০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সুইজারল্যান্ডের মধ্যযুগীয় বিস্ময়কর গ্রন্থাগার, শতাব্দী পেরিয়ে জ্ঞানের অমূল্য ভাণ্ডার ডোপামিন নিয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি: সুখ নয়, অস্থিরতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার শক্তি শরীরচর্চার সেরা সময় কোনটি? সকাল নাকি সন্ধ্যা—বিজ্ঞান যা বলছে উচ্চশিক্ষিতদের ৪০% জামায়াত, ৩০% বিএনপিমুখী: সোচ্চারের জরিপে ভোটার প্রবণতার নতুন চিত্র ঐতিহাসিক দেহ বিদ্যার শিল্পের অন্ধকার সত্য উন্মোচন স্বপ্নের মঞ্চে অন্ধকার অভিযোগ: কে-পপ তারকা হওয়ার আশায় প্রতারণা ও হয়রানির গল্প দুই মিলিয়ন বইয়ের স্বপ্নগাথা,কর্ণাটকের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকের গড়া আলোর গ্রন্থ ভুবন অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের লড়াইয়ে মুখ্য নারী জুলি ইনম্যান গ্রান্ট ইংল্যান্ডে লুকানো ‘আমেরিকা’—স্বাধীনতার স্বপ্নে গড়া এক বিস্ময়কর পাড়া জুনের আগেই যুদ্ধ শেষ চায় যুক্তরাষ্ট্র, শান্তি আলোচনার নতুন ইঙ্গিত দিলেন জেলেনস্কি

এআই-তৈরি ভুয়া কনটেন্টে তথ্যবিশ্বে ‘পুলিং সংকট’, বিশ্বস্ত সাংবাদিকতার সামনে নতুন সুযোগ

ইন্টারনেটে কনটেন্ট তৈরির খরচ কমতে কমতে শূন্যে নেমে এসেছে। কয়েকটি প্রম্পট দিলেই এখন যেকোনো লেখা, ছবি বা অডিও তৈরি করা যায়। ফলে তথ্য যাচাইয়ের ব্যয় বেড়ে গেছে, আর সত্য-মিথ্যা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্য ইকোনোমিস্ট–এর বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এআই-তৈরি কনটেন্টের বন্যা আমাদের তথ্যবাজারকে “পুলিং ইকুইলিব্রিয়াম”–এ ঠেলে দিচ্ছে—যেখানে আসল-নকল সব একাকার। তবে এই অস্থিরতার মাঝেও বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের জন্য নতুন প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

যাচাই বনাম বিভ্রান্তি
অনলাইনের প্রায় অর্ধেক লেখাই গত বছর এআই-তৈরি ছিল। এতে “কনটেন্ট ফার্ম”গুলো ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সহজেই ক্লিক টানতে পারছে। তারা চেনা ব্র্যান্ড নকল করে রেজ-বেইট ছড়াচ্ছে, আর পাঠকের পক্ষে আসল সংবাদ সাইট আর ফেক সাইট আলাদা করা কঠিন হচ্ছে। একসময় সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ব্র্যান্ড ছিল সত্যতার ব্যয়বহুল প্রমাণ—যা নকল করা সহজ ছিল না। এখন সেটিও বিপন্ন।

পুলিং ইকুইলিব্রিয়াম: যেখানে সব একই মনে হয়
এআই যখন নিখুঁত লেখা, ছবি আর অডিও তৈরি করতে পারে, তখন আগের চেনার নিয়মগুলো ভেঙে যায়। আঙুল কম-বেশি, অদ্ভুত বাক্যগঠন—এসব দেখে বোঝা যেত কোনটি এআই। এখন আর তা সম্ভব নয়। অর্থনীতির ভাষায়, বাজার “সেপারেটিং” থেকে “পুলিং”-এ নেমে আসে—ভালো-মন্দ এক হয়ে যায়। ফল: ক্রেতা (পাঠক) ধরে নেয় সবই খারাপ। তখন প্রশ্ন ওঠে, সত্য তথ্যের জন্য টাকা দেবে কেন? আর সাংবাদিকতা চলবেই বা কীভাবে?

নতুন ‘কস্টলি সিগন্যাল’ জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন তথ্যের উৎস প্রমাণ করতে নতুন ভেরিফায়েবল পদ্ধতি দরকার। ভিডিওতে “চেইন অব কাস্টডি” ট্যাগ, কোন টুলে তৈরি—এসব দেখানো মান বাড়াতে পারে। প্রিন্ট জার্নালিজমও নতুন করে মূল্য পেতে পারে, কারণ মুদ্রণ ও বিতরণের ব্যয় নিজেই এক প্রকার সত্যতার প্রমাণ। স্কুলে হাতে লেখা পরীক্ষার প্রচলন বাড়ার মতোই, তথ্যের জগতে ‘প্রমাণযোগ্য শ্রম’-এর গুরুত্ব বাড়বে।

