থাইল্যান্ড–কাম্বোডিয়া সীমান্তে টানা সংঘাতের মধ্যে হঠাৎ সংসদ ভেঙে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেশটির রাজনীতিতে নতুন হিসাব–নিকাশ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয়তাবাদী কড়া অবস্থান প্রধানমন্ত্রী আনুটিন চার্নভিরাকুলের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুবিধা আনতে পারে, তবে এই কৌশল কতদূর টিকবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সংঘাতের ছায়ায় আগাম ভোট
সীমান্তে গোলাগুলির গর্জন থামেনি। থাইল্যান্ডের সুরিন প্রদেশে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতেই আনুটিন সংসদ ভেঙে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই ভোটের পথে হাঁটলেন। অনেক নাগরিক বলছেন, আগে সংকট সামাল দেওয়া দরকার ছিল, তবু রাজনৈতিক বাস্তবতায় আগাম ভোট অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

ওয়াশিংটনের ফোনালাপ ও কূটনৈতিক চাপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি পুনর্বহালের আহ্বান উঠে আসে। আনুটিনের দাবি, থাইল্যান্ড শর্ত মানছে, লঙ্ঘন করছে কাম্বোডিয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্য আলোচনা ও সংঘাত সমাধান এক সুতোয় বাঁধা নয় এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা থাইল্যান্ডের আছে।
রাজনৈতিক হিসাব ও ক্ষমতার সমীকরণ
তিন মাসের অন্তর্বর্তী শাসনের পর আনুটিনের এই পদক্ষেপ এসেছে অনাস্থা ভোটের হুমকির মুখে। রাজকীয় অনুমোদনে এখন ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ভোট বাধ্যতামূলক। একসময়ের অস্বাভাবিক সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি সংসদ ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; বিরোধীদের অভিযোগে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের চাপেই সময়ের আগেই সিদ্ধান্ত।
জাতীয়তাবাদী সুরে ভোটের মাঠ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও সেনাবাহিনীকে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার ভাষা রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে। এতে আগের সরকারের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে স্পষ্ট তুলনা টানা সম্ভব হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে এগিয়ে আছে পিপলস পার্টি, আর আনুটিনের দল এখনও পিছিয়ে।
অর্থনীতি, শ্রম ও পর্যটনের চাপ
সংঘাতে সীমান্ত বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও শ্রম সংকট তীব্র হয়েছে। নির্মাণ খাতে কাজ করা বহু কাম্বোডীয় শ্রমিক ফিরে যাওয়ায় ধাক্কা লেগেছে। চীনা পর্যটক ফেরার গতি মন্থর। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বন্যা মোকাবিলায় দুর্বল সাড়া ও প্রতারণা অর্থনীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে ভোটের আগে চ্যালেঞ্জ কম নয়।
মানুষের মনোভাব ও ঝুঁকি
আশ্রয়কেন্দ্রের অনেকেই বলছেন, নেতৃত্ব নির্ধারণের সুযোগকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং সীমান্তে তুলনামূলক দৃঢ় অবস্থান দেখে ভোট বদলানোর ভাবনাও আছে। অন্যদিকে কাম্বোডিয়ার গ্রামগুলোতে আশঙ্কা, থাইল্যান্ডের সেনাশক্তি বাড়লে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। উভয় পাশে প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে—জনপ্রিয়তার খোঁজে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ঝুঁকি বাড়বে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















