০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সোনারপুরে হামলা, গ্রেপ্তার ৫: ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু বিতর্ক সংকটের অপেক্ষা না সংস্কারের সাহস: ব্রিটেনের সামনে কঠিন প্রশ্ন দিনাজপুরে ঈদের আনন্দযাত্রা থামল সড়কে, প্রাণ গেল দুই কলেজপড়ুয়া বন্ধুর মেরিলিন মনরোর মৃত্যুর রহস্যে নতুন দাবি, চিকিৎসকের ভুলেই কি ঘটেছিল ট্র্যাজেডি? প্যারিসে উল্লাস থেকে সহিংসতা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের রাতে আটক চার শতাধিক জাপান-যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইনের নতুন উদ্যোগ, লুজনে গড়ে উঠছে এআই ও চিপ শিল্পের আঞ্চলিক কেন্দ্র আলুর পাহাড়ে বিপদে বেলজিয়াম, কোটি কোটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের কাঁচামাল ফেলতে বাধ্য কৃষক ভাষার নতুন সাম্রাজ্য: কেন ‘মগিং’ শুধু একটি শব্দ নয় ভারতের কফি বিপ্লব: বিশেষায়িত কফির উত্থানে বদলে যাচ্ছে চাষিদের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প কি মধ্যবর্তী নির্বাচন জিততে চান, নাকি রিপাবলিকান পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই তাঁর আসল লক্ষ্য?

‘বাঙালি’ তকমা দিয়ে গণহত্যা আড়াল করছে মিয়ানমার: ঢাকার কড়া আপত্তি

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২০১৬–১৭ সালের ভয়াবহ নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে  ঢাকার  চেষ্টা করছে মিয়ানমার—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দেশটির সাম্প্রতিক উপস্থাপনাকে এমনই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব আদালতে মিয়ানমারের বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে মিয়ানমার অবৈধ অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ভুয়া বয়ান তৈরি করছে। এতে তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অভিযান’কে সন্ত্রাস দমনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখিয়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গারা ‌'বাঙালি', আইসিজেতে মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখান বাংলাদেশের

 

রোহিঙ্গাদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও শেকড়
বাংলাদেশের বক্তব্যে বলা হয়, রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বিকশিত একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগেই তাদের উপস্থিতি ছিল। পুরোনো রাজধানী মিয়ো-হাউং এলাকায় তাদের বসবাসের কারণে চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর বাংলায় তারা ‘রোশাং’ বা ‘রোহাং’-এর মানুষ হিসেবে পরিচিতি পায়। সময়ের সঙ্গে নিপীড়ন বাড়লে তারা নিজেদের পরিচয়ের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ নাম গ্রহণ করে।

ঐতিহাসিক দলিল ও গবেষণার স্বীকৃতি
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আধুনিক সীমান্ত সৃষ্টির আগেই আরাকান ও বর্তমান রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গভীর ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিকড় ছিল। ইতিহাসগ্রন্থ, ঔপনিবেশিক জনসংখ্যা সংক্রান্ত নথি এবং স্বাধীন গবেষণায় এই সত্যের প্রমাণ রয়েছে।

জেনে রাখুন: রোহিঙ্গা ইতিহাস নিয়ে সাতটি বিচিত্র তথ্য - BBC News বাংলা

নাগরিকত্ব আইন ও পরিকল্পিত বঞ্চনা
বাংলাদেশ জানায়, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন জাতিগত ও ধর্মীয় ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেড়ে নেয়। এরপরও তারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বজায় রেখেছিল, যা ২০১৫ সালের নির্বাচনে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়। সাংবিধানিক সমানাধিকারের নিশ্চয়তা বারবার অস্বীকারের পর শেষ ধাপে তাদের রাখাইন থেকে উৎখাত করে রাষ্ট্রহীন করে ফেলা হয়।

40980409_303.webp

স্বতন্ত্র জাতিসত্তা অস্বীকারের ফল
বাংলাদেশের মতে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি ও ভাষা রয়েছে, যা বাংলা ভাষা থেকে আলাদা—যদিও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য আছে। ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে তাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে এবং সেটিই বহিষ্কার, নিপীড়ন ও জাতিগত নির্মূলের যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ ১৯৭৮ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে মিয়ানমার নিজেই রোহিঙ্গাদের বৈধ বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতা ও বিতর্কিত দাবি
বিবৃতিতে বলা হয়, গত আট বছরে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি ও প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া ২০১৭–১৮ সালের চুক্তির লঙ্ঘন এবং এটি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধ্বংসের অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দিতে পারে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে মিয়ানমারের করা মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘পাঁচ লাখ বাংলাদেশির রাখাইনে আশ্রয়’ নেওয়ার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা।

