এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা রিমি সেন বলিউড ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে হাঁটছেন। অভিনয়ের জগৎ থেকে সরে গিয়ে তিনি এখন দুবাইয়ের বিলাসবহুল সম্পত্তি ব্যবসায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাম্প্রতিক এক পডকাস্ট আলোচনায় নিজের সিদ্ধান্তের পেছনের বাস্তবতা, চলচ্চিত্র শিল্পের সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত কেন
রিমি সেনের মতে, হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পে বিশেষ করে নারীদের জন্য কাজের স্থায়িত্ব খুবই কম। পুরুষ অভিনেতারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান চরিত্রে টিকে থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত। তিনি বলেন, এই শিল্প পুরুষপ্রধান এবং এখানেই নারীদের পথ দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসে। দীর্ঘদিন পর দেখা যায়, এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকারা পার্শ্বচরিত্র বা পারিবারিক চরিত্রে অভিনয় করতে বাধ্য হন। এই বাস্তবতা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন রিমি।
দুবাইয়ে নতুন অধ্যায়
অভিনয় ছেড়ে রিমি এখন পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছেন দুবাইয়ের সম্পত্তি খাতে। তাঁর ভাষায়, রিয়েল এস্টেট একটি স্থিতিশীল ব্যবসা। চলচ্চিত্রের অনিশ্চয়তার তুলনায় এখানে ভবিষ্যৎ অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। পডকাস্ট আলোচনায় তাঁর সহকর্মীরা মজা করে বলেছেন, অল্প সময়েই তিনি যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তা অনেকের জন্য বিস্ময়কর।
নারী শিল্পীদের বাস্তবতা
রিমি স্পষ্ট করে বলেছেন, চলচ্চিত্র জগতে নারীদের কাজের আয়ু খুব ছোট। একই সময় পুরুষ অভিনেতারা দুই থেকে তিন দশক ধরে নায়ক হিসেবে কাজ করে যান। অথচ তাঁদের বিপরীতে অভিনয় করা অনেক নায়িকাকেই পরে বয়সী চরিত্রে দেখা যায়। এই বৈষম্যই তাঁকে আগেভাগে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে।
![]()
খ্যাতির নেশা থেকে সরে আসা
রিমি সেন খ্যাতিকে এক ধরনের নেশার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, খ্যাতির মোহ জুয়া খেলার মতো। বুদ্ধিমান মানুষ জানে কখন টেবিল ছেড়ে উঠতে হয়। সম্মান ও পরিচয় থাকা অবস্থায় সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি বলেন, ক্রিকেটের মতোই অভিনয় জীবনেও শীর্ষে থাকা অবস্থায় বিদায় নেওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু সেটাই সঠিক।
পরিকল্পিত বিদায়
অভিনয়ের সময় থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন রিমি। ভালো কাজ পেলে অভিনয় করেছেন, অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্রে কাজ করে অর্থ উপার্জন করেছেন, এরপর ধীরে ধীরে সরে দাঁড়িয়েছেন। একঘেয়ে কাজের প্রস্তাব আসতে শুরু করলে তিনি বুঝেছিলেন, এবার নতুন পথ খোঁজার সময় এসেছে। সেই পরিকল্পনারই ফল আজকের এই নতুন ব্যবসায়িক জীবন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















