০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
গণতন্ত্রের মুখোশে সাংবাদিক দমন, বাড়ছে দুর্নীতির অন্ধকার সহায়তা প্রাপ্ত মৃত্যুর পথে আমেরিকার বড় মোড়, এক তৃতীয়াংশ মানুষের সামনে নতুন আইন ইরানের ক্ষমতার কাঠামো ভাঙার প্রশ্নে নতুন সমীকরণ, পরিবর্তনের পথে গণভোটের আহ্বান নতুন একক গানে আরও ব্যক্তিগত পথে নিক জোনাস চিকিৎসার খোঁজে চীনে বিদেশিদের ঢল, কম খরচে দ্রুত সেবায় বাড়ছে মেডিকেল পর্যটন বিজ্ঞান বাজেটে কংগ্রেসের প্রতিরোধ, ট্রাম্পের কাটছাঁট পরিকল্পনায় ধাক্কা কলম্বিয়ার সাবেক সেনাদের বিদেশযুদ্ধে টান, ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অস্থির ভবিষ্যৎ চীনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য ‘শেনলং’ মহাকাশযানের চতুর্থ মিশন কক্ষপথে মাগুরায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য নিহত ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, জানিয়েছে সেনাবাহিনী

শুভলক্ষ্মীর পোকা থেকে বিরক্তিকর পেস্ট—ইমেজ সংকটে লেডিবাগ

উপকারী পোকা নাকি বাড়ির ঝামেলা
বছরের পর বছর ধরে বাগানের বন্ধু আর ভাগ্যবান পোকা হিসেবে পরিচিত ছিল লেডিবাগ বা লেডিবার্ড। শিশুদের গল্পের বই, খেলনা, বাগানের সাজ—সব জায়গায়ই লাল-কালো ফোঁটার এই ছোট পোকা জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এখন এদের ঘিরে শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত ‘ব্র্যান্ড সংকট’। কিছু প্রজাতি ঝাঁকে ঝাঁকে ঘরে ঢুকে পড়ছে, দেয়াল নোংরা করছে, এমনকি হালকা কামড়ও দিচ্ছে—ফলে অনেকের চোখে লেডিবাগ এখন উপকারী থেকে বেশি বিরক্তিকর।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, লেডিবাগ মূলত এফিডসহ ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসল ও গাছপালা রক্ষা করে। কিন্তু গত কয়েক দশকে কীটনাশকমুক্ত কৃষির স্বার্থে এশিয়ান লেডি বিটলসহ কিছু বহিরাগত প্রজাতি আনা হয়েছিল, যা উষ্ণতর শীতের সুযোগে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শরৎ ও শীতের শুরুতে এই পোকাগুলো জানালা, দরজা ও ছাদের ফাঁক গলে ঘরে ঢুকে পড়ে; ঘন হয়ে ছাদ, পর্দা আর দেয়ালে বসে থাকে। চাপে বা পিষে গেলে ওদের শরীর থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধ আর হলদেটে দাগ নিয়ে বাড়ির মালিকদের অভিযোগের শেষ নেই।

পরিবেশ, পেস্ট কন্ট্রোল ও স্মৃতির টান
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, সব লেডিবাগ এক নয়। দেশীয় অনেক প্রজাতি এখনও বাগান ও কৃষিজমিতে গুরুত্বপূর্ণ উপকারী পোকা হিসেবে কাজ করছে; মূল সমস্যার কারণ বহিরাগত কিছু প্রজাতি, যারা সংখ্যায় বেশি এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করে। কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে এই পার্থক্য ধরা কঠিন। ফলে ছোটবেলায় ভালো লাগা ‘শুভ পোকা’ হঠাৎই ঘরের দেয়ালে দল বেঁধে হাজির হওয়ায় বিরক্তি তৈরি হচ্ছে। খেলনা, শিশুদের পোশাক বা বাগানসাজে লেডিবাগ ডিজাইন ব্যবহার করা কোম্পানিগুলোকেও এখন ক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এখানে কাজ করছে। তুলনামূলক উষ্ণ শীত, দীর্ঘতর গ্রীষ্ম আর বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন মিলিয়ে নতুন নতুন এলাকায় এশিয়ান লেডি বিটলসহ বিভিন্ন প্রজাতি পৌঁছে যাচ্ছে। অনেক বাড়ির মালিক এই পোকা তাড়াতে প্রচুর রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করছেন, যা আবার উপকারী দেশীয় পোকামাকড়কেও মেরে ফেলছে এবং পরোক্ষভাবে অন্য পেস্টের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—ঘরের ফাঁকফোকর ভালোভাবে সিল করে, মৌসুমি ঝাঁক ওঠার সময়ে টার্গেটেড ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং করে, অপ্রয়োজনে বিষাক্ত স্প্রে না ব্যবহার করাই ভালো।

