০৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
আমেরিকায় লেফটোভার বিপ্লব: মুদ্রাস্ফীতির চাপে রান্নাঘরে ফিরে আসছে সৃজনশীলতা ওয়াশিংটন হত্যাকাণ্ডের পর ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন দমন: ‘রিভার্স মাইগ্রেশন’ এখন প্রশাসনের অগ্রাধিকার ইসরায়েলের সতর্কতা: ইরানের সঙ্গে আরেক দফা যুদ্ধ কি সামনে দাঁড়িয়ে? ইরানের নতুন বার্তা: পরমাণু আলোচনায় ফেরার বিরল সুযোগ এখনই ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে উদ্বেগে অরিগনের উপকূলীয় মাছধরা শহর কাবুলের ইন্টারকনটিনেন্টাল: জাঁকজমক, যুদ্ধ আর মানুষের ভূতের মতো স্মৃতি সামুদ্রিক ফাঁদ টেনে তুলে নিল নেকড়ে: মানুষের রেখে যাওয়া ‘যন্ত্র’ ব্যবহার করে অবাক আচরণ পিপড়ের উপনিবেশে সিংহাসন দখল: ভুয়া রাণীর অভ্যুত্থান হংকংয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৮ জন নিহত: ভবন–নিরাপত্তা, দুর্নীতি এবং সরকারি নজরদারি নিয়ে প্রশ্নের ঝড় সোলার রেডিয়েশনে ত্রুটি—বিশ্বজুড়ে ৬,০০০ এর বেশি Airbus A320 জরুরি মেরামতের তালিকায়

চীনের স্বাস্থ্য খাতে এআই ও টেলিমেডিসিনের নতুন যুগ

চীনের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা একদিকে আধুনিক, অন্যদিকে জটিল সংকটে নিমজ্জিত। বেইজিং ও সাংহাই এর শীর্ষ হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা, দক্ষ চিকিৎসক এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জাম এর উপস্থিতি চীনকে উন্নত মানচিত্র তুলে ধরে। কিন্তু দেশের মোট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মাত্র দশ শতাংশ এই সুবিধা পায়। অপরদিকে দেশের তেত্রিশ হাজারেরও বেশি টাউনশিপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অর্ধেক সাধারণ চিকিৎসকের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি পর্যন্ত নেই। স্বাস্থ্য খাতে চীনের মোট ব্যয় জিডিপির মাত্র সাত শতাংশ, যেখানে ব্রিটেনে তা এগারো শতাংশের কাছাকাছি।

অসুস্থ হলে অধিকাংশ মানুষ বড় শহরের বিশেষজ্ঞদের কাছে ছুটে যায়। এর ফলে বিশাল ভিড়, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অতিরিক্ত চাপের মধ্যে চিকিৎসকদের কাজ করতে হয়। সাধারণ রোগ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ব্যস্ত থাকায় কার্যকর চিকিৎসা-ব্যবস্থাপনা বাধাগ্রস্ত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করলে এ পরিস্থিতি সহজ হতে পারত। কিন্তু ঋণে জর্জরিত স্থানীয় সরকারগুলো নতুন ডাক্তার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বড় হাসপাতালের বাইরে ডাক্তারি পেশার মর্যাদা কম হওয়ায় নিয়োগেও সমস্যা দেখা দেয়। পূর্ব চীনের নানতং শহরের এক চিকিৎসক জানান, অতিরিক্ত কাজ সবই বেতনহীন, আর বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে চীন উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের দিকে এগিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে টেলিমেডিসিন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। দ্রুত বয়স্ক হওয়া জনসংখ্যা এই পরিবর্তনের প্রয়োজন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে চীনে ষাট বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৪৮৭ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার পঁয়ত্রিশ শতাংশ—বর্তমান একুশ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

টেলিমেডিসিনের দ্রুত প্রসার ঘটে কোভিড-১৯ মহামারীর সময়। চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন অ্যাপ চালু করে, যার মাধ্যমে মানুষ ভিডিও বা টেক্সটে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে। জেডি হেলথ নামের একটি অ্যাপ জানায়, তাদের সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা ২০০ মিলিয়ন এবং প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ অনলাইন পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। অ্যান্ট গ্রুপের AQ অ্যাপ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৪০ মিলিয়ন রোগীকে সেবা দেয় এবং প্রায় দশ লাখ চিকিৎসক এতে যুক্ত হন। এসব প্ল্যাটফর্ম গ্রামীণ এলাকায় বিশেষজ্ঞদের দূরবর্তী সেবা পৌঁছে দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষক টেরেন্স চেংের মতে, সরাসরি ভোক্তা মুখী টেলিমেডিসিন গ্রহণে চীন বিশ্বে অনন্য। রোগীরা ডাক্তারদের রেটিং ও রিভিউ দেখে নিজের মতো করে নির্বাচন করতে পারছেন, যা তাদের আস্থা বাড়াচ্ছে।

