০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
বাজেটে ভ্যাটের বড় পরিবর্তন: ছোট ব্যবসাও আসছে করজালে, বাড়তে পারে ফ্রিজ-এসির দাম খুলনায় ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা যুবককে, পুরোনো হামলার যোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ ইউসিবিতে ৫,৫৯৫ কোটি টাকার সংরক্ষণ ঘাটতি, মূলধন সংকট নিয়ে অডিটরের গুরুতর সতর্কবার্তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের জয় সীমান্তে অপরাধ বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় মৃত্যু হলে তা ‘সীমান্ত হত্যা’ নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পেটের ভেতরেই রোগ শনাক্ত করবে ‘খাওয়া যায়’ এমন ইলেকট্রনিকস, চিকিৎসায় খুলছে নতুন দিগন্ত ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত থামার আশা, নতুন করে আলোচনায় ইরান অটিজম থেরাপি খাতে বিস্ফোরক প্রবৃদ্ধি, সঙ্গে বাড়ছে বিল জালিয়াতির অভিযোগ ৮৪ বছরেও নতুন বাজি: ক্যাসিনো সাম্রাজ্য গড়তে এমজিএম কিনতে চান ব্যারি ডিলার আইপিএলের উত্থানে বদলে যাচ্ছে ক্রিকেটের মানচিত্র, বাড়ছে ক্লাবভিত্তিক আধিপত্যের প্রশ্ন

সংখ্যালঘু কলেজছাত্রী শমরিয়া রানী নিখোঁজের ১৫ দিন: পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীদের রহস্যজনক আচরণের অভিযোগ

  • Sarakhon Report
  • ০১:১৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • 115

১৫ দিনেও কোনো খোঁজ নেই শমরিয়ার

লালমনিরহাট সদরের ১৭ বছর বয়সী সংখ্যালঘু কলেজছাত্রী শমরিয়া রানী অপহরণের ১৫ দিন পার হলেও এখনও উদ্ধার হয়নি। পরিবারের দাবি—পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্ধার তৎপরতা রহস্যজনকভাবে ধীর ও উদাসীন। মানবাধিকার কর্মীরাও একই অভিযোগ তুলেছেন।


ঘটনার বিবরণ

২৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে শমরিয়া রানী তার ঠাকুরদা সুধাংশু বর্ম্মনের বাড়ি থেকে নিজ বাড়ির পথে ফিরছিলেন। পথে সুদীরের ভিটার কাছে পৌঁছালে, একটি মাইক্রোবাস এসে তার পথরোধ করে। এরপর অভিযুক্ত অপহরণকারীরা জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে মোস্তফি এলাকার দিকে পালিয়ে যায়

দুই প্রত্যক্ষদর্শী সুজন ও বলরাম মেয়েটিকে রক্ষার চেষ্টা করলেও অপহরণকারীরা দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে নানা স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও এখনো কোনো ফল মেলেনি।


পরিবারের অভিযোগ ও মানসিক অবস্থা

ভিকটিমের বাবা স্বপন কুমার বর্ম্মন ২৮ অক্টোবর লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন (মামলা নং-৬৪)। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, “আমার মেয়ে কোথায় আছে জানি না। আমি শুধু চাই ও জীবিত ফিরে আসুক।”

শমরিয়ার মা বলেন,

“আমার মেয়ের চিন্তায় আমার স্বামী স্ট্রোক করেছে। জানি না মেয়ে জীবিত না মৃত। পুলিশ এখনো উদ্ধার করতে পারছে না কেন? যারা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি চাই।”


পুলিশের বক্তব্য

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ এমরান আলী বলেন,

“আমি বর্তমানে ৫ দিনের ছুটিতে আছি। অপহরণকারীরা বারবার স্থান পরিবর্তন করায় উদ্ধার অভিযান সময়সাপেক্ষ হচ্ছে। ডিবি পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।”

তবে ১৫ দিনেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


মানবাধিকার ও সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

ঘটনার খবর জানার পর বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদপূজা উদযাপন পরিষদহিন্দু মহাজোটহিন্দু পরিষদ ও কল্যাণ ফান্ড লালমনিরহাট জেলা শাখা—সবাই প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন।

তারা এক যৌথ বিবৃতিতে দ্রুত শমরিয়া রানীকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

শমরিয়া রানীকে অপহরণের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—উদ্ধার তৎপরতা কতটা আন্তরিকভাবে চলছে? সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, আর তার পরিবার এখনো একটিমাত্র প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে—
“শমরিয়া কি বেঁচে আছে?”


