০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
দিদির ‘নারী বাহিনী’: চতুর্থ মেয়াদের লড়াইয়ে মমতার শক্ত ঘাঁটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের চার কবর ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির তীব্র রাজনৈতিক লড়াই শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালী অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের নতুন ব্যাংক আইনে পুনর্জাগরণের সুযোগ: একীভূত পাঁচ ব্যাংক ফের যেতে পারে পুরোনো মালিকদের হাতে, সামনে নতুন সম্ভাবনা পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই, মুখোমুখি মোদি-মমতা পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিক এসআইআর বিতর্কে: কে এই মনোজ আগরওয়াল ৯-১৩ এপ্রিল সাবমেরিন ক্যাবলে রক্ষণাবেক্ষণ — ইন্টারনেটে ধীরগতি ও বিঘ্নের আশঙ্কা উৎসবের আগে সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা — বিজিবির বিশেষ টহল ও তল্লাশি চৌকি স্থাপন ভারত থেকে এলো আরও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল — পাইপলাইনে সরবরাহ চলমান জাত্রাবাড়ীতে বিশেষ অভিযান: ১৫ গ্রেফতার, ৪ হাজার ইয়াবা ও দেড় কেজি গাঁজা উদ্ধার

শীত উপেক্ষা করে মিনিয়াপোলিসে জনজোয়ার, ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে তীব্র প্রতিবাদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইনের অভিযান বন্ধের দাবিতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে আয়োজকেরা ‘আইস আউট’ সাধারণ ধর্মঘট হিসেবে ঘোষণা করেন। শুক্রবার ভোরে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস কুড়ি ফারেনহাইটের কাছাকাছি, তবুও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জমায়েত হয় বিপুল জনতা।

প্রতিবাদের বিস্তার ও অংশগ্রহণ
আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, ওই দিন প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন, যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিড়ের সংখ্যা জানানো হয়নি। দিনের পরের ভাগে বহু মানুষ শহরের একটি ক্রীড়া অঙ্গনে জড়ো হন, যেখানে ধারণক্ষমতা বিশ হাজারের মতো এবং অর্ধেকের বেশি আসন পূর্ণ হয়ে যায়। প্রতিবাদে অংশ নিতে মিনেসোটার বিভিন্ন এলাকায় দোকান, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় বলে জানান আয়োজকেরা।

Thousands brave bitter cold to demand ICE exit

আইস অভিযানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনেসোটায় আইনের তৎপরতা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। কোথাও কোথাও এই বিরোধ সংঘর্ষে রূপও নিয়েছে। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এরই মধ্যে মিনিয়াপলিস সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আইন কর্মকর্তাদের সমর্থন জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন,  আইন ভঙ্গকারীদের আটক করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।

বিমানবন্দরে ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার
সবচেয়ে নাটকীয় প্রতিবাদ দেখা যায় মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানে সড়কে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা ও ধর্মীয় সংগীত গাওয়ার সময় স্থানীয় পুলিশের হাতে আটক হন বহু ধর্মীয় নেতা। তাঁদের দাবি ছিল, মিনেসোটায় পাঠানো তিন হাজার ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় একশ জন ধর্মীয় নেতাকে আটক করা হয়, যাঁরা কোনো ধরনের প্রতিরোধ করেননি।

Thousands brave bitter cold to demand ICE leave Minneapolis | The Star

নাগরিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি
প্রতিবাদকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল চলতি মাসে গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিক রেনি গুডের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। আয়োজকদের মতে, আইনের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে এবং এর ফলে রাজ্যজুড়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। মঞ্চে বক্তৃতায় আদিবাসী, শ্রমিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারা আইস প্রত্যাহার এবং গুড হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

ট্রাম্পের নীতি ও রাজনৈতিক বিভাজন
দুই হাজার চব্বিশ সালের নির্বাচনে অভিবাসন আইন কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি ছিল, আগের প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তায় শিথিলতা দেখিয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহর ও রাজ্য ফেডারেল বাহিনীর জোরালো উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র করেছে। গুড হত্যাকাণ্ড, নাগরিকদের আটক এবং শিশুদের গ্রেফতারের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Thousands brave cold to protest against ICE in Minneapolis

