১১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
সন্তানের স্মৃতিতে দাঁড়িয়ে ‘ড্যানি গো!’—শিশুদের নায়ক ড্যানিয়েল কোলম্যানের আনন্দ-শোকের অবিশ্বাস্য গল্প জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত? যুক্তরাজ্যে প্রথমবার দেখা মিলল বিরল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বকের লন্ডনের ছোট্ট বিস্ত্রোই যুক্তরাজ্যের সেরা রেস্তোরাঁ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয় ‘পুরোনো ধারা’ই সাফল্যের চাবিকাঠি জাপানের বিশ্বকাপ স্বপ্ন: প্রত্যাশার ভার নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার মিশনে সামুরাই ব্লু দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা যেসব অঞ্চলে নিয়মিত ব্যস্ততা নয়, সুস্থ বার্ধক্যের আসল চাবিকাঠি জীবনের সঠিক ছন্দ নীরব বিপ্লবের আঘাত: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি নারীদের মধ্যবিত্ত কর্মজীবনের ভিত্তি নাড়িয়ে দেবে? হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৭২)

  • নাঈম হক
  • ০৫:০০:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 121

তিনি তাঁর উপরস্থদেরকে নতুন এই রণ-স্ট্র্যাটেজি বিষয়ে প্রত্যয় সৃষ্টিতে সফল হন না…

জেনারেল স্টিলওয়েলের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের একটি ছিলো- চীন ও বার্মার মধ্যকার দখলকৃত রাস্তাটি যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব করায়ত্ত করা। তাঁর আরেকটি পরিকল্পনা ছিলো ভারতের “লেদো” (আসাম) থেকে বার্মার “লেশিও” পর্যন্ত একটি নতুন রাস্তা তৈরি করা।

জেনারেল স্টিলওয়েল যখন চীন-বার্মা-ভারত থিয়েটারে আসেন, দেখেন যে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিমানবহরের অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল এবং অনারারি লেফটেন্যান্ট জেনারেল) ক্লেয়ার লী চেনল্ট (Claire Lee Chennault) ইত্যবসরেই চিয়াং কাইশেকের “কনফিড্যান্ট” পদে অধিষ্ঠিত।

মেজর জেনারেল ক্লেয়ার লী চেনল্ট।

তাঁর কালে অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন চেনল্ট ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম কসরতবাজ তথা অ্যাক্রব্যাট পাইলট। তিনি প্রবলভাবে- বোমারু বিমান ও স্থল সেনাবাহিনীর যৌথ আক্রমণের পরিবর্তে ফাইটার বিমান ভিত্তিক আক্রমণ পরিচালনার সমর্থন করেন। কিন্তু তিনি তাঁর উপরস্থদেরকে নতুন এই রণ-স্ট্র্যাটেজি বিষয়ে প্রত্যয় সৃষ্টিতে সফল হন না।

তবে রটনা চালু রয়েছে যে মাত্র সাতচল্লিশ বছর বয়সে স্বাস্থ্যগত কারণে ক্যাপ্টেন চেনল্টের অবসর জীবনে চলে যাওয়ার সংবাদ প্রচার হলে মার্কিন সেনাবাহিনী নাকি যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলো। অবশ্য অবসর জীবনে চলে যেতে না যেতেই চিয়াং কাইশেক ক্যাপ্টেন চেনল্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁকে চীনা বিমানবহর বিষয়ক পরামর্শদাতা হিসাবে নিযুক্ত করেন। চীনে এসে চেনল্ট আবিস্কার করেন যে চীনা পাইলটরা অপর্যাপ্তভাবে ট্রেনিংপ্রাপ্ত। তাদেরকে সঠিক ট্রনিং দেয়ার ব্যাপারে তিনি তখন আমেরিকান সরকারের সহায় সমর্থনের শরণাপন্ন হন।

