রংপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে উত্তরাঞ্চলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই হবে তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, তিস্তা নদী পুনরুজ্জীবন ছাড়া উত্তরাঞ্চলের জীবন ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা নদী বাঁচানো মানে উত্তরাঞ্চলের জীবন বাঁচানো। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কে সমর্থন করল আর কে বিরোধিতা করল, তা জামায়াত বিবেচনায় নেবে না। জনগণ দায়িত্ব দিলে উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীতেই প্রথম কোদাল পড়বে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য
তিনি বলেন, জামায়াত একদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। তাদের লক্ষ্য জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা, যেখানে আলেম, দেশপ্রেমিক ও আধিপত্যবিরোধী শক্তিগুলো একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। জামায়াত সবার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, তবে তিনটি শর্তের কথা তুলে ধরেন তিনি। সেগুলো হলো দুর্নীতি করা যাবে না, দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেওয়া যাবে না এবং ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত ও সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অতীত শাসনের সমালোচনা ও নিপীড়নের অভিযোগ
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে জনগণ নিপীড়িত হয়েছে এবং মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তার ভাষায়, দেশে দুর্নীতি, হত্যা, গুম ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহু নেতা-কর্মী এই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকার
নিজ দলকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত কখনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি করেনি, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতিতে জড়ায়নি। তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও প্রতারণামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভোটারদের মিথ্যা আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান।
কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি বিষয়ে পরিকল্পনা
কর্মসংস্থানের প্রশ্নে তিনি বলেন, জামায়াত বেকার ভাতার পক্ষে নয়, কারণ এতে মানুষ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তার বদলে নারী-পুরুষ সবার জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জনগণকে উৎপাদনশীল সম্পদে পরিণত করাই দলের লক্ষ্য। উত্তরাঞ্চলকে দেশের খাদ্যভাণ্ডার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে এই অঞ্চল পিছিয়ে পড়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর করা হবে, বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু করা হবে, প্রয়োজনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে এবং কোনো তরুণকে বেকার থাকতে দেওয়া হবে না।

স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে ঢাকামুখী হয়। জামায়াত সরকার গঠন করলে প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে এবং ঠাকুরগাঁওয়েও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ঐক্যের আহ্বান
ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতি, বৈষম্য ও কর্তৃত্ববাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীসহ পুরো ১০ দলীয় জোটকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহার, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ ১০ দলীয় জোটের নেতারা এবং ছয়টি আসনের জামায়াত প্রার্থীরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