পরিবেশ শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ‘লেডিবাগ বিতর্ক’কে ব্যবহার করছে একটি শিক্ষামূলক উদাহরণ হিসেবে। তারা বলছেন, কোনো পরিচিত প্রতীকের মানে সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে—প্রকৃতির ভারসাম্যও বদলায়। তাই অন্ধভাবে সব লাল-কালো পোকাকে খারাপ বলার বদলে, invasive প্রজাতি চিহ্নিত করা, দেশীয় উপকারী পোকাগুলো রক্ষা করা এবং রাসায়নিকের ওপর কম নির্ভরশীল বাগান সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাহলে হয়তো আবারও বইয়ের পাতায় আর বাগানের পাতায় শুভলক্ষ্মীর পোকা হিসেবে লেডিবাগের পুরোনো ইমেজ ফিরে আসবে—যদিও শোবার ঘরের দেয়ালে ঝাঁক বেঁধে বসা সেই কাজটা বন্ধ করতেই হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্রের মুখোশে সাংবাদিক দমন, বাড়ছে দুর্নীতির অন্ধকার

শুভলক্ষ্মীর পোকা থেকে বিরক্তিকর পেস্ট—ইমেজ সংকটে লেডিবাগ

০২:৩০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

উপকারী পোকা নাকি বাড়ির ঝামেলা
বছরের পর বছর ধরে বাগানের বন্ধু আর ভাগ্যবান পোকা হিসেবে পরিচিত ছিল লেডিবাগ বা লেডিবার্ড। শিশুদের গল্পের বই, খেলনা, বাগানের সাজ—সব জায়গায়ই লাল-কালো ফোঁটার এই ছোট পোকা জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এখন এদের ঘিরে শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত ‘ব্র্যান্ড সংকট’। কিছু প্রজাতি ঝাঁকে ঝাঁকে ঘরে ঢুকে পড়ছে, দেয়াল নোংরা করছে, এমনকি হালকা কামড়ও দিচ্ছে—ফলে অনেকের চোখে লেডিবাগ এখন উপকারী থেকে বেশি বিরক্তিকর।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, লেডিবাগ মূলত এফিডসহ ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসল ও গাছপালা রক্ষা করে। কিন্তু গত কয়েক দশকে কীটনাশকমুক্ত কৃষির স্বার্থে এশিয়ান লেডি বিটলসহ কিছু বহিরাগত প্রজাতি আনা হয়েছিল, যা উষ্ণতর শীতের সুযোগে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শরৎ ও শীতের শুরুতে এই পোকাগুলো জানালা, দরজা ও ছাদের ফাঁক গলে ঘরে ঢুকে পড়ে; ঘন হয়ে ছাদ, পর্দা আর দেয়ালে বসে থাকে। চাপে বা পিষে গেলে ওদের শরীর থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধ আর হলদেটে দাগ নিয়ে বাড়ির মালিকদের অভিযোগের শেষ নেই।

পরিবেশ, পেস্ট কন্ট্রোল ও স্মৃতির টান
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, সব লেডিবাগ এক নয়। দেশীয় অনেক প্রজাতি এখনও বাগান ও কৃষিজমিতে গুরুত্বপূর্ণ উপকারী পোকা হিসেবে কাজ করছে; মূল সমস্যার কারণ বহিরাগত কিছু প্রজাতি, যারা সংখ্যায় বেশি এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করে। কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে এই পার্থক্য ধরা কঠিন। ফলে ছোটবেলায় ভালো লাগা ‘শুভ পোকা’ হঠাৎই ঘরের দেয়ালে দল বেঁধে হাজির হওয়ায় বিরক্তি তৈরি হচ্ছে। খেলনা, শিশুদের পোশাক বা বাগানসাজে লেডিবাগ ডিজাইন ব্যবহার করা কোম্পানিগুলোকেও এখন ক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এখানে কাজ করছে। তুলনামূলক উষ্ণ শীত, দীর্ঘতর গ্রীষ্ম আর বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন মিলিয়ে নতুন নতুন এলাকায় এশিয়ান লেডি বিটলসহ বিভিন্ন প্রজাতি পৌঁছে যাচ্ছে। অনেক বাড়ির মালিক এই পোকা তাড়াতে প্রচুর রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করছেন, যা আবার উপকারী দেশীয় পোকামাকড়কেও মেরে ফেলছে এবং পরোক্ষভাবে অন্য পেস্টের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—ঘরের ফাঁকফোকর ভালোভাবে সিল করে, মৌসুমি ঝাঁক ওঠার সময়ে টার্গেটেড ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং করে, অপ্রয়োজনে বিষাক্ত স্প্রে না ব্যবহার করাই ভালো।

পরিবেশ শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ‘লেডিবাগ বিতর্ক’কে ব্যবহার করছে একটি শিক্ষামূলক উদাহরণ হিসেবে। তারা বলছেন, কোনো পরিচিত প্রতীকের মানে সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে—প্রকৃতির ভারসাম্যও বদলায়। তাই অন্ধভাবে সব লাল-কালো পোকাকে খারাপ বলার বদলে, invasive প্রজাতি চিহ্নিত করা, দেশীয় উপকারী পোকাগুলো রক্ষা করা এবং রাসায়নিকের ওপর কম নির্ভরশীল বাগান সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাহলে হয়তো আবারও বইয়ের পাতায় আর বাগানের পাতায় শুভলক্ষ্মীর পোকা হিসেবে লেডিবাগের পুরোনো ইমেজ ফিরে আসবে—যদিও শোবার ঘরের দেয়ালে ঝাঁক বেঁধে বসা সেই কাজটা বন্ধ করতেই হবে।