সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০ শতাংশ ভাতা চালুর দাবিতে চলমান আন্দোলন নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বুধবার বিক্ষোভ চলাকালে চার জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, আর আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন—সরকারি আদেশ না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি আসছে।
সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতা চালুর দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে চার জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা এবং আরও একজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত। ঘটনা ঘটে বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে।

আন্দোলনের পেছনের কারণ
দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ ভাতা ও বাড়তি সুবিধার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের বক্তব্য, অন্যান্য দপ্তরের মতো সচিবালয়েও অতিরিক্ত ভাতা চালুর যৌক্তিকতা রয়েছে।
অবরোধ ও প্রতিশ্রুতি
১০ ডিসেম্বর কর্মকর্তারা অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাজের স্থান ঘিরে রেখে প্রায় ৬ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পরে তিনি আশ্বাস দেন—বৃহস্পতিবারের মধ্যে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হবে। তবে সরাসরি আদেশ না পাওয়ায় আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহারে অনিচ্ছুক ছিলেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় উপদেষ্টা সচিবালয় ত্যাগ করেন।
পুলিশি ব্যবস্থা

বিক্ষোভের কারণে সচিবালয় এলাকা, বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাদামতলা অংশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া চার জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সরকার আন্দোলনের প্রতি কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে।
পরিস্থিতির অগ্রগতি
বৃহস্পতিবারও আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সচিবালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন। তারা স্লোগান দিয়ে ২০ শতাংশ ভাতা চালুর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—এ বছরের মধ্যেই যদি সরকারি আদেশ জারি না হয়, তবে আগামী সপ্তাহ থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

• সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০ শতাংশ ভাতা চালুর দাবিতে আন্দোলন করছেন।
• অর্থ উপদেষ্টাকে ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা ঘটে।
• চার জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
• সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
• দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত সরকারি আদেশ জারি হবে কি না, তা-ই এখন আন্দোলনের প্রধান নজর—এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সচিবালয়জুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















