০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
চাকরি দারিদ্র্য দূর করার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ, সমৃদ্ধির চাবিকাঠি ভ্যালেন্তিনো গারাভানি: রাজকীয় গ্ল্যামারের শেষ সম্রাটের বিদায় আসাদের শাসনে অপরাধ আড়াল: গণকবর, নির্যাতন আর নথি জালিয়াতির ভয়ংকর নকশা আল ধাফরা বই উৎসবে বইয়ের মহাযজ্ঞ, পরিবারকেন্দ্রিক সংস্কৃতির মিলনমেলা এ আর রহমানকে ঘিরে বিতর্কে পাশে দাঁড়ালেন নাইলা আল খাজা, ‘শব্দ নয়, প্রাপ্য সম্মান দিন’ জাতিসংঘে পাকিস্তানের সতর্কবার্তা, ইন্দাস জল চুক্তি স্থগিত হলে পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে দশ বছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত–ভারত গ্যাস জোট, আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের এলএনজি চুক্তি আল জাজিরার প্রতিবেদন:বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী কী এবার ক্ষমতায় যাবে? অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান গাজায় স্থায়ী শান্তির উদ্যোগে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে যোগ দিল পাকিস্তান

বিরোধের মাঝে: চীন ও জাপানের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পরিবর্তন

চীনে জাপানি কনসার্ট বাতিল ও চলচ্চিত্র মুক্তি স্থগিত

চীনে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জাপানি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুতর বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে কনসার্ট বাতিল ও চলচ্চিত্র মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। চীন জাপানের সাংস্কৃতিক উপাদানকে একটি শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

আয়ুমি হামাসাকি ও সাংস্কৃতিক প্রতিকূলতা

জাপানি পপ তারকা আয়ুমি হামাসাকি, যিনি জাপানি সাংস্কৃতিক চরিত্রের অন্যতম প্রতিনিধি, নভেম্বরের শেষের দিকে সাংহাইতে ১৪,০০০ আসন বিশিষ্ট একটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান দিতে যান। তবে তাকে সেখানে নিরবতা ও এক বিরক্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। শোটি একদিন আগে চীনা সরকারের নির্দেশে বাতিল হয়। তারপর, হামাসাকি তাঁর শোটি চালিয়ে যান এবং পরে তার সোশ্যাল মিডিয়ায় এটিকে “একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা” হিসেবে বর্ণনা করেন।

এটি চীনের সঙ্গে জাপানের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে সংস্কৃতির উপর চাপ তৈরি করার একটি উদাহরণ হিসেবে দাঁড়ায়। চীনে এখন জাপানি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেমন এনিমে ইভেন্ট, চলচ্চিত্রের মুক্তি, এবং লাইভ কনসার্ট গুলো প্রায়ই বাতিল বা স্থগিত হচ্ছে।

জাপান এবং চীনের রাজনৈতিক উত্তেজনা

নভেম্বরে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাই বলেন যে, তাইওয়ানের সংকটে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে যদি এটি “জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি” হয়ে দাঁড়ায়। চীনের এই বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, “জাপানকে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্তরিকতা প্রদর্শন করতে হবে।”

চীনে চলচ্চিত্রের বাজার এবং জাপানি চলচ্চিত্র

চীন হল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিনেমা বাজার, এবং সেখানে প্রচুর জাপানি এনিমে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। তবে, চীনে ৯০% বক্স অফিস রাজস্ব স্থানীয় চলচ্চিত্রগুলোর জন্য সংরক্ষিত থাকে, যার ফলে বিদেশী চলচ্চিত্রগুলোর জন্য খুব কম স্থান থাকে। তবে, কিছু বিশিষ্ট জাপানি চলচ্চিত্র, যেমন “ডিমন স্লেয়ার: ইনফিনিটি কাস্টল”, চীনের বাজারে প্রবাহিত হতে সক্ষম হয়েছে এবং এর বক্স অফিস রেকর্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, এনিমে চীনে প্রচুর জনপ্রিয়।

সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সুযোগ

চীনে জাপানি সংগীতের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ এবং কনসার্ট বাতিল হওয়ার ফলে সাংস্কৃতিক বাজারে কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবে, শিল্পীরা এখন অন্য বিদেশী বাজারে নজর দিতে শুরু করেছেন, যেমন তাইওয়ান, হংকং, এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।

সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

এই পরিস্থিতি কি কেবল একটি সাময়িক কূটনৈতিক ঝড়, না কি এটি দীর্ঘমেয়াদী সাংস্কৃতিক পুনর্বিন্যাসের সূচনা হবে তা ভবিষ্যতের উপর নির্ভর করবে। শিল্পী, প্রমোটার এবং ভক্তদের আশা, যা সাধারণ: তারা আশা করেন যে, তাদের প্রিয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আবার এক দেশ থেকে অন্য দেশে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবে।


জনপ্রিয় সংবাদ

চাকরি দারিদ্র্য দূর করার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ, সমৃদ্ধির চাবিকাঠি

বিরোধের মাঝে: চীন ও জাপানের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পরিবর্তন

০১:৩৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

চীনে জাপানি কনসার্ট বাতিল ও চলচ্চিত্র মুক্তি স্থগিত

চীনে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জাপানি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুতর বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে কনসার্ট বাতিল ও চলচ্চিত্র মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। চীন জাপানের সাংস্কৃতিক উপাদানকে একটি শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

আয়ুমি হামাসাকি ও সাংস্কৃতিক প্রতিকূলতা

জাপানি পপ তারকা আয়ুমি হামাসাকি, যিনি জাপানি সাংস্কৃতিক চরিত্রের অন্যতম প্রতিনিধি, নভেম্বরের শেষের দিকে সাংহাইতে ১৪,০০০ আসন বিশিষ্ট একটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান দিতে যান। তবে তাকে সেখানে নিরবতা ও এক বিরক্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। শোটি একদিন আগে চীনা সরকারের নির্দেশে বাতিল হয়। তারপর, হামাসাকি তাঁর শোটি চালিয়ে যান এবং পরে তার সোশ্যাল মিডিয়ায় এটিকে “একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা” হিসেবে বর্ণনা করেন।

এটি চীনের সঙ্গে জাপানের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে সংস্কৃতির উপর চাপ তৈরি করার একটি উদাহরণ হিসেবে দাঁড়ায়। চীনে এখন জাপানি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেমন এনিমে ইভেন্ট, চলচ্চিত্রের মুক্তি, এবং লাইভ কনসার্ট গুলো প্রায়ই বাতিল বা স্থগিত হচ্ছে।

জাপান এবং চীনের রাজনৈতিক উত্তেজনা

নভেম্বরে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাই বলেন যে, তাইওয়ানের সংকটে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে যদি এটি “জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি” হয়ে দাঁড়ায়। চীনের এই বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, “জাপানকে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্তরিকতা প্রদর্শন করতে হবে।”

চীনে চলচ্চিত্রের বাজার এবং জাপানি চলচ্চিত্র

চীন হল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিনেমা বাজার, এবং সেখানে প্রচুর জাপানি এনিমে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। তবে, চীনে ৯০% বক্স অফিস রাজস্ব স্থানীয় চলচ্চিত্রগুলোর জন্য সংরক্ষিত থাকে, যার ফলে বিদেশী চলচ্চিত্রগুলোর জন্য খুব কম স্থান থাকে। তবে, কিছু বিশিষ্ট জাপানি চলচ্চিত্র, যেমন “ডিমন স্লেয়ার: ইনফিনিটি কাস্টল”, চীনের বাজারে প্রবাহিত হতে সক্ষম হয়েছে এবং এর বক্স অফিস রেকর্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, এনিমে চীনে প্রচুর জনপ্রিয়।

সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সুযোগ

চীনে জাপানি সংগীতের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ এবং কনসার্ট বাতিল হওয়ার ফলে সাংস্কৃতিক বাজারে কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবে, শিল্পীরা এখন অন্য বিদেশী বাজারে নজর দিতে শুরু করেছেন, যেমন তাইওয়ান, হংকং, এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।

সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

এই পরিস্থিতি কি কেবল একটি সাময়িক কূটনৈতিক ঝড়, না কি এটি দীর্ঘমেয়াদী সাংস্কৃতিক পুনর্বিন্যাসের সূচনা হবে তা ভবিষ্যতের উপর নির্ভর করবে। শিল্পী, প্রমোটার এবং ভক্তদের আশা, যা সাধারণ: তারা আশা করেন যে, তাদের প্রিয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আবার এক দেশ থেকে অন্য দেশে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবে।