নির্মাতার দুশ্চিন্তা, পথচলার গল্প—এই দুই মিলেই শিন আদাচির নতুন ছবি ‘গুড লাক’ উঠে এসেছে এক আড্ডার মতো, ধীর, মানবিক, মৃদু হাস্যরসের রোডমুভিতে।
নির্মাতার নিজের জীবন থেকে উঠে আসা গল্প
শিন আদাচি বহু বছর ধরে জায়গা খুঁজে ফিরেছিলেন চলচ্চিত্র জগতে। পরে নাট্যকার হিসেবে সফল হলেও তাঁর ভিতরের অনিশ্চয়তা কখনোই পুরোপুরি কাটেনি। নিজের জীবনের টানাপোড়েন তিনি আগেই তুলে ধরেছিলেন ‘আ বেলাভড ওয়াইফ’ ছবিতে। এবার ‘গুড লাক’-এ তিনি আবারও নিজের প্রতিচ্ছবি রেখেছেন প্রধান চরিত্র তারো ইয়োশিয়ামার মধ্যে।
উৎসবে আমন্ত্রণ, কিন্তু দোদুল্যমান নির্মাতা
তারো একটি ব্যক্তিগত প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করে সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন। ওইটায় অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হলে প্রেমিকা তাঁকে উৎসবের পার্টিতে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু তারোর চিরচেনা নেতিবাচক মনোভাব তাকে আবারও পিছিয়ে দেয়।
প্রদর্শনী শেষে সঞ্চালিকা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সে তারোর প্রেমিকাকে ভালো লাগলেও ছবি তাকে আকর্ষণ করেনি। কেন সিনেমা বানান—এই প্রশ্নের উত্তরও তারো দিতে পারেন না।

অদ্ভুত সব মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ
পরের দিন ঘুরতে বেরিয়ে তারো দেখা পান এক রহস্যময়ী নারী মিকির, যে জানায় সে তারো’র ছবি পছন্দ করেছে। এরপর নানা অদ্ভুত নারীর সঙ্গে তারোর দেখা হয়—কারো আচরণ ভূতের মতো, কারো আচরণ বিভ্রান্তিকর। এসবের মাঝে মিকিকে তারো খানিক শান্তি মনে করেন এবং তাদের মধ্যে তৈরি হয় এক অদ্ভুত সংযোগ।
দুজনের এক দিনের দুঃসাহসী যাত্রা
মিকি প্রস্তাব দিলে তারো একদিন একসাথে কাটাতে রাজি হয়ে যান। তাঁরা ঘুরে বেড়ান, নতুন কিছু আবিষ্কার করেন, শেষে গিয়ে একটি ক্যাম্পগ্রাউন্ডে বিশাল বৃক্ষঘরে রাত কাটান। ঠিক তখনই মিকির আকস্মিক আগমন পরিস্থিতিকে করে তোলে খানিক বিব্রত।
যদিও পরিস্থিতি অনেকটা রোমান্টিক কমেডির মতো মনে হতে পারে, তারো-মিকির কেউই প্রেমের দিকে এক পা বাড়ান না। বরং দুজনই খুলে বলেন নিজেদের ভেতরের ভয়। মিকি জানায় সে দীর্ঘ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারে না; আর তারো স্বীকার করেন তাঁর চিরদিনের নিষ্ক্রিয়তা হয়তো তাঁকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।
অদাচির নির্মাণে হাস্যরস, কোমল মানবিকতা
ছবিটির হালকা হাস্যরসের মাঝেও দুর্বলতা, ভয়, এবং মানুষের প্রতি আকর্ষণ—সব মিলিয়ে চরিত্রের ভেতরের গভীরতা ফুটে ওঠে। শিন আদাচি এখানে বাণিজ্যিক ফরম্যাটের বাইরে এসে নিজের অভিজ্ঞতার দুশ্চিন্তাকেই গল্পে বুনেছেন। তিনি নিজেই বলেন, ছবিটি তাঁর নিজের চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্বেগের প্রতিফলন।
শেষ পর্যন্ত ‘গুড লাক’ শুধু এক দিনের ভ্রমণ নয়; এটি একজন নির্মাতার ভেতরের দ্বিধা, নিজের ওপর আস্থা হারানোর ভয় এবং অচেনার সঙ্গে অল্প সময়ের গভীর সংযোগের গল্পও বটে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















