ওয়ার্নার ব্রদার্স ডিসকভারিকে অধিগ্রহণের দৌড়ে নেমেছে নেটফ্লিক্স ও প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। বিনোদন শিল্পের এই দ্বন্দ্ব শুধু কোম্পানির মালিকানাই বদলে দেবে না—হলিউডের শক্তির মানচিত্রেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
পরিচিতি
প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স ১০৮.৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বিরূপতাপূর্ণ (hostile) প্রস্তাব দিয়েছে ওয়ার্নার ব্রদার্স ডিসকভারির জন্য—যা নেটফ্লিক্সের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। এই লড়াইয়ের ফলে আবারও বড় ধরনের পুনর্গঠনের মুখোমুখি হচ্ছে হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। ২০০০ সাল থেকে এটি প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ বড় পুনর্গঠন।
ওয়ার্নার ব্রদার্স ডিসকভারিকে ঘিরে এই চুক্তি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ—নিচে চারটি মূল দৃষ্টিকোণ তুলে ধরা হলো।
ডিজনির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ
যদি প্যারামাউন্ট সফলভাবে ওয়ার্নার ব্রদার্স ডিসকভারিকে অধিগ্রহণ করতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বক্স অফিসে সম্মিলিতভাবে তারা ডিজনিকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে।

ডিজনি+ স্ট্রিমিং বাজারে এখনও শক্তিশালী হলেও ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সংযুক্তির দিক থেকে নেটফ্লিক্স ও এইচবিও ম্যাক্স কিছুটা এগিয়ে। এই সম্ভাব্য অধিগ্রহণ প্যারামাউন্টের কনটেন্ট শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দেবে—বিশেষ করে এইচবিও ম্যাক্সের বিখ্যাত সিরিজ যেমন গেম অব থ্রোন্স, সাকসেশন, দ্য ওয়্যার ও দ্য সোপ্রানোস যুক্ত হলে তা প্রভাব আরও বাড়াবে।
ইউটিউবের বাজার দখল
টেলিভিশন দর্শন সময়ের দিক থেকে ইউটিউব সব স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যবহারকারী তৈরি করা কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন আয় এবং লাইভ সেবার দাপটে ইউটিউবের অবস্থান আরও শক্ত হচ্ছে।
মার্চে ইউটিউব জানিয়েছিল তাদের পেইড ব্যবহারকারী সংখ্যা ১২৫ মিলিয়নের বেশি—যদিও এতে ট্রায়াল ব্যবহারকারীও অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে ইউটিউব মোবাইল অ্যাপের সক্রিয় বৈশ্বিক ব্যবহারকারী প্রায় ২.৯ বিলিয়ন—যা নেটফ্লিক্স, ডিজনি+, এইচবিও ম্যাক্স, প্যারামাউন্ট+ এবং পিকক মিলিয়ে মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে ইউটিউবের দর্শনশেয়ার ছিল ১২.৯%, নেটফ্লিক্স ছিল ৮%, আর ওয়ার্নার ব্রদার্স ডিসকভারির শেয়ার মাত্র ১.৩%।
হলিউডের জন্য মোড় ঘোরানো মুহূর্ত
সোমবার ওয়ার্নার ব্রদার্স ডিসকভারির শেয়ারদর ৪% এর বেশি বেড়েছে। কোম্পানিটি বিক্রি হলে তা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মিডিয়া চুক্তিতে পরিণত হবে।
৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্যের এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে—প্যারামাউন্টের আগ্রহের খবর প্রকাশ পাওয়ার পরই এই উত্থান দেখা যায়।
eMarketer বিশ্লেষক রস বেনেস বলেন, প্যারামাউন্ট ও নেটফ্লিক্স উভয়ই বিশ্বের বৃহত্তম কনটেন্ট ব্যয়কারী প্রতিষ্ঠান। তাদের যেকোনো একটি যদি WBD-কে অধিগ্রহণ করে, তবে কনটেন্ট মার্কেটে শক্তিশালী একীকরণ (consolidation) তৈরি হবে—যা অ্যান্টিট্রাস্ট উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে প্যারামাউন্টের সঙ্গে WBD-র থিয়েট্রিকাল ব্যবসার সরাসরি প্রতিযোগিতা রয়েছে।

ঋণ সংকট বড় বাধা
ওয়ার্নার ব্রদার্স ডিসকভারির বিদ্যমান ঋণ প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার—যা সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির ওপর ভারী চাপ তৈরি করবে।
এর আগেও প্যারামাউন্টের প্রস্তাব প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাখ্যান করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেভিড এলিসন নেতৃত্বাধীন প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স বিরূপতাপূর্ণ প্রস্তাবে এগিয়ে যায়।
২০২২ সালের ওয়ার্নারমিডিয়া–ডিসকভারি একীভবনের পর প্রতিষ্ঠানটির দেনার বোঝা আরও বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্ভাব্য নতুন চুক্তিতে প্যারামাউন্ট WBD-র প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ঋণ গ্রহণ করবে, আর নেটফ্লিক্স গ্রহণ করবে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার।
শেষ কথা
স্ট্রিমিং, কনটেন্ট ও বক্স অফিসের আধিপত্য—এই তিন ক্ষেত্রে নতুন শক্তির লড়াই তৈরি হয়েছে ওয়ার্নার ব্রদার্স ডিসকভারিকে কেন্দ্র করে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তার প্রভাব শুধু হলিউড নয়, পুরো বৈশ্বিক মিডিয়া শিল্পেই ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে।
#
#Netflix #Paramount #Hollywood #MediaIndustry #WBD #StreamingWar #EntertainmentBusiness #ContentMarket #Disney #YouTube
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