#সংখ্যালঘু_অপহরণ #লালমনিরহাট #শমরিয়া_রানী #মানবাধিকার #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেটে ভ্যাটের বড় পরিবর্তন: ছোট ব্যবসাও আসছে করজালে, বাড়তে পারে ফ্রিজ-এসির দাম

সংখ্যালঘু কলেজছাত্রী শমরিয়া রানী নিখোঁজের ১৫ দিন: পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীদের রহস্যজনক আচরণের অভিযোগ

০১:১৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

১৫ দিনেও কোনো খোঁজ নেই শমরিয়ার

লালমনিরহাট সদরের ১৭ বছর বয়সী সংখ্যালঘু কলেজছাত্রী শমরিয়া রানী অপহরণের ১৫ দিন পার হলেও এখনও উদ্ধার হয়নি। পরিবারের দাবি—পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্ধার তৎপরতা রহস্যজনকভাবে ধীর ও উদাসীন। মানবাধিকার কর্মীরাও একই অভিযোগ তুলেছেন।


ঘটনার বিবরণ

২৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে শমরিয়া রানী তার ঠাকুরদা সুধাংশু বর্ম্মনের বাড়ি থেকে নিজ বাড়ির পথে ফিরছিলেন। পথে সুদীরের ভিটার কাছে পৌঁছালে, একটি মাইক্রোবাস এসে তার পথরোধ করে। এরপর অভিযুক্ত অপহরণকারীরা জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে মোস্তফি এলাকার দিকে পালিয়ে যায়

দুই প্রত্যক্ষদর্শী সুজন ও বলরাম মেয়েটিকে রক্ষার চেষ্টা করলেও অপহরণকারীরা দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে নানা স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও এখনো কোনো ফল মেলেনি।


পরিবারের অভিযোগ ও মানসিক অবস্থা

ভিকটিমের বাবা স্বপন কুমার বর্ম্মন ২৮ অক্টোবর লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন (মামলা নং-৬৪)। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, “আমার মেয়ে কোথায় আছে জানি না। আমি শুধু চাই ও জীবিত ফিরে আসুক।”

শমরিয়ার মা বলেন,

“আমার মেয়ের চিন্তায় আমার স্বামী স্ট্রোক করেছে। জানি না মেয়ে জীবিত না মৃত। পুলিশ এখনো উদ্ধার করতে পারছে না কেন? যারা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি চাই।”


পুলিশের বক্তব্য

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ এমরান আলী বলেন,

“আমি বর্তমানে ৫ দিনের ছুটিতে আছি। অপহরণকারীরা বারবার স্থান পরিবর্তন করায় উদ্ধার অভিযান সময়সাপেক্ষ হচ্ছে। ডিবি পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।”

তবে ১৫ দিনেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


মানবাধিকার ও সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

ঘটনার খবর জানার পর বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদপূজা উদযাপন পরিষদহিন্দু মহাজোটহিন্দু পরিষদ ও কল্যাণ ফান্ড লালমনিরহাট জেলা শাখা—সবাই প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন।

তারা এক যৌথ বিবৃতিতে দ্রুত শমরিয়া রানীকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

শমরিয়া রানীকে অপহরণের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—উদ্ধার তৎপরতা কতটা আন্তরিকভাবে চলছে? সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, আর তার পরিবার এখনো একটিমাত্র প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে—
“শমরিয়া কি বেঁচে আছে?”


#সংখ্যালঘু_অপহরণ #লালমনিরহাট #শমরিয়া_রানী #মানবাধিকার #সারাক্ষণ_রিপোর্ট