০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে এক দশকের অপহরণ আকাশপথে সন্ত্রাস থেকে আদর্শিক সহিংসতার উত্তরাধিকার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে টালমাটাল মুহূর্ত পেরিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে মাদিসন কিস ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায় শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শেষ দিনে মিশ্র চিত্র; ডিএসইতে পতন, সিএসইতে উত্থান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন জামায়াতের আমির সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৯ ব্যাংকিং খাত সংস্কার রাতারাতি সম্ভব নয়: সালেহউদ্দিন

কোপ৩০–এর দুর্বল সমঝোতা: জলবায়ু লড়াই এখন কোন পথে

উন্নয়ন-অপূর্ণ সমঝোতা নিয়ে বৈশ্বিক হতাশা
ব্রাজিলের আমাজন শহর বেলেমে শেষ হওয়া কোপ৩০ জলবায়ু সম্মেলন অনেকটাই অপূর্ণতার অনুভূতি রেখে গেছে। শেষ ঘোষণাপত্রে নতুন কিছু তহবিল, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বন সংরক্ষণ উদ্যোগের অঙ্গীকার এসেছে, কিন্তু বহু দেশের দাবির পরও জীবাশ্ম জ্বালানি ধাপে ধাপে বন্ধের স্পষ্ট রোডম্যাপ যুক্ত হয়নি। তার বদলে এমন নরম ভাষা রাখা হয়েছে, যা বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদক দেশগুলোকে নিজেদের ব্যবসা প্রায় আগের মতই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও জলবায়ু কর্মীদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে।

তবু পরিবেশ কূটনীতিকদের একটি অংশ মনে করেন, প্রক্রিয়াটি একেবারে ভেঙে পড়েনি। সম্মেলনের সিদ্ধান্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অভিযোজন প্রকল্প ও বন রক্ষায় নতুন বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে; তৈরি হয়েছে বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে একটি নতুন গ্লোবাল ‘অ্যাক্সিলারেটর’–এর কাঠামো। এসব পদক্ষেপ মাঠপর্যায়ে গ্রিড, সঞ্চয়ন প্রযুক্তি ও সহনশীল অবকাঠামো গড়ার মাধ্যমে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। তবে শঙ্কা রয়েছে—স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ও নরম ভাষার আড়ালে যদি নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প চলতেই থাকে, তাহলে উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বড় ফাঁক থেকেই যাবে।

জাতীয় পরিকল্পনা, তহবিল ও স্থানীয় উদ্যোগের নতুন ভারসাম্য
এখন দৃষ্টি গেছে জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা বা এনডিসি–র দিকে। প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী আগামী সম্মেলনের আগেই দেশগুলোকে নতুন লক্ষ্যমাত্রা জমা দিতে হবে, যা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতসহ বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর ওপর এখন চাপ আরও বেড়েছে—তারা ঠিক কীভাবে আগামী দশকে কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমাবে, তা স্পষ্ট করে দেখাতে হবে। আয়োজক দেশ ব্রাজিল জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ ও বন উজাড় ঠেকাতে স্বেচ্ছাসেবী রোডম্যাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে, যা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও বিনিয়োগকারী ও আদালতের কাছে নতুন মানদণ্ড গড়তে পারে।

একই সঙ্গে তহবিলের প্রশ্নও বড় হয়ে উঠছে। ধনী দেশগুলো জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য নতুন অর্থ সহায়তার কথা বললেও, অনেক প্রতিশ্রুতির উৎস ও সময়সীমা এখনো অস্পষ্ট। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো বলছে, নির্ভরযোগ্য অর্থ না পেলে তারা বাধ্য হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার চালিয়ে যাবে এবং ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তাপদাহে ক্ষতি আরও বাড়বে। এই প্রেক্ষাপটে শহর প্রশাসন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় কমিউনিটি কূটনীতির অপেক্ষা না করে মাঠেই কাজ শুরু করেছে—লাতিন আমেরিকার শহরে হিট-অ্যাকশন পরিকল্পনা, আমাজনে কমিউনিটি টহল ও বন রক্ষার উদ্যোগ তার উদাহরণ। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, আগামী কয়েক বছরেই প্রমাণ হয়ে যাবে এই যৌথ চাপ ও স্থানীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মিশ্র পথ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির গতি যথেষ্ট কমাতে পারে কিনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ

কোপ৩০–এর দুর্বল সমঝোতা: জলবায়ু লড়াই এখন কোন পথে

০৬:২৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

উন্নয়ন-অপূর্ণ সমঝোতা নিয়ে বৈশ্বিক হতাশা
ব্রাজিলের আমাজন শহর বেলেমে শেষ হওয়া কোপ৩০ জলবায়ু সম্মেলন অনেকটাই অপূর্ণতার অনুভূতি রেখে গেছে। শেষ ঘোষণাপত্রে নতুন কিছু তহবিল, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বন সংরক্ষণ উদ্যোগের অঙ্গীকার এসেছে, কিন্তু বহু দেশের দাবির পরও জীবাশ্ম জ্বালানি ধাপে ধাপে বন্ধের স্পষ্ট রোডম্যাপ যুক্ত হয়নি। তার বদলে এমন নরম ভাষা রাখা হয়েছে, যা বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদক দেশগুলোকে নিজেদের ব্যবসা প্রায় আগের মতই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও জলবায়ু কর্মীদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে।

তবু পরিবেশ কূটনীতিকদের একটি অংশ মনে করেন, প্রক্রিয়াটি একেবারে ভেঙে পড়েনি। সম্মেলনের সিদ্ধান্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অভিযোজন প্রকল্প ও বন রক্ষায় নতুন বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে; তৈরি হয়েছে বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে একটি নতুন গ্লোবাল ‘অ্যাক্সিলারেটর’–এর কাঠামো। এসব পদক্ষেপ মাঠপর্যায়ে গ্রিড, সঞ্চয়ন প্রযুক্তি ও সহনশীল অবকাঠামো গড়ার মাধ্যমে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। তবে শঙ্কা রয়েছে—স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ও নরম ভাষার আড়ালে যদি নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প চলতেই থাকে, তাহলে উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বড় ফাঁক থেকেই যাবে।

জাতীয় পরিকল্পনা, তহবিল ও স্থানীয় উদ্যোগের নতুন ভারসাম্য
এখন দৃষ্টি গেছে জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা বা এনডিসি–র দিকে। প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী আগামী সম্মেলনের আগেই দেশগুলোকে নতুন লক্ষ্যমাত্রা জমা দিতে হবে, যা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতসহ বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর ওপর এখন চাপ আরও বেড়েছে—তারা ঠিক কীভাবে আগামী দশকে কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমাবে, তা স্পষ্ট করে দেখাতে হবে। আয়োজক দেশ ব্রাজিল জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ ও বন উজাড় ঠেকাতে স্বেচ্ছাসেবী রোডম্যাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে, যা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও বিনিয়োগকারী ও আদালতের কাছে নতুন মানদণ্ড গড়তে পারে।

একই সঙ্গে তহবিলের প্রশ্নও বড় হয়ে উঠছে। ধনী দেশগুলো জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য নতুন অর্থ সহায়তার কথা বললেও, অনেক প্রতিশ্রুতির উৎস ও সময়সীমা এখনো অস্পষ্ট। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো বলছে, নির্ভরযোগ্য অর্থ না পেলে তারা বাধ্য হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার চালিয়ে যাবে এবং ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তাপদাহে ক্ষতি আরও বাড়বে। এই প্রেক্ষাপটে শহর প্রশাসন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় কমিউনিটি কূটনীতির অপেক্ষা না করে মাঠেই কাজ শুরু করেছে—লাতিন আমেরিকার শহরে হিট-অ্যাকশন পরিকল্পনা, আমাজনে কমিউনিটি টহল ও বন রক্ষার উদ্যোগ তার উদাহরণ। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, আগামী কয়েক বছরেই প্রমাণ হয়ে যাবে এই যৌথ চাপ ও স্থানীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মিশ্র পথ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির গতি যথেষ্ট কমাতে পারে কিনা।