তবে চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। টেলিমেডিসিন অ্যাপের ব্যবহারকারী অধিকাংশই তরুণ শহুরে মানুষ, যারা মূলত উন্নত চিকিৎসা সুবিধার অধিকারী। চিকিৎসকেরা এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন অতিরিক্ত আয়ের জন্য, ফলে কাজের চাপ কমে না। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের টাং শেং লান মনে করেন, যদি হাসপাতালগুলো চিকিৎসকদের দিনের পাঁচ থেকে দশ শতাংশ সময় টেলিমেডিসিনের জন্য বরাদ্দ করে এবং বীমা কভারেজ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

এর আরও পরের ধাপ হলো এআই-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা। ইতিমধ্যেই চীনের অনেক মানুষ ডিপসিকের মতো স্টার্টআপের চ্যাটবট ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরামর্শ নিচ্ছে। সরকার বিশ্বাস করে, এআই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মান, সক্ষমতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। নভেম্বর মাসে সরকার ঘোষণা দেয়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে এআই-চালিত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সরঞ্জামের পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত করা হবে।

সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টিয়েন ইয়িন ওয়াং মনে করেন, স্থানীয় চিকিৎসকেরা যদি এআই মডেলের সাহায্যে সর্বশেষ চিকিৎসা তথ্য পায়, তাহলে রোগীদের আস্থা বাড়বে এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা স্থানীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। এতে বড় হাসপাতালে চাপ কমবে এবং নতুন ডাক্তার প্রশিক্ষণে ব্যয়ের প্রয়োজনও কমে যাবে। বিভিন্ন শহরের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এখনো এটি বিশ্ববিদ্যালয় সংযুক্ত একটি হাসপাতালে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

তবুও চীন এখনো পূর্ণাঙ্গ এআই-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবার পথে অনেক দূরে। চিকিৎসা খাতে অতীতের নানা কেলেঙ্কারির কারণে মানুষের আস্থা কম; ভুল এআই পরামর্শ সেই আস্থার সংকট আরও বাড়াতে পারে। রোগীর তথ্যভান্ডারের মান খারাপ এবং ডেটা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে, যা এআই মডেল উন্নয়নে বড় বাধা। তবুও চীনে দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণের একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি বিদ্যমান। নগদ লেনদেনের পরিবর্তে তারা সরাসরি মোবাইল পেমেন্টে চলে যাওয়ার মতো বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সরকারি সহায়তা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, ডিজিটালি প্রস্তুত জনগোষ্ঠী এবং পুরনো ব্যবস্থার অভাব—সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।

অনেক দেশেই কম বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু চীনের মতো প্রযুক্তিগত ভিত্তি না থাকায় তাদের পক্ষে এ পরিবর্তন অনুকরণ করা কঠিন হতে পারে।


#চীনস্বাস্থ্যব্যবস্থা #এআইস্বাস্থ্যসেবা #টেলিমেডিসিনচীন #স্বাস্থ্যখাতসংকট #ডিজিটালহেলথ #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকায় লেফটোভার বিপ্লব: মুদ্রাস্ফীতির চাপে রান্নাঘরে ফিরে আসছে সৃজনশীলতা

চীনের স্বাস্থ্য খাতে এআই ও টেলিমেডিসিনের নতুন যুগ

০২:৫২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

চীনের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা একদিকে আধুনিক, অন্যদিকে জটিল সংকটে নিমজ্জিত। বেইজিং ও সাংহাই এর শীর্ষ হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা, দক্ষ চিকিৎসক এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জাম এর উপস্থিতি চীনকে উন্নত মানচিত্র তুলে ধরে। কিন্তু দেশের মোট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মাত্র দশ শতাংশ এই সুবিধা পায়। অপরদিকে দেশের তেত্রিশ হাজারেরও বেশি টাউনশিপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অর্ধেক সাধারণ চিকিৎসকের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি পর্যন্ত নেই। স্বাস্থ্য খাতে চীনের মোট ব্যয় জিডিপির মাত্র সাত শতাংশ, যেখানে ব্রিটেনে তা এগারো শতাংশের কাছাকাছি।

