পাকিস্তানে আবারও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পদোন্নতি ঘটেছে। এবার তিনি পেলেন আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পদ — ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’। নতুন এই পদটি সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার (সেনা, নৌ ও বিমান) মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধ কমান্ড নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই পাকিস্তান সরকার আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শালের পদে উন্নীত করেছিল।
সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন পদ সৃষ্টি
শনিবার পাকিস্তানের সংসদে ‘২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল’ পাস হয়, যা সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনে। এই অনুচ্ছেদে সশস্ত্র বাহিনীর বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সংশোধনী অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি এখন থেকে সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস দুজনকেই নিয়োগ দেবেন।
জাতীয় কৌশলগত কমান্ডে নতুন নিয়ম
বিলে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান যিনি চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন, তিনিই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় কৌশলগত কমান্ডের প্রধান নিয়োগ দেবেন। এই পদটি কেবল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
ফিল্ড মার্শাল উপাধির বিশেষ মর্যাদা
পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আসিম মুনির দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে দেশের ইতিহাসে ফিল্ড মার্শালের মর্যাদা পান। এই উপাধি আজীবন বহাল থাকবে এবং এতে বিশেষ সুবিধাও যুক্ত থাকবে।
নতুন আইনে সরকার এখন থেকে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের যথাক্রমে ‘ফিল্ড মার্শাল’, ‘মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স’ ও ‘অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট’ পদে উন্নীত করার ক্ষমতা পেয়েছে।
বিলে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর শেষ হবে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ সামরিক ক্ষমতা কার্যত আসিম মুনিরের অধীনে একীভূত হবে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় কাঠামোগত পরিবর্তন
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যে জানা গেছে, ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক চার দিনের সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তিত রূপ থেকেই পাকিস্তান সরকার এই কাঠামোগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ২২ এপ্রিল পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিনদুর’ শুরু করে, যা পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করে। এই অভিযান চার দিন স্থায়ী হয় এবং ১০ মে সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়।
সংঘর্ষের প্রভাব ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
ভারতের বিমানবাহিনীর প্রধান এপি সিং জানিয়েছেন, ওই অভিযানে পাকিস্তানের অন্তত এক ডজন সামরিক বিমান, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ জেটও ছিল, ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুদ্ধবিরতির আবেদন করে।
এই প্রেক্ষাপটে, আসিম মুনিরের ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হওয়া এবং এখন চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস পদ সৃষ্টি — দুই সিদ্ধান্তকেই ইসলামাবাদের এক শক্তিশালী সামরিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনার সময় নিজেদের অবস্থান আরও জোরদার করতে সাহায্য করবে।
#Pakistan #AsimMunir #ChiefOfDefenceForces #MilitaryLeadership #SouthAsia
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















