০২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি তাইওয়ানের বৃহৎ যুদ্ধমহড়া শুরু, যুদ্ধক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নতুন কৌশলের পরীক্ষা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইউরোপযাত্রা: স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় দেশীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্ন জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ   

ভারতের নতুন শ্রম আইন নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ট্রেড ইউনিয়নগুলো

শ্রমিক অধিকারের ‘প্রতারণা’ অভিযোগে রাস্তায় ইউনিয়নগুলো

ভারতের নতুন শ্রম কোড কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে বৃহৎ বিক্ষোভে নেমেছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাইসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা পতাকা ও ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছে, নতুন আইনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে। ইউনিয়ন নেতারা বলছেন, মজুরি, শিল্প-সম্পর্ক, সামাজিক নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসংক্রান্ত একাধিক পুরোনো আইনকে সমন্বয় করে আনা চারটি শ্রম কোড বাস্তবে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি আর সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে দুর্বল করছে। তারা অভিযোগ করেন, নতুন কাঠামোর ফলে নিয়োগকর্তারা সহজে শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারবে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়বে, আর স্থায়ী চাকরি ক্রমে কমে যাবে।

ইউনিয়নগুলোর দাবি, করপোরেট ও বড় শিল্পগোষ্ঠীর চাপেই সরকার এই পরিবর্তন এনেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে কারখানা গেট, পরিবহন টার্মিনাল, সরকারি দপ্তর ও শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ হয়েছে। সংগঠকরা জানান, কয়েক মিলিয়ন শ্রমিক এই আন্দোলনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। পুরোনো আইনগুলোতে যে সব সুরক্ষা ছিল, নতুন কাঠামো সেই সব ধারা শিথিল করেছে বলে তাদের অভিযোগ। ধীরে ধীরে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা জাতীয় কর্মবিরতি, শিল্পভিত্তিক ধর্মঘট ও দিল্লিমুখী ‘লং মার্চ’-এর মতো পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সরকারের ‘আধুনিকীকরণ’ যুক্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব

মোদি সরকার বলছে, নতুন শ্রম কোড ভারতের পুরোনো ও জটিল আইনি কাঠামোকে আধুনিক করেছে, ব্যবসা পরিচালনার ঝামেলা কমিয়েছে এবং এক ছাতার নিচে আনার ফলে প্রয়োগ আরও সহজ হবে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা জটিল নীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধায় ছিল, ফলে নতুন আইন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াবে, আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতা আরও বাড়বে। বিনিয়োগপন্থী মহলও বিষয়টিকে ‘বিজনেস–ফ্রেন্ডলি’ সংস্কার হিসেবে দেখছে।

কিন্তু ইউনিয়নগুলো বলছে, বাস্তবে শ্রমিকের দৈনন্দিন জীবনে যে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে, সরকার তার কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারছে না। তারা উল্লেখ করছে, নতুন আইন অনুযায়ী বড় প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমতির বাধ্যবাধকতা কমেছে, ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার বাধ্যবাধকতাও নরম হয়েছে। এর ফলে দর-কষাকষির ক্ষমতা কমবে, বিশেষ করে অনিরাপদ খাতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকি বাড়বে। বিরোধী দলগুলোও এই ইস্যুতে সরকারবিরোধী অবস্থান নিতে শুরু করেছে, যা আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শ্রমবাজারের এই দ্বন্দ্ব ভারতের ‘উন্নয়ন’ কাকে কতটা সুবিধা দিচ্ছে—এই বড় রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গেও জুড়ে যাবে। আপাতত ইউনিয়নগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, তারা একদিনের প্রতীকী কর্মসূচি নয়, দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি

ভারতের নতুন শ্রম আইন নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ট্রেড ইউনিয়নগুলো

০৫:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

শ্রমিক অধিকারের ‘প্রতারণা’ অভিযোগে রাস্তায় ইউনিয়নগুলো

ভারতের নতুন শ্রম কোড কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে বৃহৎ বিক্ষোভে নেমেছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাইসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা পতাকা ও ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছে, নতুন আইনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে। ইউনিয়ন নেতারা বলছেন, মজুরি, শিল্প-সম্পর্ক, সামাজিক নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসংক্রান্ত একাধিক পুরোনো আইনকে সমন্বয় করে আনা চারটি শ্রম কোড বাস্তবে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি আর সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে দুর্বল করছে। তারা অভিযোগ করেন, নতুন কাঠামোর ফলে নিয়োগকর্তারা সহজে শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারবে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়বে, আর স্থায়ী চাকরি ক্রমে কমে যাবে।

ইউনিয়নগুলোর দাবি, করপোরেট ও বড় শিল্পগোষ্ঠীর চাপেই সরকার এই পরিবর্তন এনেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে কারখানা গেট, পরিবহন টার্মিনাল, সরকারি দপ্তর ও শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ হয়েছে। সংগঠকরা জানান, কয়েক মিলিয়ন শ্রমিক এই আন্দোলনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। পুরোনো আইনগুলোতে যে সব সুরক্ষা ছিল, নতুন কাঠামো সেই সব ধারা শিথিল করেছে বলে তাদের অভিযোগ। ধীরে ধীরে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা জাতীয় কর্মবিরতি, শিল্পভিত্তিক ধর্মঘট ও দিল্লিমুখী ‘লং মার্চ’-এর মতো পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সরকারের ‘আধুনিকীকরণ’ যুক্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব

মোদি সরকার বলছে, নতুন শ্রম কোড ভারতের পুরোনো ও জটিল আইনি কাঠামোকে আধুনিক করেছে, ব্যবসা পরিচালনার ঝামেলা কমিয়েছে এবং এক ছাতার নিচে আনার ফলে প্রয়োগ আরও সহজ হবে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা জটিল নীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধায় ছিল, ফলে নতুন আইন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াবে, আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতা আরও বাড়বে। বিনিয়োগপন্থী মহলও বিষয়টিকে ‘বিজনেস–ফ্রেন্ডলি’ সংস্কার হিসেবে দেখছে।

কিন্তু ইউনিয়নগুলো বলছে, বাস্তবে শ্রমিকের দৈনন্দিন জীবনে যে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে, সরকার তার কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারছে না। তারা উল্লেখ করছে, নতুন আইন অনুযায়ী বড় প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমতির বাধ্যবাধকতা কমেছে, ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার বাধ্যবাধকতাও নরম হয়েছে। এর ফলে দর-কষাকষির ক্ষমতা কমবে, বিশেষ করে অনিরাপদ খাতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকি বাড়বে। বিরোধী দলগুলোও এই ইস্যুতে সরকারবিরোধী অবস্থান নিতে শুরু করেছে, যা আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শ্রমবাজারের এই দ্বন্দ্ব ভারতের ‘উন্নয়ন’ কাকে কতটা সুবিধা দিচ্ছে—এই বড় রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গেও জুড়ে যাবে। আপাতত ইউনিয়নগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, তারা একদিনের প্রতীকী কর্মসূচি নয়, দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে আছে।