বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ডাভোস সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি বোর্ডে’ স্বাক্ষর করেও গাজা প্রসঙ্গে বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান। ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গাজার ভবিষ্যৎ রূপান্তর বা শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে পাকিস্তানের কোনো ভূমিকা তারা মেনে নেবে না।

ডাভোসে শান্তি বোর্ডে স্বাক্ষর ও ইসরায়েলের আপত্তি
ডাভোসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মাত্র কুড়িটিরও কম দেশের নেতা ট্রাম্পের ঘোষিত শান্তি বোর্ডের সনদে স্বাক্ষর করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা। তবে সনদে স্বাক্ষরের পরই ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী নির বারকাত কড়া ভাষায় বলেন, সন্ত্রাসকে যারা সমর্থন করেছে তারা স্বাগত নয়, আর সেই তালিকায় পাকিস্তানও রয়েছে।
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বারকাত বলেন, গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী বা রূপান্তর প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান, কাতার কিংবা তুরস্ককে ইসরায়েল বিশ্বাস করে না। তার দাবি, এসব দেশ গাজার জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল থেকেছে, ফলে তাদের মাটিতে বুট নামানোর প্রশ্নই ওঠে না।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রশংসা, জাতিসংঘের সমালোচনা
পাকিস্তানকে কার্যত গাজা সমীকরণ থেকে বাদ দিলেও ট্রাম্পের শান্তি কাঠামোর প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী। তার মতে, এই কাঠামো জাতিসংঘের চেয়ে কার্যকর, কারণ জাতিসংঘ পক্ষপাতদুষ্ট। অনেক দেশই ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে জাতিসংঘের বিকল্প আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সূচনা হিসেবে দেখছে।

দেশের ভেতরে শেহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
ডাভোসে সনদে স্বাক্ষর করা নিয়ে পাকিস্তানের ভেতরেও শেহবাজ শরিফ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগ অবশ্যই জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে, সমান্তরাল কাঠামো তৈরি করবে না। তারা এই সিদ্ধান্তের ওপর জাতীয় গণভোটের দাবি তোলে।
দলটি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলে, গাজা বা ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো পরিকল্পনা তারা মানবে না। একই সঙ্গে পাকিস্তান সিনেটে বিরোধী দলনেতা ও মজলিস ওয়াহদাতুল মুসলিমিন প্রধান আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এই সনদে স্বাক্ষরকে নৈতিকভাবে ভুল ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
কারা রয়েছেন ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে
ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ষাট টি দেশকে আমন্ত্রণ জানালেও ডাভোসে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে স্বাক্ষর করেছে কুড়িটির ও কম দেশ। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই বোর্ডে স্থায়ী সদস্য পদের জন্য বিপুল অর্থমূল্যের শর্তও রয়েছে। আর্জেন্টিনা, মিশর, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এতে যোগ দিয়েছে। ভারত আমন্ত্রণ পেলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















