ও তাঁর সহকর্মীরা প্রতিদিন শতাধিক রোগীকে দেখছেন। গোপনীয় পরামর্শের জায়গা না থাকায় একই ঘরে একাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। জামাল বলেন, “এভাবে চিকিৎসা দেওয়া সত্যিই অসম্মানজনক, কিন্তু বিকল্প নেই। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।”

শিশুদের ভয় ও মানসিক বিপর্যয়

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে ব্যাপকভাবে রাতের দুঃস্বপ্ন, হঠাৎ কান্না, বিছানা ভেজানো, মনোযোগের ঘাটতি এবং আতঙ্কের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

Gaza's psychological trauma brings large numbers to seek help | Reuters

সংগঠনের বিশেষজ্ঞ নিভিন আবদেলহাদি বলেন, “গাজার শিশুরা এখন খাবার, পানি, আশ্রয় ও পোশাক—সব কিছুর ঘাটতিতে দিন কাটাচ্ছে। আমরা তাদের জন্য গল্প বলা, খেলা ও আঁকাআঁকির মতো মানসিক সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছি।”

যুদ্ধবিরতি সাময়িক স্বস্তি দিলেও সহিংসতা অব্যাহত

১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বড় আকারের সংঘর্ষ কিছুদিনের জন্য থামালেও মাঝেমধ্যেই নতুন সহিংসতা দেখা দিচ্ছে।

এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাসের এক হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১২০০ জন নিহত হয় বলে ইসরায়েলি পরিসংখ্যান জানায়।

তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার মানুষ এখনও ভয়, ক্ষুধা ও মানসিক আঘাতে দিন কাটাচ্ছে — একটি প্রজন্ম ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে ট্রমা, ক্ষতি ও অনিশ্চয়তার ভার নিয়ে।