০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেন এখনও নাগালের বাইরে? যুক্তরাষ্ট্রে আফগান অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহ ঘিরে নতুন উদ্বেগ, জোরালো হচ্ছে বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে কমছে সহিংস অপরাধ, স্বস্তি ফিরছে শহরগুলোতে সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেটের সামনে গাড়িচাপায় ৮২ বছরের নারী নিহত, বিচারের দাবিতে পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, দেশে প্রাণহানি বেড়ে ৪৩ সিলেটে গাছ থেকে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত মুম্বাইয়ের গল্পে গুলজারের ৭৬ বছর: যে শহর এক কিশোর অভিবাসীকে কবি বানিয়েছে পাঁচ বইয়ে পাঁচ ভুবনের যাত্রা, ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ—পাঠকের জন্য নতুন পাঁচ ঠিকানা সৌদি আরবকে পরমাণু জ্বালানি সমৃদ্ধকরণে ছাড়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশ্ন—‘আমাদের নয় কেন?’

‘বাঙালি’ তকমা দিয়ে গণহত্যা আড়াল করছে মিয়ানমার: ঢাকার কড়া আপত্তি

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২০১৬–১৭ সালের ভয়াবহ নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে  ঢাকার  চেষ্টা করছে মিয়ানমার—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দেশটির সাম্প্রতিক উপস্থাপনাকে এমনই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব আদালতে মিয়ানমারের বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে মিয়ানমার অবৈধ অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ভুয়া বয়ান তৈরি করছে। এতে তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অভিযান’কে সন্ত্রাস দমনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখিয়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গারা ‌'বাঙালি', আইসিজেতে মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখান বাংলাদেশের

 

রোহিঙ্গাদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও শেকড়
বাংলাদেশের বক্তব্যে বলা হয়, রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বিকশিত একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগেই তাদের উপস্থিতি ছিল। পুরোনো রাজধানী মিয়ো-হাউং এলাকায় তাদের বসবাসের কারণে চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর বাংলায় তারা ‘রোশাং’ বা ‘রোহাং’-এর মানুষ হিসেবে পরিচিতি পায়। সময়ের সঙ্গে নিপীড়ন বাড়লে তারা নিজেদের পরিচয়ের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ নাম গ্রহণ করে।

ঐতিহাসিক দলিল ও গবেষণার স্বীকৃতি
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আধুনিক সীমান্ত সৃষ্টির আগেই আরাকান ও বর্তমান রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গভীর ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিকড় ছিল। ইতিহাসগ্রন্থ, ঔপনিবেশিক জনসংখ্যা সংক্রান্ত নথি এবং স্বাধীন গবেষণায় এই সত্যের প্রমাণ রয়েছে।

জেনে রাখুন: রোহিঙ্গা ইতিহাস নিয়ে সাতটি বিচিত্র তথ্য - BBC News বাংলা

নাগরিকত্ব আইন ও পরিকল্পিত বঞ্চনা
বাংলাদেশ জানায়, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন জাতিগত ও ধর্মীয় ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেড়ে নেয়। এরপরও তারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বজায় রেখেছিল, যা ২০১৫ সালের নির্বাচনে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়। সাংবিধানিক সমানাধিকারের নিশ্চয়তা বারবার অস্বীকারের পর শেষ ধাপে তাদের রাখাইন থেকে উৎখাত করে রাষ্ট্রহীন করে ফেলা হয়।

40980409_303.webp

স্বতন্ত্র জাতিসত্তা অস্বীকারের ফল
বাংলাদেশের মতে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি ও ভাষা রয়েছে, যা বাংলা ভাষা থেকে আলাদা—যদিও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য আছে। ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে তাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে এবং সেটিই বহিষ্কার, নিপীড়ন ও জাতিগত নির্মূলের যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ ১৯৭৮ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে মিয়ানমার নিজেই রোহিঙ্গাদের বৈধ বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতা ও বিতর্কিত দাবি
বিবৃতিতে বলা হয়, গত আট বছরে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি ও প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া ২০১৭–১৮ সালের চুক্তির লঙ্ঘন এবং এটি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধ্বংসের অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দিতে পারে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে মিয়ানমারের করা মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘পাঁচ লাখ বাংলাদেশির রাখাইনে আশ্রয়’ নেওয়ার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা।

বাংলাদেশের আহ্বান
বাংলাদেশ মিয়ানমার ও রাখাইনের কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

Daily Manobkantha:: আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের মিথ্যাচার,  বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ: Daily Manobkantha

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেন এখনও নাগালের বাইরে?

