১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
লোডশেডিং চরমে, গরমে নাজেহাল জনজীবন ও উৎপাদন ব্যাহত ইউয়ানে লৌহ আকরিকের দাম নির্ধারণে নতুন অধ্যায়, ডলারের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ লোম্বক প্রণালীতে চীনা ড্রোন উদ্ধার, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রতলের নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা তীব্র কৃত্রিমভাবে তৈরি জ্বালানি সংকট, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি মির্জা ফখরুলের হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেশে বাড়ছে সংক্রমণ বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা ঝিনাইদহে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল গৃহবধূর শেষ মুহূর্তে সিলেবাস বদল, অনিশ্চয়তায় দেড় লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী আমরা চেষ্টা করছি, যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয় -অর্থমন্ত্রী রেড কার্পেটে নতুন ঢেউ: উদীয়মান ডিজাইনারদের দখলে ফ্যাশনের আলো

তিউনিসিয়ায় কারাগারে বর্বর নির্যাতন! বিরোধী নেতার পরিবারে চরম ক্ষোভ

তিউনিসিয়ার জেলে আটক বিশিষ্ট বিরোধী নেতা জাওহার বেন এমবারেককে অনশন ভাঙাতে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে বলে তাঁর পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন। তাঁরা জানান, দুই সপ্তাহের অনশনে অটল থাকা এমবারেককে নজরদারিহীন স্থানে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়।


বিরোধী নেতা বেন এমবারেকের ওপর হামলার অভিযোগ

বুধবার একটি সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, কারা কর্তৃপক্ষ বেন এমবারেককে জোর করে অনশন শেষ করাতে শারীরিক নির্যাতন করেছে।

আইনজীবী হানেন খমিরি বলেন,
“বেন এমবারেককে ভয়াবহভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন, ফোলা ও ফ্রাকচার আমরা দেখেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, নজরদারি ক্যামেরা নেই এমন স্থানে চারজন প্রহরী তাঁকে মারধর করেছে।”

কারা প্রশাসন এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বরং তারা দাবি করেছে, অনশনরত বন্দিদের শারীরিক অবস্থা খারাপ নয়।


গ্রেপ্তার ও রায়ের পটভূমি

প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের অন্যতম কঠোর সমালোচক বেন এমবারেককে ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বছর তাঁকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতি উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে—যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মনে করেন।


অনশন আন্দোলনের বিস্তার

এমবারেকের মতো আরও অন্তত পাঁচজন বিরোধী নেতা অনশন পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন:
রাশেদ ঘান্নোউশি – ৮৪ বছর বয়সী এনাহদা পার্টির প্রধান
ইসাম শেবি
রেদা বেলহাজ
আবদেল হামিদ জ্লাসি

তাঁদের দাবি, মিথ্যা অভিযোগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করে তাঁদের আটক রাখা হয়েছে।


পরিবারের প্রতিবাদ ও প্রেসিডেন্টকে দায়ী করা

এমবারেকের বাবা এজ্জেদিন হাজগুই জানান, তাঁর ছেলের প্রতি যেকোনো ক্ষতির জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট সাঈদকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, অভিযোগ তদন্তে কারা পরিচালক তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন।


স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার উদ্বেগ

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করছে, প্রেসিডেন্ট সাঈদের সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠ দমন করছে এবং দেশ আবার স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের দিকে যাচ্ছে।

২০২১ সালে কায়েস সাঈদ নিজের হাতে অধিকাংশ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে ডিক্রি জারি করে শাসন শুরু করেন—যা বিরোধীরা অভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করে।
তিনি বিরোধী নেতাদের বারবার রাষ্ট্রদ্রোহী, ভাড়াটে সেনা ও সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, যারা তাঁদের মুক্তি দেয়, সেই বিচারকরাও তাঁদের সহযোগী।


#তিউনিসিয়া #বিরোধীদমন #জাওহার_বেন_এমবারেক #অনশন #মানবাধিকার #মধ্যপ্রাচ্য #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

লোডশেডিং চরমে, গরমে নাজেহাল জনজীবন ও উৎপাদন ব্যাহত

তিউনিসিয়ায় কারাগারে বর্বর নির্যাতন! বিরোধী নেতার পরিবারে চরম ক্ষোভ

১২:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

তিউনিসিয়ার জেলে আটক বিশিষ্ট বিরোধী নেতা জাওহার বেন এমবারেককে অনশন ভাঙাতে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে বলে তাঁর পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন। তাঁরা জানান, দুই সপ্তাহের অনশনে অটল থাকা এমবারেককে নজরদারিহীন স্থানে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়।


বিরোধী নেতা বেন এমবারেকের ওপর হামলার অভিযোগ

বুধবার একটি সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, কারা কর্তৃপক্ষ বেন এমবারেককে জোর করে অনশন শেষ করাতে শারীরিক নির্যাতন করেছে।

আইনজীবী হানেন খমিরি বলেন,
“বেন এমবারেককে ভয়াবহভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন, ফোলা ও ফ্রাকচার আমরা দেখেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, নজরদারি ক্যামেরা নেই এমন স্থানে চারজন প্রহরী তাঁকে মারধর করেছে।”

কারা প্রশাসন এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বরং তারা দাবি করেছে, অনশনরত বন্দিদের শারীরিক অবস্থা খারাপ নয়।


গ্রেপ্তার ও রায়ের পটভূমি

প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের অন্যতম কঠোর সমালোচক বেন এমবারেককে ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বছর তাঁকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতি উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে—যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মনে করেন।


অনশন আন্দোলনের বিস্তার

এমবারেকের মতো আরও অন্তত পাঁচজন বিরোধী নেতা অনশন পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন:
রাশেদ ঘান্নোউশি – ৮৪ বছর বয়সী এনাহদা পার্টির প্রধান
ইসাম শেবি
রেদা বেলহাজ
আবদেল হামিদ জ্লাসি

তাঁদের দাবি, মিথ্যা অভিযোগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করে তাঁদের আটক রাখা হয়েছে।


পরিবারের প্রতিবাদ ও প্রেসিডেন্টকে দায়ী করা

এমবারেকের বাবা এজ্জেদিন হাজগুই জানান, তাঁর ছেলের প্রতি যেকোনো ক্ষতির জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট সাঈদকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, অভিযোগ তদন্তে কারা পরিচালক তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন।


স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার উদ্বেগ

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করছে, প্রেসিডেন্ট সাঈদের সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠ দমন করছে এবং দেশ আবার স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের দিকে যাচ্ছে।

২০২১ সালে কায়েস সাঈদ নিজের হাতে অধিকাংশ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে ডিক্রি জারি করে শাসন শুরু করেন—যা বিরোধীরা অভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করে।
তিনি বিরোধী নেতাদের বারবার রাষ্ট্রদ্রোহী, ভাড়াটে সেনা ও সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, যারা তাঁদের মুক্তি দেয়, সেই বিচারকরাও তাঁদের সহযোগী।


#তিউনিসিয়া #বিরোধীদমন #জাওহার_বেন_এমবারেক #অনশন #মানবাধিকার #মধ্যপ্রাচ্য #সারাক্ষণরিপোর্ট