বাংলাদেশের আহ্বান
বাংলাদেশ মিয়ানমার ও রাখাইনের কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

Daily Manobkantha:: আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের মিথ্যাচার,  বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ: Daily Manobkantha

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সোনারপুরে হামলা, গ্রেপ্তার ৫: ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু বিতর্ক

‘বাঙালি’ তকমা দিয়ে গণহত্যা আড়াল করছে মিয়ানমার: ঢাকার কড়া আপত্তি

১১:৪৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২০১৬–১৭ সালের ভয়াবহ নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে  ঢাকার  চেষ্টা করছে মিয়ানমার—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দেশটির সাম্প্রতিক উপস্থাপনাকে এমনই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব আদালতে মিয়ানমারের বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে মিয়ানমার অবৈধ অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ভুয়া বয়ান তৈরি করছে। এতে তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অভিযান’কে সন্ত্রাস দমনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখিয়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গারা ‌'বাঙালি', আইসিজেতে মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখান বাংলাদেশের

 

রোহিঙ্গাদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও শেকড়
বাংলাদেশের বক্তব্যে বলা হয়, রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বিকশিত একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগেই তাদের উপস্থিতি ছিল। পুরোনো রাজধানী মিয়ো-হাউং এলাকায় তাদের বসবাসের কারণে চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর বাংলায় তারা ‘রোশাং’ বা ‘রোহাং’-এর মানুষ হিসেবে পরিচিতি পায়। সময়ের সঙ্গে নিপীড়ন বাড়লে তারা নিজেদের পরিচয়ের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ নাম গ্রহণ করে।

ঐতিহাসিক দলিল ও গবেষণার স্বীকৃতি
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আধুনিক সীমান্ত সৃষ্টির আগেই আরাকান ও বর্তমান রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গভীর ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিকড় ছিল। ইতিহাসগ্রন্থ, ঔপনিবেশিক জনসংখ্যা সংক্রান্ত নথি এবং স্বাধীন গবেষণায় এই সত্যের প্রমাণ রয়েছে।

জেনে রাখুন: রোহিঙ্গা ইতিহাস নিয়ে সাতটি বিচিত্র তথ্য - BBC News বাংলা

নাগরিকত্ব আইন ও পরিকল্পিত বঞ্চনা
বাংলাদেশ জানায়, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন জাতিগত ও ধর্মীয় ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেড়ে নেয়। এরপরও তারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বজায় রেখেছিল, যা ২০১৫ সালের নির্বাচনে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়। সাংবিধানিক সমানাধিকারের নিশ্চয়তা বারবার অস্বীকারের পর শেষ ধাপে তাদের রাখাইন থেকে উৎখাত করে রাষ্ট্রহীন করে ফেলা হয়।

40980409_303.webp

স্বতন্ত্র জাতিসত্তা অস্বীকারের ফল
বাংলাদেশের মতে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি ও ভাষা রয়েছে, যা বাংলা ভাষা থেকে আলাদা—যদিও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য আছে। ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে তাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে এবং সেটিই বহিষ্কার, নিপীড়ন ও জাতিগত নির্মূলের যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ ১৯৭৮ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে মিয়ানমার নিজেই রোহিঙ্গাদের বৈধ বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতা ও বিতর্কিত দাবি
বিবৃতিতে বলা হয়, গত আট বছরে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি ও প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া ২০১৭–১৮ সালের চুক্তির লঙ্ঘন এবং এটি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধ্বংসের অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দিতে পারে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে মিয়ানমারের করা মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘পাঁচ লাখ বাংলাদেশির রাখাইনে আশ্রয়’ নেওয়ার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা।

বাংলাদেশের আহ্বান
বাংলাদেশ মিয়ানমার ও রাখাইনের কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

Daily Manobkantha:: আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের মিথ্যাচার,  বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ: Daily Manobkantha