০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি লাজুক জুঁই

তেলের উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিল প্রশ্নের মুখোমুখি ওপেক+

ওপেক+ জোট আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে, আর সেই পুরোনো প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে—সদস্য দেশগুলো বাস্তবে কতটা তেল উৎপাদন করতে পারে? কাগজে-কলমে নয়, বরং স্থায়ী ও ধারাবাহিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষমতা কত? দীর্ঘদিন এ প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া হলেও এবার বিষয়টি কেন্দ্রবিন্দুতে এনে সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে জোটটি।

সদস্যদের প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ

এই বছরের মে মাসে ওপেক+ প্রতিটি দেশের ‘সর্বোচ্চ টেকসই উৎপাদন ক্ষমতা’ পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেয়। অর্থাৎ একটি দেশ ক্ষতি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কতটা তেল তুলতে পারে—তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। অনেক সদস্য দেশ এই বছর নির্ধারিত উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় তাদের প্রকৃত ক্ষমতা দাবি করা সংখ্যার চেয়ে কম হতে পারে। এই অসঙ্গতি নানা প্রশ্ন তোলে—তারা কি সত্যিই উৎপাদন কমাচ্ছে, নাকি ক্ষমতার অভাবে লক্ষ্য পূরণ করতে পারছে না? ক্ষমতা স্পষ্ট হলে ২০২৭ সালের কোটাও বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করা যাবে, এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত আরও গ্রহণযোগ্য হবে।

সংবেদনশীল সময়

এই পর্যালোচনার সময়ে বৈশ্বিক তেলবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু চাহিদা বাড়েনি। মজুত বাড়ছে। দাম স্থির হয়েছে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬০ ডলারে—যা অনেক তেলনির্ভর অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। জেপি মর্গানের বিশ্লেষকদের মতে, দাম ৪০ ডলারের ঘরে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে ২০২৬ সালে ওপেক+ এর নতুন করে উৎপাদন কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।

ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক

তবে ক্ষমতা পর্যালোচনাই এখন বড় বিতর্কের বিষয়। কেউ কেউ ভবিষ্যতের বড় কোটার আশায় নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতার হিসাব বাড়িয়ে দেখাতে চাইছে। আবার কিছু দেশ বাস্তবতা স্বীকার করতে চাইছে না—পুরোনো ক্ষেত্র, বিনিয়োগের ঘাটতি কিংবা রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের আগের দাবি আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। গত বছর এমন পরিস্থিতিই অ্যাঙ্গোলাকে ওপেক ছাড়তে বাধ্য করেছিল।

বিভিন্ন দেশের ভিন্ন বাস্তবতা

সৌদি আরব এখনও জোটের মূল শক্তি এবং প্রয়োজনে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বিগত বছরগুলোতে বিশাল বিনিয়োগ করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং সেই স্বীকৃতি চাইছে। ইরাকও উচ্চতর ক্ষমতা চায়, কিন্তু কাঠামোগত সমস্যা ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রাশিয়ার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত—নিষেধাজ্ঞা ও পরিবহন জটিলতা তাদের উৎপাদন বাড়াতে বাধা দিচ্ছে।

স্বচ্ছতার জন্য বাইরের সংস্থার সহায়তা

ক্ষমতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা আনতে ওপেক+ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করেছে। পূর্বে এ মূল্যায়ন করেছে উড ম্যাকেঞ্জি এবং আইএইচএস, যা বর্তমানে এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের অংশ।

#ওপেক+ #তেলবাজার  #বৈশ্বিক অর্থনীতি # জ্বালানি নীতি

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ

তেলের উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিল প্রশ্নের মুখোমুখি ওপেক+

০৪:২৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

ওপেক+ জোট আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে, আর সেই পুরোনো প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে—সদস্য দেশগুলো বাস্তবে কতটা তেল উৎপাদন করতে পারে? কাগজে-কলমে নয়, বরং স্থায়ী ও ধারাবাহিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষমতা কত? দীর্ঘদিন এ প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া হলেও এবার বিষয়টি কেন্দ্রবিন্দুতে এনে সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে জোটটি।

সদস্যদের প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ

এই বছরের মে মাসে ওপেক+ প্রতিটি দেশের ‘সর্বোচ্চ টেকসই উৎপাদন ক্ষমতা’ পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেয়। অর্থাৎ একটি দেশ ক্ষতি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কতটা তেল তুলতে পারে—তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। অনেক সদস্য দেশ এই বছর নির্ধারিত উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় তাদের প্রকৃত ক্ষমতা দাবি করা সংখ্যার চেয়ে কম হতে পারে। এই অসঙ্গতি নানা প্রশ্ন তোলে—তারা কি সত্যিই উৎপাদন কমাচ্ছে, নাকি ক্ষমতার অভাবে লক্ষ্য পূরণ করতে পারছে না? ক্ষমতা স্পষ্ট হলে ২০২৭ সালের কোটাও বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করা যাবে, এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত আরও গ্রহণযোগ্য হবে।

সংবেদনশীল সময়

এই পর্যালোচনার সময়ে বৈশ্বিক তেলবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু চাহিদা বাড়েনি। মজুত বাড়ছে। দাম স্থির হয়েছে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬০ ডলারে—যা অনেক তেলনির্ভর অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। জেপি মর্গানের বিশ্লেষকদের মতে, দাম ৪০ ডলারের ঘরে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে ২০২৬ সালে ওপেক+ এর নতুন করে উৎপাদন কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।

ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক

তবে ক্ষমতা পর্যালোচনাই এখন বড় বিতর্কের বিষয়। কেউ কেউ ভবিষ্যতের বড় কোটার আশায় নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতার হিসাব বাড়িয়ে দেখাতে চাইছে। আবার কিছু দেশ বাস্তবতা স্বীকার করতে চাইছে না—পুরোনো ক্ষেত্র, বিনিয়োগের ঘাটতি কিংবা রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের আগের দাবি আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। গত বছর এমন পরিস্থিতিই অ্যাঙ্গোলাকে ওপেক ছাড়তে বাধ্য করেছিল।

বিভিন্ন দেশের ভিন্ন বাস্তবতা

সৌদি আরব এখনও জোটের মূল শক্তি এবং প্রয়োজনে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বিগত বছরগুলোতে বিশাল বিনিয়োগ করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং সেই স্বীকৃতি চাইছে। ইরাকও উচ্চতর ক্ষমতা চায়, কিন্তু কাঠামোগত সমস্যা ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রাশিয়ার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত—নিষেধাজ্ঞা ও পরিবহন জটিলতা তাদের উৎপাদন বাড়াতে বাধা দিচ্ছে।

স্বচ্ছতার জন্য বাইরের সংস্থার সহায়তা

ক্ষমতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা আনতে ওপেক+ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করেছে। পূর্বে এ মূল্যায়ন করেছে উড ম্যাকেঞ্জি এবং আইএইচএস, যা বর্তমানে এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের অংশ।

#ওপেক+ #তেলবাজার  #বৈশ্বিক অর্থনীতি # জ্বালানি নীতি