০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে এক দশকের অপহরণ আকাশপথে সন্ত্রাস থেকে আদর্শিক সহিংসতার উত্তরাধিকার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে টালমাটাল মুহূর্ত পেরিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে মাদিসন কিস ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায় শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শেষ দিনে মিশ্র চিত্র; ডিএসইতে পতন, সিএসইতে উত্থান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন জামায়াতের আমির সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৯ ব্যাংকিং খাত সংস্কার রাতারাতি সম্ভব নয়: সালেহউদ্দিন

ভারতের নতুন শ্রম আইন নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ট্রেড ইউনিয়নগুলো

শ্রমিক অধিকারের ‘প্রতারণা’ অভিযোগে রাস্তায় ইউনিয়নগুলো

ভারতের নতুন শ্রম কোড কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে বৃহৎ বিক্ষোভে নেমেছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাইসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা পতাকা ও ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছে, নতুন আইনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে। ইউনিয়ন নেতারা বলছেন, মজুরি, শিল্প-সম্পর্ক, সামাজিক নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসংক্রান্ত একাধিক পুরোনো আইনকে সমন্বয় করে আনা চারটি শ্রম কোড বাস্তবে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি আর সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে দুর্বল করছে। তারা অভিযোগ করেন, নতুন কাঠামোর ফলে নিয়োগকর্তারা সহজে শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারবে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়বে, আর স্থায়ী চাকরি ক্রমে কমে যাবে।

ইউনিয়নগুলোর দাবি, করপোরেট ও বড় শিল্পগোষ্ঠীর চাপেই সরকার এই পরিবর্তন এনেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে কারখানা গেট, পরিবহন টার্মিনাল, সরকারি দপ্তর ও শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ হয়েছে। সংগঠকরা জানান, কয়েক মিলিয়ন শ্রমিক এই আন্দোলনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। পুরোনো আইনগুলোতে যে সব সুরক্ষা ছিল, নতুন কাঠামো সেই সব ধারা শিথিল করেছে বলে তাদের অভিযোগ। ধীরে ধীরে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা জাতীয় কর্মবিরতি, শিল্পভিত্তিক ধর্মঘট ও দিল্লিমুখী ‘লং মার্চ’-এর মতো পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সরকারের ‘আধুনিকীকরণ’ যুক্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব

মোদি সরকার বলছে, নতুন শ্রম কোড ভারতের পুরোনো ও জটিল আইনি কাঠামোকে আধুনিক করেছে, ব্যবসা পরিচালনার ঝামেলা কমিয়েছে এবং এক ছাতার নিচে আনার ফলে প্রয়োগ আরও সহজ হবে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা জটিল নীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধায় ছিল, ফলে নতুন আইন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াবে, আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতা আরও বাড়বে। বিনিয়োগপন্থী মহলও বিষয়টিকে ‘বিজনেস–ফ্রেন্ডলি’ সংস্কার হিসেবে দেখছে।

কিন্তু ইউনিয়নগুলো বলছে, বাস্তবে শ্রমিকের দৈনন্দিন জীবনে যে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে, সরকার তার কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারছে না। তারা উল্লেখ করছে, নতুন আইন অনুযায়ী বড় প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমতির বাধ্যবাধকতা কমেছে, ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার বাধ্যবাধকতাও নরম হয়েছে। এর ফলে দর-কষাকষির ক্ষমতা কমবে, বিশেষ করে অনিরাপদ খাতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকি বাড়বে। বিরোধী দলগুলোও এই ইস্যুতে সরকারবিরোধী অবস্থান নিতে শুরু করেছে, যা আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শ্রমবাজারের এই দ্বন্দ্ব ভারতের ‘উন্নয়ন’ কাকে কতটা সুবিধা দিচ্ছে—এই বড় রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গেও জুড়ে যাবে। আপাতত ইউনিয়নগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, তারা একদিনের প্রতীকী কর্মসূচি নয়, দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ

ভারতের নতুন শ্রম আইন নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ট্রেড ইউনিয়নগুলো

০৫:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

শ্রমিক অধিকারের ‘প্রতারণা’ অভিযোগে রাস্তায় ইউনিয়নগুলো

ভারতের নতুন শ্রম কোড কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে বৃহৎ বিক্ষোভে নেমেছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাইসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা পতাকা ও ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছে, নতুন আইনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে। ইউনিয়ন নেতারা বলছেন, মজুরি, শিল্প-সম্পর্ক, সামাজিক নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসংক্রান্ত একাধিক পুরোনো আইনকে সমন্বয় করে আনা চারটি শ্রম কোড বাস্তবে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি আর সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে দুর্বল করছে। তারা অভিযোগ করেন, নতুন কাঠামোর ফলে নিয়োগকর্তারা সহজে শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারবে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়বে, আর স্থায়ী চাকরি ক্রমে কমে যাবে।

ইউনিয়নগুলোর দাবি, করপোরেট ও বড় শিল্পগোষ্ঠীর চাপেই সরকার এই পরিবর্তন এনেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে কারখানা গেট, পরিবহন টার্মিনাল, সরকারি দপ্তর ও শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ হয়েছে। সংগঠকরা জানান, কয়েক মিলিয়ন শ্রমিক এই আন্দোলনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। পুরোনো আইনগুলোতে যে সব সুরক্ষা ছিল, নতুন কাঠামো সেই সব ধারা শিথিল করেছে বলে তাদের অভিযোগ। ধীরে ধীরে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা জাতীয় কর্মবিরতি, শিল্পভিত্তিক ধর্মঘট ও দিল্লিমুখী ‘লং মার্চ’-এর মতো পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সরকারের ‘আধুনিকীকরণ’ যুক্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব

মোদি সরকার বলছে, নতুন শ্রম কোড ভারতের পুরোনো ও জটিল আইনি কাঠামোকে আধুনিক করেছে, ব্যবসা পরিচালনার ঝামেলা কমিয়েছে এবং এক ছাতার নিচে আনার ফলে প্রয়োগ আরও সহজ হবে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা জটিল নীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধায় ছিল, ফলে নতুন আইন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াবে, আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতা আরও বাড়বে। বিনিয়োগপন্থী মহলও বিষয়টিকে ‘বিজনেস–ফ্রেন্ডলি’ সংস্কার হিসেবে দেখছে।

কিন্তু ইউনিয়নগুলো বলছে, বাস্তবে শ্রমিকের দৈনন্দিন জীবনে যে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে, সরকার তার কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারছে না। তারা উল্লেখ করছে, নতুন আইন অনুযায়ী বড় প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমতির বাধ্যবাধকতা কমেছে, ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার বাধ্যবাধকতাও নরম হয়েছে। এর ফলে দর-কষাকষির ক্ষমতা কমবে, বিশেষ করে অনিরাপদ খাতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকি বাড়বে। বিরোধী দলগুলোও এই ইস্যুতে সরকারবিরোধী অবস্থান নিতে শুরু করেছে, যা আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শ্রমবাজারের এই দ্বন্দ্ব ভারতের ‘উন্নয়ন’ কাকে কতটা সুবিধা দিচ্ছে—এই বড় রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গেও জুড়ে যাবে। আপাতত ইউনিয়নগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, তারা একদিনের প্রতীকী কর্মসূচি নয়, দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে আছে।