ক্যাপ্টেন চেনল্টের এই আবেদনে যুক্তরাষ্ট্র মহা অস্বস্তিতে পড়ে। কারণ, মহাযুদ্ধ চলাকালীন সেই সময়টায়, দূরপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষতা অবলম্বন করছিলো। কাজেই এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সহায় সমর্থন প্রদানকে জাপানীরা যুক্তরাষ্ট্রের রণাঙ্গণে প্রবেশ হিসাবে গণ্য করতে পারে। তবে যদিও ১৯৪১ সালের এপ্রিল মাসে রাশিয়া ও জাপান নিজেদের মধ্যে নিরপেক্ষতা-চুক্তি সই করেছিলো, রাশিয়া কিন্তু চীনা পাইলটদের ট্রেনিং দিতে পিছপা হয়নি।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৭১)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৭১)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্তানের স্মৃতিতে দাঁড়িয়ে ‘ড্যানি গো!’—শিশুদের নায়ক ড্যানিয়েল কোলম্যানের আনন্দ-শোকের অবিশ্বাস্য গল্প

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৭২)

০৫:০০:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

তিনি তাঁর উপরস্থদেরকে নতুন এই রণ-স্ট্র্যাটেজি বিষয়ে প্রত্যয় সৃষ্টিতে সফল হন না…

জেনারেল স্টিলওয়েলের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের একটি ছিলো- চীন ও বার্মার মধ্যকার দখলকৃত রাস্তাটি যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব করায়ত্ত করা। তাঁর আরেকটি পরিকল্পনা ছিলো ভারতের “লেদো” (আসাম) থেকে বার্মার “লেশিও” পর্যন্ত একটি নতুন রাস্তা তৈরি করা।

জেনারেল স্টিলওয়েল যখন চীন-বার্মা-ভারত থিয়েটারে আসেন, দেখেন যে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিমানবহরের অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল এবং অনারারি লেফটেন্যান্ট জেনারেল) ক্লেয়ার লী চেনল্ট (Claire Lee Chennault) ইত্যবসরেই চিয়াং কাইশেকের “কনফিড্যান্ট” পদে অধিষ্ঠিত।

মেজর জেনারেল ক্লেয়ার লী চেনল্ট।

তাঁর কালে অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন চেনল্ট ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম কসরতবাজ তথা অ্যাক্রব্যাট পাইলট। তিনি প্রবলভাবে- বোমারু বিমান ও স্থল সেনাবাহিনীর যৌথ আক্রমণের পরিবর্তে ফাইটার বিমান ভিত্তিক আক্রমণ পরিচালনার সমর্থন করেন। কিন্তু তিনি তাঁর উপরস্থদেরকে নতুন এই রণ-স্ট্র্যাটেজি বিষয়ে প্রত্যয় সৃষ্টিতে সফল হন না।

তবে রটনা চালু রয়েছে যে মাত্র সাতচল্লিশ বছর বয়সে স্বাস্থ্যগত কারণে ক্যাপ্টেন চেনল্টের অবসর জীবনে চলে যাওয়ার সংবাদ প্রচার হলে মার্কিন সেনাবাহিনী নাকি যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলো। অবশ্য অবসর জীবনে চলে যেতে না যেতেই চিয়াং কাইশেক ক্যাপ্টেন চেনল্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁকে চীনা বিমানবহর বিষয়ক পরামর্শদাতা হিসাবে নিযুক্ত করেন। চীনে এসে চেনল্ট আবিস্কার করেন যে চীনা পাইলটরা অপর্যাপ্তভাবে ট্রেনিংপ্রাপ্ত। তাদেরকে সঠিক ট্রনিং দেয়ার ব্যাপারে তিনি তখন আমেরিকান সরকারের সহায় সমর্থনের শরণাপন্ন হন।

ক্যাপ্টেন চেনল্টের এই আবেদনে যুক্তরাষ্ট্র মহা অস্বস্তিতে পড়ে। কারণ, মহাযুদ্ধ চলাকালীন সেই সময়টায়, দূরপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষতা অবলম্বন করছিলো। কাজেই এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সহায় সমর্থন প্রদানকে জাপানীরা যুক্তরাষ্ট্রের রণাঙ্গণে প্রবেশ হিসাবে গণ্য করতে পারে। তবে যদিও ১৯৪১ সালের এপ্রিল মাসে রাশিয়া ও জাপান নিজেদের মধ্যে নিরপেক্ষতা-চুক্তি সই করেছিলো, রাশিয়া কিন্তু চীনা পাইলটদের ট্রেনিং দিতে পিছপা হয়নি।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৭১)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৭১)