০৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সুপারিশ আইইএর ইরানে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে ইসরাইল, একই সঙ্গে বৈরুতেও আঘাত ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

কবরীঃ সুখ ও দুঃখ জাগানিয়া

  • Sarakhon Report
  • ০৪:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪
  • 207

বাংলা চলচ্চিত্রে দুটি জুটি হয়েছে। একটি ওপর বাংলায়। আরেকটি এপার বাংলায়। ওপার বাংলার জুটি উত্তম সুচিত্রা। এপার বাংলার জুটি রাজ্জাক কবরী। কোন জুটি বেশি ভালো। কে বেশি জনপ্রিয়। সে প্রশ্নে না যাওয়াই ভালো।

তবে এপার বাংলার জুটি  কবরী সত্যি এক আলাদা ফুল। মীনা নামের মেয়েটি কীভাবে কবরী হয়ে উঠেছিলেন , সে গল্প তিনি তার ছোট্ট একটা আত্মজীবিনীতে লিখে গেছেন।

সেখানে সব থেকে বেশি যা আকর্ষন করে, তা হলো তার স্কুল বয়সকালে কলেজের যে বড় ভাইটি তার হাত ধরেছিলো সেই স্পর্শ্বকে। বইটি পড়লে বোঝা যায়, সেই স্পর্শ্বকে সঙ্গে নিয়েই তিনি সারাজীবন চলেছেন।

তার জীবনের শেষপ্রান্তে এ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করলেও তিনি অকপটে বলেছিলেন। যা সত্য তা লুকিয়ে লাভ কি?

কবরী বাংলা সিনেমাকে কী দিয়ে গেছেন  তা ছোট খাট কোন লেখায় শেষ করা যাবে না। তবে ওই যে ভুবন মোহনী হাসি, যা প্রতিটি দর্শককে নাড়া দিতো ওই হাসির নীচে তার কি কোন কান্না ছিলো? পেরেছিলেন কি ব্যক্তি জীবনে সুখী হতে? কিশোরী কবরীকে বিয়ে করতে হয়েছিলো প্রযোজককে। তারপরে একবার জহির রায়হান তাকে নিয়ে চলে গেলেন করাচীতে। তারপরেও তো একের পর এক উত্থান পতন।

যে ধর্মে তিনি জম্মেছিলেন, সেটাও ত্যাগ করলেন। বিয়ে করলেন। স্বামী হলো। সন্তান হলো। তারপরেও কেন যেন আজীবনও কাটিয়ে গেলেন একটি একাকি জীবন।

এই একাকি জীবনে হাতে গোনা কয়েক চলচ্চিত্র শিল্পির মধ্যে তিনি একজন যিনি জাতীয় জীবনের নানান ক্রাইসিসে কখনও দূরে থাকেননি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে শিশু সন্তান সহ খোল আকাশের নিচে শুয়ে থাকা কবরীর ছবি বিদেশের নানান পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছিলো। তারপরে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করার জন্যে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরেছেন।

এরপরে এসেছিলেন গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে। কুটিল রাজনীতির কাছে চাঁদের হাসির মতো হাসির মানুষটির অমনি চাঁদের মত স্বচ্ছ মন ও চিন্তা হেরে গেলো শেষ অবধি। আর রাজনীতিতে এসব মানুষদের হেরে যাওয়াই মূলত জিতে যাওয়া।

রাজনীতিতে হেরে গিয়েও কখনও ভেঙ্গে পড়েনিনি তিনি। কারণ, ১৩ বছর বয়সে যে মানুষটি জীবন সংগ্রামে বের হয়েছেন, তিনি কেন ভেঙ্গে পড়বেন। বরং নতুন করে, তার আরেকটি কল্পনার জগত ভেঙ্গে গেলো- যা তার জীবনে বার বার ভেঙ্গেছে।

কিন্তু শেষ অবধি পারেননি, কোভিড- ১৯ এর সঙ্গে যুদ্ধে এখানে হেরে গেলেন চিরকাল হাসি দিয়ে দুঃখ চেপে রাখা একজন মহানায়িকা। যারা সুচিত্রা সেনকে মহানায়িকা বলেন, দয়া করে রাগ করবেন না। মহামানব যেমন অনেক হয় পৃথিবীতে মহানায়িকাও তেমনি অনেক। জীবনে দুঃখ চেপে রাখা আর পর্দায় আলোকিত করা কবরী সেই মহানায়িকা। তিনিও কয়েকটি প্রজম্মের কোটি মানুষের সুখ ও দুখ জাগানিয়া।