‘বাঙালি’ তকমা দিয়ে গণহত্যা আড়াল করছে মিয়ানমার: ঢাকার কড়া আপত্তি

১১:৪৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২০১৬–১৭ সালের ভয়াবহ নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে  ঢাকার  চেষ্টা করছে মিয়ানমার—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দেশটির সাম্প্রতিক উপস্থাপনাকে এমনই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব আদালতে মিয়ানমারের বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে মিয়ানমার অবৈধ অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ভুয়া বয়ান তৈরি করছে। এতে তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অভিযান’কে সন্ত্রাস দমনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখিয়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গারা ‌'বাঙালি', আইসিজেতে মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখান বাংলাদেশের

 

রোহিঙ্গাদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও শেকড়
বাংলাদেশের বক্তব্যে বলা হয়, রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বিকশিত একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগেই তাদের উপস্থিতি ছিল। পুরোনো রাজধানী মিয়ো-হাউং এলাকায় তাদের বসবাসের কারণে চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর বাংলায় তারা ‘রোশাং’ বা ‘রোহাং’-এর মানুষ হিসেবে পরিচিতি পায়। সময়ের সঙ্গে নিপীড়ন বাড়লে তারা নিজেদের পরিচয়ের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ নাম গ্রহণ করে।

ঐতিহাসিক দলিল ও গবেষণার স্বীকৃতি
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আধুনিক সীমান্ত সৃষ্টির আগেই আরাকান ও বর্তমান রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গভীর ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিকড় ছিল। ইতিহাসগ্রন্থ, ঔপনিবেশিক জনসংখ্যা সংক্রান্ত নথি এবং স্বাধীন গবেষণায় এই সত্যের প্রমাণ রয়েছে।

জেনে রাখুন: রোহিঙ্গা ইতিহাস নিয়ে সাতটি বিচিত্র তথ্য - BBC News বাংলা

নাগরিকত্ব আইন ও পরিকল্পিত বঞ্চনা
বাংলাদেশ জানায়, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন জাতিগত ও ধর্মীয় ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেড়ে নেয়। এরপরও তারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বজায় রেখেছিল, যা ২০১৫ সালের নির্বাচনে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়। সাংবিধানিক সমানাধিকারের নিশ্চয়তা বারবার অস্বীকারের পর শেষ ধাপে তাদের রাখাইন থেকে উৎখাত করে রাষ্ট্রহীন করে ফেলা হয়।

40980409_303.webp

স্বতন্ত্র জাতিসত্তা অস্বীকারের ফল
বাংলাদেশের মতে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি ও ভাষা রয়েছে, যা বাংলা ভাষা থেকে আলাদা—যদিও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য আছে। ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে তাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে এবং সেটিই বহিষ্কার, নিপীড়ন ও জাতিগত নির্মূলের যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ ১৯৭৮ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে মিয়ানমার নিজেই রোহিঙ্গাদের বৈধ বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতা ও বিতর্কিত দাবি
বিবৃতিতে বলা হয়, গত আট বছরে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি ও প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া ২০১৭–১৮ সালের চুক্তির লঙ্ঘন এবং এটি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধ্বংসের অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দিতে পারে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে মিয়ানমারের করা মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘পাঁচ লাখ বাংলাদেশির রাখাইনে আশ্রয়’ নেওয়ার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা।

বাংলাদেশের আহ্বান
বাংলাদেশ মিয়ানমার ও রাখাইনের কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

Daily Manobkantha:: আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের মিথ্যাচার,  বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ: Daily Manobkantha