স্ট্যানফোর্ড স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা সাম্প্রতিক এক প্রাণী পরীক্ষায় এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতির সাফল্য দেখিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে টাইপ–১ ডায়াবেটিসের কার্যকর নিরাময়ের পথ খুলে দিতে পারে। ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, রোগীর প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং নতুন ইনসুলিন–উৎপাদনকারী কোষ তৈরি করে ১০০% ক্ষেত্রে রোগ সারানো সম্ভব হয়েছে।
গবেষণার লক্ষ্য ও প্রক্রিয়া
১৯টি প্রি–ডায়াবেটিক ইঁদুরকে প্রথমে একটি নিরাপদ, অ–বিষাক্ত ‘কন্ডিশনিং’ চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে অল্প মাত্রার রেডিয়েশন এবং বিশেষ অ্যান্টিবডি ব্যবহার করা হয়, যা টি–সেল নামে পরিচিত কিছু প্রতিরোধ কোষ কমিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কম প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলে।
এর লক্ষ্য ছিল:
ইঁদুরদের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এমনভাবে স্থিতিশীল করা, যাতে গবেষকরা নতুন থেরাপির কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে পরীক্ষা করতে পারেন।

স্টেম সেল ও আইলেট সেল প্রতিস্থাপন
পরবর্তী ধাপে ইঁদুরগুলোকে দেওয়া হয় অন্য ইঁদুরের অস্থিমজ্জা থেকে নেওয়া স্টেম সেল এবং দাতার ইনসুলিন–উৎপাদনকারী আইলেট কোষ। এতে তৈরি হয় এক ধরনের ‘মিক্সড কাইমেরিজম’ — অর্থাৎ, ইঁদুরের দেহে তার নিজের কোষের পাশাপাশি দাতার ইমিউন কোষও কাজ করে।
গবেষণা অনুযায়ী, এই পদ্ধতি সবগুলো প্রি–ডায়াবেটিক ইঁদুরকে ডায়াবেটিস থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেয়।
দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিক ইঁদুরও সুস্থ
গবেষকেরা আরও দেখেন, দীর্ঘদিন ধরে টাইপ–১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নয়টি ইঁদুরকেও একই পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ সুস্থ করা সম্ভব হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই চিকিৎসায় কোনো বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা প্রতিরোধ ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি দেখা যায়নি।

টাইপ–১ ডায়াবেটিস কীভাবে হয়
গবেষকেরা ব্যাখ্যা করেন, টাইপ–১ ডায়াবেটিস তখনই ঘটে, যখন দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন–উৎপাদনকারী আইলেট কোষ ধ্বংস করে ফেলে। নতুন পদ্ধতিটি এই ধ্বংসপ্রক্রিয়া থামিয়ে ইনসুলিন উৎপাদনের পরিবেশ পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
মানুষে প্রয়োগের সম্ভাবনা
যদিও গবেষণা এখনো ইঁদুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এতে রেডিয়েশনের মতো উপাদান রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ মানব–গবেষণায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিজ্ঞানীরা আশাবাদী।
তাদের মতে, এই পদ্ধতি শুধু ডায়াবেটিস নয়, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাসসহ বিভিন্ন অটোইমিউন রোগ এবং সিকল সেল অ্যানিমিয়ার মতো নন–ক্যানসার রক্তরোগের চিকিৎসায়ও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষকের মন্তব্য
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিউং কে. কিম জানান,
“গবেষণায় ব্যবহৃত দুই পক্ষের কোষ নিয়ে তৈরি হাইব্রিড ইমিউন সিস্টেম তৈরির যে মূল ধাপগুলো ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো ইতোমধ্যেই অন্য কিছু রোগের চিকিৎসায় মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, টাইপ–১ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অটোইমিউন রোগে এই পদ্ধতি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
ফক্স নিউজের সিনিয়র মেডিকেল বিশ্লেষক ড. মার্ক সিগেল বলেন,
“এটি এখনো প্রাথমিক গবেষণা হলেও মানবদেহে প্রয়োগযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিটি রোগীর অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া আলাদা — তাই জেনেটিক বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ব্যক্তিভিত্তিক সমাধান তৈরি করতে হবে। এটি ‘একই চিকিৎসা সবার জন্য’ ধরনের পদ্ধতি নয়।”
#টাইপ–১ ডায়াবেটিস # স্টেম সেল থেরাপি #চিকিৎসা বিজ্ঞান #স্ট্যানফোর্ড গবেষণা #স্বাস্থ্য খবর
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