করপোরেট নীরবতা নিয়ে সমালোচনা
মিনেসোটাভিত্তিক বহু বড় করপোরেশন এই অভিযানের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেয়নি। প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে এই নীরবতাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, রাজ্যের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর চুপ করে থাকা সাধারণ মানুষের হতাশা বাড়াচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিদির ‘নারী বাহিনী’: চতুর্থ মেয়াদের লড়াইয়ে মমতার শক্ত ঘাঁটি

শীত উপেক্ষা করে মিনিয়াপোলিসে জনজোয়ার, ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে তীব্র প্রতিবাদ

০২:০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইনের অভিযান বন্ধের দাবিতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে আয়োজকেরা ‘আইস আউট’ সাধারণ ধর্মঘট হিসেবে ঘোষণা করেন। শুক্রবার ভোরে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস কুড়ি ফারেনহাইটের কাছাকাছি, তবুও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জমায়েত হয় বিপুল জনতা।

প্রতিবাদের বিস্তার ও অংশগ্রহণ
আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, ওই দিন প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন, যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিড়ের সংখ্যা জানানো হয়নি। দিনের পরের ভাগে বহু মানুষ শহরের একটি ক্রীড়া অঙ্গনে জড়ো হন, যেখানে ধারণক্ষমতা বিশ হাজারের মতো এবং অর্ধেকের বেশি আসন পূর্ণ হয়ে যায়। প্রতিবাদে অংশ নিতে মিনেসোটার বিভিন্ন এলাকায় দোকান, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় বলে জানান আয়োজকেরা।

Thousands brave bitter cold to demand ICE exit

আইস অভিযানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনেসোটায় আইনের তৎপরতা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। কোথাও কোথাও এই বিরোধ সংঘর্ষে রূপও নিয়েছে। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এরই মধ্যে মিনিয়াপলিস সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আইন কর্মকর্তাদের সমর্থন জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন,  আইন ভঙ্গকারীদের আটক করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।

বিমানবন্দরে ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার
সবচেয়ে নাটকীয় প্রতিবাদ দেখা যায় মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানে সড়কে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা ও ধর্মীয় সংগীত গাওয়ার সময় স্থানীয় পুলিশের হাতে আটক হন বহু ধর্মীয় নেতা। তাঁদের দাবি ছিল, মিনেসোটায় পাঠানো তিন হাজার ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় একশ জন ধর্মীয় নেতাকে আটক করা হয়, যাঁরা কোনো ধরনের প্রতিরোধ করেননি।

Thousands brave bitter cold to demand ICE leave Minneapolis | The Star

নাগরিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি
প্রতিবাদকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল চলতি মাসে গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিক রেনি গুডের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। আয়োজকদের মতে, আইনের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে এবং এর ফলে রাজ্যজুড়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। মঞ্চে বক্তৃতায় আদিবাসী, শ্রমিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারা আইস প্রত্যাহার এবং গুড হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

ট্রাম্পের নীতি ও রাজনৈতিক বিভাজন
দুই হাজার চব্বিশ সালের নির্বাচনে অভিবাসন আইন কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি ছিল, আগের প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তায় শিথিলতা দেখিয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহর ও রাজ্য ফেডারেল বাহিনীর জোরালো উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র করেছে। গুড হত্যাকাণ্ড, নাগরিকদের আটক এবং শিশুদের গ্রেফতারের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Thousands brave cold to protest against ICE in Minneapolis

করপোরেট নীরবতা নিয়ে সমালোচনা
মিনেসোটাভিত্তিক বহু বড় করপোরেশন এই অভিযানের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেয়নি। প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে এই নীরবতাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, রাজ্যের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর চুপ করে থাকা সাধারণ মানুষের হতাশা বাড়াচ্ছে।