০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে শক্ত বার্তা, ব্রিসবেনে দাপুটে শিরোপায় সাবালেঙ্কা চীনে বইয়ের দোকান মানেই শুধু পড়ার জায়গা নয়, এখন সেলফির গন্তব্য বিশ্বের সেরা জিমের তালিকায় লন্ডনের বিলাসী জিউ জিতসু ক্লাব আর্মা এ আর রহমানের সুরে মনের গভীরে নামা ‘বাব’: নায়লা আল খাজর আবেগঘন সিনেমা শীতের সকালে ঝিমুনি আর পরীক্ষার চাপ, সহজ রুটিনেই বাড়বে মনোযোগ ও শক্তি মিনিয়াপলিসে অভিবাসন এজেন্টের গুলিতে নারী নিহত, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদে উত্তাল শহর হেসা স্ট্রিটে স্বস্তির রাস্তা খুলল দুবাই, যানজট কমাতে বড় ধাপে অগ্রগতি এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা অনুমোদন, ডলার সংকট মোকাবিলায় নতুন সিদ্ধান্ত চট্টগ্রামে পুলিশ হত্যাকাণ্ড: ১০ জনের যাবজ্জীবন পর্যটনে গতির নতুন অধ্যায় আবুধাবি, ২০৩০ লক্ষ্য ছোঁয়ার পথে এগোচ্ছে আমিরাত

কবরীঃ সুখ ও দুঃখ জাগানিয়া

  • Sarakhon Report
  • ০৪:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪
  • 163

বাংলা চলচ্চিত্রে দুটি জুটি হয়েছে। একটি ওপর বাংলায়। আরেকটি এপার বাংলায়। ওপার বাংলার জুটি উত্তম সুচিত্রা। এপার বাংলার জুটি রাজ্জাক কবরী। কোন জুটি বেশি ভালো। কে বেশি জনপ্রিয়। সে প্রশ্নে না যাওয়াই ভালো।

তবে এপার বাংলার জুটি  কবরী সত্যি এক আলাদা ফুল। মীনা নামের মেয়েটি কীভাবে কবরী হয়ে উঠেছিলেন , সে গল্প তিনি তার ছোট্ট একটা আত্মজীবিনীতে লিখে গেছেন।

সেখানে সব থেকে বেশি যা আকর্ষন করে, তা হলো তার স্কুল বয়সকালে কলেজের যে বড় ভাইটি তার হাত ধরেছিলো সেই স্পর্শ্বকে। বইটি পড়লে বোঝা যায়, সেই স্পর্শ্বকে সঙ্গে নিয়েই তিনি সারাজীবন চলেছেন।

তার জীবনের শেষপ্রান্তে এ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করলেও তিনি অকপটে বলেছিলেন। যা সত্য তা লুকিয়ে লাভ কি?

কবরী বাংলা সিনেমাকে কী দিয়ে গেছেন  তা ছোট খাট কোন লেখায় শেষ করা যাবে না। তবে ওই যে ভুবন মোহনী হাসি, যা প্রতিটি দর্শককে নাড়া দিতো ওই হাসির নীচে তার কি কোন কান্না ছিলো? পেরেছিলেন কি ব্যক্তি জীবনে সুখী হতে? কিশোরী কবরীকে বিয়ে করতে হয়েছিলো প্রযোজককে। তারপরে একবার জহির রায়হান তাকে নিয়ে চলে গেলেন করাচীতে। তারপরেও তো একের পর এক উত্থান পতন।

যে ধর্মে তিনি জম্মেছিলেন, সেটাও ত্যাগ করলেন। বিয়ে করলেন। স্বামী হলো। সন্তান হলো। তারপরেও কেন যেন আজীবনও কাটিয়ে গেলেন একটি একাকি জীবন।

এই একাকি জীবনে হাতে গোনা কয়েক চলচ্চিত্র শিল্পির মধ্যে তিনি একজন যিনি জাতীয় জীবনের নানান ক্রাইসিসে কখনও দূরে থাকেননি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে শিশু সন্তান সহ খোল আকাশের নিচে শুয়ে থাকা কবরীর ছবি বিদেশের নানান পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছিলো। তারপরে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করার জন্যে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরেছেন।

এরপরে এসেছিলেন গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে। কুটিল রাজনীতির কাছে চাঁদের হাসির মতো হাসির মানুষটির অমনি চাঁদের মত স্বচ্ছ মন ও চিন্তা হেরে গেলো শেষ অবধি। আর রাজনীতিতে এসব মানুষদের হেরে যাওয়াই মূলত জিতে যাওয়া।

রাজনীতিতে হেরে গিয়েও কখনও ভেঙ্গে পড়েনিনি তিনি। কারণ, ১৩ বছর বয়সে যে মানুষটি জীবন সংগ্রামে বের হয়েছেন, তিনি কেন ভেঙ্গে পড়বেন। বরং নতুন করে, তার আরেকটি কল্পনার জগত ভেঙ্গে গেলো- যা তার জীবনে বার বার ভেঙ্গেছে।