অসুস্থ হলে অধিকাংশ মানুষ বড় শহরের বিশেষজ্ঞদের কাছে ছুটে যায়। এর ফলে বিশাল ভিড়, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অতিরিক্ত চাপের মধ্যে চিকিৎসকদের কাজ করতে হয়। সাধারণ রোগ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ব্যস্ত থাকায় কার্যকর চিকিৎসা-ব্যবস্থাপনা বাধাগ্রস্ত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করলে এ পরিস্থিতি সহজ হতে পারত। কিন্তু ঋণে জর্জরিত স্থানীয় সরকারগুলো নতুন ডাক্তার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বড় হাসপাতালের বাইরে ডাক্তারি পেশার মর্যাদা কম হওয়ায় নিয়োগেও সমস্যা দেখা দেয়। পূর্ব চীনের নানতং শহরের এক চিকিৎসক জানান, অতিরিক্ত কাজ সবই বেতনহীন, আর বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে চীন উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের দিকে এগিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে টেলিমেডিসিন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। দ্রুত বয়স্ক হওয়া জনসংখ্যা এই পরিবর্তনের প্রয়োজন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে চীনে ষাট বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৪৮৭ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার পঁয়ত্রিশ শতাংশ—বর্তমান একুশ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

টেলিমেডিসিনের দ্রুত প্রসার ঘটে কোভিড-১৯ মহামারীর সময়। চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন অ্যাপ চালু করে, যার মাধ্যমে মানুষ ভিডিও বা টেক্সটে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে। জেডি হেলথ নামের একটি অ্যাপ জানায়, তাদের সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা ২০০ মিলিয়ন এবং প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ অনলাইন পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। অ্যান্ট গ্রুপের AQ অ্যাপ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৪০ মিলিয়ন রোগীকে সেবা দেয় এবং প্রায় দশ লাখ চিকিৎসক এতে যুক্ত হন। এসব প্ল্যাটফর্ম গ্রামীণ এলাকায় বিশেষজ্ঞদের দূরবর্তী সেবা পৌঁছে দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষক টেরেন্স চেংের মতে, সরাসরি ভোক্তা মুখী টেলিমেডিসিন গ্রহণে চীন বিশ্বে অনন্য। রোগীরা ডাক্তারদের রেটিং ও রিভিউ দেখে নিজের মতো করে নির্বাচন করতে পারছেন, যা তাদের আস্থা বাড়াচ্ছে।

তবে চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। টেলিমেডিসিন অ্যাপের ব্যবহারকারী অধিকাংশই তরুণ শহুরে মানুষ, যারা মূলত উন্নত চিকিৎসা সুবিধার অধিকারী। চিকিৎসকেরা এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন অতিরিক্ত আয়ের জন্য, ফলে কাজের চাপ কমে না। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের টাং শেং লান মনে করেন, যদি হাসপাতালগুলো চিকিৎসকদের দিনের পাঁচ থেকে দশ শতাংশ সময় টেলিমেডিসিনের জন্য বরাদ্দ করে এবং বীমা কভারেজ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

এর আরও পরের ধাপ হলো এআই-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা। ইতিমধ্যেই চীনের অনেক মানুষ ডিপসিকের মতো স্টার্টআপের চ্যাটবট ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরামর্শ নিচ্ছে। সরকার বিশ্বাস করে, এআই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মান, সক্ষমতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। নভেম্বর মাসে সরকার ঘোষণা দেয়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে এআই-চালিত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সরঞ্জামের পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত করা হবে।

সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টিয়েন ইয়িন ওয়াং মনে করেন, স্থানীয় চিকিৎসকেরা যদি এআই মডেলের সাহায্যে সর্বশেষ চিকিৎসা তথ্য পায়, তাহলে রোগীদের আস্থা বাড়বে এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা স্থানীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। এতে বড় হাসপাতালে চাপ কমবে এবং নতুন ডাক্তার প্রশিক্ষণে ব্যয়ের প্রয়োজনও কমে যাবে। বিভিন্ন শহরের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এখনো এটি বিশ্ববিদ্যালয় সংযুক্ত একটি হাসপাতালে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

তবুও চীন এখনো পূর্ণাঙ্গ এআই-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবার পথে অনেক দূরে। চিকিৎসা খাতে অতীতের নানা কেলেঙ্কারির কারণে মানুষের আস্থা কম; ভুল এআই পরামর্শ সেই আস্থার সংকট আরও বাড়াতে পারে। রোগীর তথ্যভান্ডারের মান খারাপ এবং ডেটা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে, যা এআই মডেল উন্নয়নে বড় বাধা। তবুও চীনে দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণের একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি বিদ্যমান। নগদ লেনদেনের পরিবর্তে তারা সরাসরি মোবাইল পেমেন্টে চলে যাওয়ার মতো বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সরকারি সহায়তা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, ডিজিটালি প্রস্তুত জনগোষ্ঠী এবং পুরনো ব্যবস্থার অভাব—সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।

অনেক দেশেই কম বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু চীনের মতো প্রযুক্তিগত ভিত্তি না থাকায় তাদের পক্ষে এ পরিবর্তন অনুকরণ করা কঠিন হতে পারে।


#চীনস্বাস্থ্যব্যবস্থা #এআইস্বাস্থ্যসেবা #টেলিমেডিসিনচীন #স্বাস্থ্যখাতসংকট #ডিজিটালহেলথ #সারাক্ষণরিপোর্ট