–               কালান্তর

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক

কবরীঃ সুখ ও দুঃখ জাগানিয়া

০৪:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

বাংলা চলচ্চিত্রে দুটি জুটি হয়েছে। একটি ওপর বাংলায়। আরেকটি এপার বাংলায়। ওপার বাংলার জুটি উত্তম সুচিত্রা। এপার বাংলার জুটি রাজ্জাক কবরী। কোন জুটি বেশি ভালো। কে বেশি জনপ্রিয়। সে প্রশ্নে না যাওয়াই ভালো।

তবে এপার বাংলার জুটি  কবরী সত্যি এক আলাদা ফুল। মীনা নামের মেয়েটি কীভাবে কবরী হয়ে উঠেছিলেন , সে গল্প তিনি তার ছোট্ট একটা আত্মজীবিনীতে লিখে গেছেন।

সেখানে সব থেকে বেশি যা আকর্ষন করে, তা হলো তার স্কুল বয়সকালে কলেজের যে বড় ভাইটি তার হাত ধরেছিলো সেই স্পর্শ্বকে। বইটি পড়লে বোঝা যায়, সেই স্পর্শ্বকে সঙ্গে নিয়েই তিনি সারাজীবন চলেছেন।

তার জীবনের শেষপ্রান্তে এ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করলেও তিনি অকপটে বলেছিলেন। যা সত্য তা লুকিয়ে লাভ কি?

কবরী বাংলা সিনেমাকে কী দিয়ে গেছেন  তা ছোট খাট কোন লেখায় শেষ করা যাবে না। তবে ওই যে ভুবন মোহনী হাসি, যা প্রতিটি দর্শককে নাড়া দিতো ওই হাসির নীচে তার কি কোন কান্না ছিলো? পেরেছিলেন কি ব্যক্তি জীবনে সুখী হতে? কিশোরী কবরীকে বিয়ে করতে হয়েছিলো প্রযোজককে। তারপরে একবার জহির রায়হান তাকে নিয়ে চলে গেলেন করাচীতে। তারপরেও তো একের পর এক উত্থান পতন।

যে ধর্মে তিনি জম্মেছিলেন, সেটাও ত্যাগ করলেন। বিয়ে করলেন। স্বামী হলো। সন্তান হলো। তারপরেও কেন যেন আজীবনও কাটিয়ে গেলেন একটি একাকি জীবন।

এই একাকি জীবনে হাতে গোনা কয়েক চলচ্চিত্র শিল্পির মধ্যে তিনি একজন যিনি জাতীয় জীবনের নানান ক্রাইসিসে কখনও দূরে থাকেননি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে শিশু সন্তান সহ খোল আকাশের নিচে শুয়ে থাকা কবরীর ছবি বিদেশের নানান পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছিলো। তারপরে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করার জন্যে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরেছেন।

এরপরে এসেছিলেন গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে। কুটিল রাজনীতির কাছে চাঁদের হাসির মতো হাসির মানুষটির অমনি চাঁদের মত স্বচ্ছ মন ও চিন্তা হেরে গেলো শেষ অবধি। আর রাজনীতিতে এসব মানুষদের হেরে যাওয়াই মূলত জিতে যাওয়া।

রাজনীতিতে হেরে গিয়েও কখনও ভেঙ্গে পড়েনিনি তিনি। কারণ, ১৩ বছর বয়সে যে মানুষটি জীবন সংগ্রামে বের হয়েছেন, তিনি কেন ভেঙ্গে পড়বেন। বরং নতুন করে, তার আরেকটি কল্পনার জগত ভেঙ্গে গেলো- যা তার জীবনে বার বার ভেঙ্গেছে।

কিন্তু শেষ অবধি পারেননি, কোভিড- ১৯ এর সঙ্গে যুদ্ধে এখানে হেরে গেলেন চিরকাল হাসি দিয়ে দুঃখ চেপে রাখা একজন মহানায়িকা। যারা সুচিত্রা সেনকে মহানায়িকা বলেন, দয়া করে রাগ করবেন না। মহামানব যেমন অনেক হয় পৃথিবীতে মহানায়িকাও তেমনি অনেক। জীবনে দুঃখ চেপে রাখা আর পর্দায় আলোকিত করা কবরী সেই মহানায়িকা। তিনিও কয়েকটি প্রজম্মের কোটি মানুষের সুখ ও দুখ জাগানিয়া।

–               কালান্তর