কিন্তু শেষ অবধি পারেননি, কোভিড- ১৯ এর সঙ্গে যুদ্ধে এখানে হেরে গেলেন চিরকাল হাসি দিয়ে দুঃখ চেপে রাখা একজন মহানায়িকা। যারা সুচিত্রা সেনকে মহানায়িকা বলেন, দয়া করে রাগ করবেন না। মহামানব যেমন অনেক হয় পৃথিবীতে মহানায়িকাও তেমনি অনেক। জীবনে দুঃখ চেপে রাখা আর পর্দায় আলোকিত করা কবরী সেই মহানায়িকা। তিনিও কয়েকটি প্রজম্মের কোটি মানুষের সুখ ও দুখ জাগানিয়া।

–               কালান্তর

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে শক্ত বার্তা, ব্রিসবেনে দাপুটে শিরোপায় সাবালেঙ্কা

কবরীঃ সুখ ও দুঃখ জাগানিয়া

০৪:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

বাংলা চলচ্চিত্রে দুটি জুটি হয়েছে। একটি ওপর বাংলায়। আরেকটি এপার বাংলায়। ওপার বাংলার জুটি উত্তম সুচিত্রা। এপার বাংলার জুটি রাজ্জাক কবরী। কোন জুটি বেশি ভালো। কে বেশি জনপ্রিয়। সে প্রশ্নে না যাওয়াই ভালো।

তবে এপার বাংলার জুটি  কবরী সত্যি এক আলাদা ফুল। মীনা নামের মেয়েটি কীভাবে কবরী হয়ে উঠেছিলেন , সে গল্প তিনি তার ছোট্ট একটা আত্মজীবিনীতে লিখে গেছেন।

সেখানে সব থেকে বেশি যা আকর্ষন করে, তা হলো তার স্কুল বয়সকালে কলেজের যে বড় ভাইটি তার হাত ধরেছিলো সেই স্পর্শ্বকে। বইটি পড়লে বোঝা যায়, সেই স্পর্শ্বকে সঙ্গে নিয়েই তিনি সারাজীবন চলেছেন।

তার জীবনের শেষপ্রান্তে এ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করলেও তিনি অকপটে বলেছিলেন। যা সত্য তা লুকিয়ে লাভ কি?

কবরী বাংলা সিনেমাকে কী দিয়ে গেছেন  তা ছোট খাট কোন লেখায় শেষ করা যাবে না। তবে ওই যে ভুবন মোহনী হাসি, যা প্রতিটি দর্শককে নাড়া দিতো ওই হাসির নীচে তার কি কোন কান্না ছিলো? পেরেছিলেন কি ব্যক্তি জীবনে সুখী হতে? কিশোরী কবরীকে বিয়ে করতে হয়েছিলো প্রযোজককে। তারপরে একবার জহির রায়হান তাকে নিয়ে চলে গেলেন করাচীতে। তারপরেও তো একের পর এক উত্থান পতন।

যে ধর্মে তিনি জম্মেছিলেন, সেটাও ত্যাগ করলেন। বিয়ে করলেন। স্বামী হলো। সন্তান হলো। তারপরেও কেন যেন আজীবনও কাটিয়ে গেলেন একটি একাকি জীবন।

এই একাকি জীবনে হাতে গোনা কয়েক চলচ্চিত্র শিল্পির মধ্যে তিনি একজন যিনি জাতীয় জীবনের নানান ক্রাইসিসে কখনও দূরে থাকেননি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে শিশু সন্তান সহ খোল আকাশের নিচে শুয়ে থাকা কবরীর ছবি বিদেশের নানান পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছিলো। তারপরে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করার জন্যে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরেছেন।

এরপরে এসেছিলেন গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে। কুটিল রাজনীতির কাছে চাঁদের হাসির মতো হাসির মানুষটির অমনি চাঁদের মত স্বচ্ছ মন ও চিন্তা হেরে গেলো শেষ অবধি। আর রাজনীতিতে এসব মানুষদের হেরে যাওয়াই মূলত জিতে যাওয়া।

রাজনীতিতে হেরে গিয়েও কখনও ভেঙ্গে পড়েনিনি তিনি। কারণ, ১৩ বছর বয়সে যে মানুষটি জীবন সংগ্রামে বের হয়েছেন, তিনি কেন ভেঙ্গে পড়বেন। বরং নতুন করে, তার আরেকটি কল্পনার জগত ভেঙ্গে গেলো- যা তার জীবনে বার বার ভেঙ্গেছে।

কিন্তু শেষ অবধি পারেননি, কোভিড- ১৯ এর সঙ্গে যুদ্ধে এখানে হেরে গেলেন চিরকাল হাসি দিয়ে দুঃখ চেপে রাখা একজন মহানায়িকা। যারা সুচিত্রা সেনকে মহানায়িকা বলেন, দয়া করে রাগ করবেন না। মহামানব যেমন অনেক হয় পৃথিবীতে মহানায়িকাও তেমনি অনেক। জীবনে দুঃখ চেপে রাখা আর পর্দায় আলোকিত করা কবরী সেই মহানায়িকা। তিনিও কয়েকটি প্রজম্মের কোটি মানুষের সুখ ও দুখ জাগানিয়া।

–               কালান্তর