ইংরেজরা লালন করেছেন সবসময় তাঁদের সুদূর মাতৃভূমির, কান্ট্রিসাইডের স্মৃতি। নিজেদের অজান্তে সে ধরনের কিছু প্রভাব ফেলেছিল এই স্থাপত্য….
উল্লিখিত বাড়িগুলির মধ্যে এক ধরনের স্থাপত্যিক ঐক্য আছে। বাড়িগুলি ইটের তৈরি, ব্যবহৃত হয়েছে আর্চ। বড় বারান্দা, উঁচু ছাদ, পুরু দেওয়াল। স্থপতি ও কবি রবিউল হুসাইনের মতে, ‘গ্রোকোরোমান, ইন্দোসারাসনিক এবং ইংলিশ কান্ট্রিসাইডের বাড়ির স্টাইল সব একীভূত হয়ে সৃষ্টি করেছে এক মিশ্ররীতির।’
এর কিছু সামাজিক কারণও আছে বৈকি। ঐ আমলের অধিকাংশ ঘরবাড়িতে করিন্থিয়ান পিলার বা গ্রোকোরোমান রীতি প্রভাব ফেলেছে। যাঁরা অর্থশালী ছিলেন, তাঁরা জাঁকজমক এবং নিজেদের দাপট দেখানোর জন্যে এ স্টাইল পছন্দ করতেন। অধিকাংশ পুরোনো জমিদার বাড়িতে এটি লক্ষণীয়।

মেসার্স ওয়াইজ অ্যান্ড গ্লাস; আদালত বা কোর্ট বিল্ডিং; রেভারেন্ড শেফার্ডের বাড়ি
দেশী আবহাওয়া এবং এ দেশে থাকার কারণে তাঁরা খানিকটা ইন্দো-সারাসনিক ভাব নিয়েছেন। আর সব শেষে নস্টালজিয়া। বিশেষ করে ইংরেজরা লালন করেছেন সবসময় তাঁদের সুদূর মাতৃভূমির, কান্ট্রিসাইডের স্মৃতি। নিজেদের অজান্তে সে ধরনের কিছু প্রভাব ফেলেছিল এই স্থাপত্য।
এখন দেখা যাক ১৮৪০-এর আগে নির্মিত এসব ঘরবাড়ির ক’টি এখনও টিকে আছে এবং কী অবস্থায়।

খাজা আলিম উল্লাহর বাড়ি
জরিপ শুরু করেছিলাম আর্মেনী জমিদার আরাতুনের বাড়ি দিয়ে [ফরাশগঞ্জে যা আমাদের কাছে এখন পরিচিত রূপলাল হাউজ নামে।
উনিশ শতকের ঢাকায়, নবাব আবদুল গনির আহসান মঞ্জিল এর সঙ্গে জাঁকজমকের দিক থেকে পাল্লা দিতে পারত আরেকটি অট্টালিকা রূপলাল দাসের রূপলাল হাউজ।

আমির উদ্দিন দারোগার বাড়ি
ফরাশগঞ্জে রূপলাল ও রঘুনাথ করেছিলেন নিজেদের বাড়ি।
(চলবে)
পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১৩৪)
মুনতাসীর মামুন 



