বিশ্বস্ত সাংবাদিকতার সামনে নতুন সুযোগ
যেমন প্রকৃতিতে তিন রঙের লিজার্ডদের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বেঁচে থাকার সুযোগ দেয়, তেমনি ভুয়া তথ্যের অতিবৃদ্ধি সত্যনিষ্ঠ মাধ্যমগুলোর জন্য আবারও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করতে পারে। যারা নিজেদের সুনাম ধরে রাখবে, পাঠকের আস্থা ফিরে পাবে—এমনটাই আশা বিশ্লেষকদের।

#এআই #মিসইনফরমেশন #জার্নালিজম #ফেকনিউজ #মিডিয়াএথিকস #নিউজভেরিফিকেশন #ডিজিটালট্রাস্ট #কনটেন্টফার্ম #দ্যইকোনোমিস্ট #বাংলানিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

সুইজারল্যান্ডের মধ্যযুগীয় বিস্ময়কর গ্রন্থাগার, শতাব্দী পেরিয়ে জ্ঞানের অমূল্য ভাণ্ডার

এআই-তৈরি ভুয়া কনটেন্টে তথ্যবিশ্বে ‘পুলিং সংকট’, বিশ্বস্ত সাংবাদিকতার সামনে নতুন সুযোগ

০৬:১৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ইন্টারনেটে কনটেন্ট তৈরির খরচ কমতে কমতে শূন্যে নেমে এসেছে। কয়েকটি প্রম্পট দিলেই এখন যেকোনো লেখা, ছবি বা অডিও তৈরি করা যায়। ফলে তথ্য যাচাইয়ের ব্যয় বেড়ে গেছে, আর সত্য-মিথ্যা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্য ইকোনোমিস্ট–এর বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এআই-তৈরি কনটেন্টের বন্যা আমাদের তথ্যবাজারকে “পুলিং ইকুইলিব্রিয়াম”–এ ঠেলে দিচ্ছে—যেখানে আসল-নকল সব একাকার। তবে এই অস্থিরতার মাঝেও বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের জন্য নতুন প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

যাচাই বনাম বিভ্রান্তি
অনলাইনের প্রায় অর্ধেক লেখাই গত বছর এআই-তৈরি ছিল। এতে “কনটেন্ট ফার্ম”গুলো ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সহজেই ক্লিক টানতে পারছে। তারা চেনা ব্র্যান্ড নকল করে রেজ-বেইট ছড়াচ্ছে, আর পাঠকের পক্ষে আসল সংবাদ সাইট আর ফেক সাইট আলাদা করা কঠিন হচ্ছে। একসময় সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ব্র্যান্ড ছিল সত্যতার ব্যয়বহুল প্রমাণ—যা নকল করা সহজ ছিল না। এখন সেটিও বিপন্ন।

পুলিং ইকুইলিব্রিয়াম: যেখানে সব একই মনে হয়
এআই যখন নিখুঁত লেখা, ছবি আর অডিও তৈরি করতে পারে, তখন আগের চেনার নিয়মগুলো ভেঙে যায়। আঙুল কম-বেশি, অদ্ভুত বাক্যগঠন—এসব দেখে বোঝা যেত কোনটি এআই। এখন আর তা সম্ভব নয়। অর্থনীতির ভাষায়, বাজার “সেপারেটিং” থেকে “পুলিং”-এ নেমে আসে—ভালো-মন্দ এক হয়ে যায়। ফল: ক্রেতা (পাঠক) ধরে নেয় সবই খারাপ। তখন প্রশ্ন ওঠে, সত্য তথ্যের জন্য টাকা দেবে কেন? আর সাংবাদিকতা চলবেই বা কীভাবে?

নতুন ‘কস্টলি সিগন্যাল’ জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন তথ্যের উৎস প্রমাণ করতে নতুন ভেরিফায়েবল পদ্ধতি দরকার। ভিডিওতে “চেইন অব কাস্টডি” ট্যাগ, কোন টুলে তৈরি—এসব দেখানো মান বাড়াতে পারে। প্রিন্ট জার্নালিজমও নতুন করে মূল্য পেতে পারে, কারণ মুদ্রণ ও বিতরণের ব্যয় নিজেই এক প্রকার সত্যতার প্রমাণ। স্কুলে হাতে লেখা পরীক্ষার প্রচলন বাড়ার মতোই, তথ্যের জগতে ‘প্রমাণযোগ্য শ্রম’-এর গুরুত্ব বাড়বে।

বিশ্বস্ত সাংবাদিকতার সামনে নতুন সুযোগ
যেমন প্রকৃতিতে তিন রঙের লিজার্ডদের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বেঁচে থাকার সুযোগ দেয়, তেমনি ভুয়া তথ্যের অতিবৃদ্ধি সত্যনিষ্ঠ মাধ্যমগুলোর জন্য আবারও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করতে পারে। যারা নিজেদের সুনাম ধরে রাখবে, পাঠকের আস্থা ফিরে পাবে—এমনটাই আশা বিশ্লেষকদের।

#এআই #মিসইনফরমেশন #জার্নালিজম #ফেকনিউজ #মিডিয়াএথিকস #নিউজভেরিফিকেশন #ডিজিটালট্রাস্ট #কনটেন্টফার্ম #দ্যইকোনোমিস্ট #বাংলানিউজ