০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
আসাদের শাসনে অপরাধ আড়াল: গণকবর, নির্যাতন আর নথি জালিয়াতির ভয়ংকর নকশা আল ধাফরা বই উৎসবে বইয়ের মহাযজ্ঞ, পরিবারকেন্দ্রিক সংস্কৃতির মিলনমেলা এ আর রহমানকে ঘিরে বিতর্কে পাশে দাঁড়ালেন নাইলা আল খাজা, ‘শব্দ নয়, প্রাপ্য সম্মান দিন’ জাতিসংঘে পাকিস্তানের সতর্কবার্তা, ইন্দাস জল চুক্তি স্থগিত হলে পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে দশ বছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত–ভারত গ্যাস জোট, আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের এলএনজি চুক্তি আল জাজিরার প্রতিবেদন:বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী কী এবার ক্ষমতায় যাবে? অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান গাজায় স্থায়ী শান্তির উদ্যোগে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে যোগ দিল পাকিস্তান বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে যানবাহন আমদানি বেড়েছে, বন্দরের রাজস্বে বড় প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেয় না: বাংলাদেশিদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের মধ্যে ইউরোপকে নেতৃত্বাধীন ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য: কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৭ সালের মধ্যে ন্যাটোর সাধারণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বেশিরভাগই ইউরোপের হাতে তুলে দিতে চায়, যা থেকে গোয়েন্দা তথ্য এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে এই বিষয়টি আলোচনা করেছেন, এবং এই লক্ষ্যটি কিছু ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের জন্য অযৌক্তিক মনে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য
এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটের সামরিক সক্ষমতার দায়িত্ব ইউরোপের ওপর চাপাতে চায়, যা পেন্টাগন কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য একটি কঠিন লক্ষ্য। পেন্টাগন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউরোপ যদি ২০২৭ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ন্যাটো প্রতিরক্ষা সমন্বয় প্রক্রিয়াতে অংশগ্রহণ বন্ধ করে দিতে পারে। যদিও, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অগ্রগতি পরিমাপ করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইউরোপীয় নেতাদের উদ্বেগ
একাধিক ইউরোপীয় কর্মকর্তার মতে, ২০২৭ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ইউরোপে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো সামরিক সরঞ্জাম এবং অস্ত্রের উৎপাদনে ব্যাকলগ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সামগ্রী মার্কিন তৈরি সরঞ্জাম কিনতে উৎসাহিত করছে, তবে কিছু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে কয়েক বছর লাগবে।

ইউরোপের প্রস্তুতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের লক্ষ্য
ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন, সাইবার যুদ্ধ এবং গোলাবারুদ সংগ্রহের মতো বিষয়। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই সময়সীমার মধ্যেও এই লক্ষ্য পূরণ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো প্রতি মনোভাব
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং আরো বেশি দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে তীব্র সমালোচনা করলেও, ২০২৪ সালে ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে তিনি তাদের বড় ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনার প্রশংসা করেছিলেন। তবে, ইউরোপের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনও মধুর, কখনও তিক্ত হয়ে উঠেছে।

ন্যাটো সম্পর্কের উত্তাপ এবং ঠাণ্ডা সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও ন্যাটো পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সম্মেলনে বলেন, ইউরোপের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন এবং “আমাদের প্রশাসন এর সত্যিকার অর্থেই গুরুত্ব দেয়।”

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপকে ন্যাটোর দায়িত্ব নিতে বলা একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও আত্মনির্ভরশীল হতে বাধ্য করবে, তবে এটি কি বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসাদের শাসনে অপরাধ আড়াল: গণকবর, নির্যাতন আর নথি জালিয়াতির ভয়ংকর নকশা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের মধ্যে ইউরোপকে নেতৃত্বাধীন ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য: কর্মকর্তারা

০১:৫১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৭ সালের মধ্যে ন্যাটোর সাধারণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বেশিরভাগই ইউরোপের হাতে তুলে দিতে চায়, যা থেকে গোয়েন্দা তথ্য এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে এই বিষয়টি আলোচনা করেছেন, এবং এই লক্ষ্যটি কিছু ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের জন্য অযৌক্তিক মনে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য
এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটের সামরিক সক্ষমতার দায়িত্ব ইউরোপের ওপর চাপাতে চায়, যা পেন্টাগন কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য একটি কঠিন লক্ষ্য। পেন্টাগন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউরোপ যদি ২০২৭ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ন্যাটো প্রতিরক্ষা সমন্বয় প্রক্রিয়াতে অংশগ্রহণ বন্ধ করে দিতে পারে। যদিও, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অগ্রগতি পরিমাপ করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইউরোপীয় নেতাদের উদ্বেগ
একাধিক ইউরোপীয় কর্মকর্তার মতে, ২০২৭ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ইউরোপে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো সামরিক সরঞ্জাম এবং অস্ত্রের উৎপাদনে ব্যাকলগ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সামগ্রী মার্কিন তৈরি সরঞ্জাম কিনতে উৎসাহিত করছে, তবে কিছু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে কয়েক বছর লাগবে।

ইউরোপের প্রস্তুতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের লক্ষ্য
ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন, সাইবার যুদ্ধ এবং গোলাবারুদ সংগ্রহের মতো বিষয়। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই সময়সীমার মধ্যেও এই লক্ষ্য পূরণ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো প্রতি মনোভাব
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং আরো বেশি দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে তীব্র সমালোচনা করলেও, ২০২৪ সালে ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে তিনি তাদের বড় ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনার প্রশংসা করেছিলেন। তবে, ইউরোপের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনও মধুর, কখনও তিক্ত হয়ে উঠেছে।

ন্যাটো সম্পর্কের উত্তাপ এবং ঠাণ্ডা সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও ন্যাটো পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সম্মেলনে বলেন, ইউরোপের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন এবং “আমাদের প্রশাসন এর সত্যিকার অর্থেই গুরুত্ব দেয়।”

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপকে ন্যাটোর দায়িত্ব নিতে বলা একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও আত্মনির্ভরশীল হতে বাধ্য করবে, তবে এটি কি বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।