০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
 নিকোলাস ওতামেন্দি: এক বিদায়, যা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের একটি যুগের সমাপ্তি ব্রাইটন অধিনায়ক মেইসি সিমন্ডসের সঙ্গে নতুন চুক্তি নর্ডিক ওয়াকিং: হাঁটলেই মিলবে শরীরের প্রায় সব পেশির ব্যায়াম থাইল্যান্ডে ইতালীয় শিক্ষার্থীদের অসদাচরণে তীব্র ক্ষোভ, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইল ইতালির দূতাবাস ৯ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা প্যারিসে তিন নারীকে ছুরিকাঘাত, ‘আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন’ দাবি; তবু সন্ত্রাসবাদ হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স প্রবীণদের ভুলে যাচ্ছে সমাজ, বাড়ছে স্মৃতিভ্রংশের ভয়াবহ বোঝা খাবার নিয়ে ‘খেলা’! মৃত মাছকে আঘাত করে টুকরো টুকরো করছে ঘাতক তিমি ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের বিতর্কে আবারও আলোচনায় রেনে রিচার্ডস পাসওয়ার্ড না জেনেও এআইকে দিয়ে লগইন, বাড়ছে সুবিধার সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি

এক বছরে ২৫৮ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন এক লাখ শ্রমিক: এএফডব্লিউএ

গত এক বছরে দেশে অন্তত ২৫৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে এক লাখের বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। এ পরিস্থিতি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে জানিয়েছে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (এএফডব্লিউএ)।

সংলাপে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন ও বিদ্যমান শ্রম পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের জেন্ডার কর্মকর্তা আমরিন হোসাইন অ্যানি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফৌজিয়া মোসলেম এবং এএফডব্লিউএর বাংলাদেশ প্রতিনিধি আরিফুর রহমান।

প্রযুক্তি, জলবায়ু ও শ্রম সংকটের যৌথ চাপ
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট ও নাজুক শ্রম পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবে তৈরি পোশাক খাত এখন আরও জটিল ও অনিশ্চিত বাস্তবতায় পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং শ্রমিক অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে একীভূত করে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরির ওপর তারা জোর দেন।

একের পর এক কারখানা বন্ধ, বাড়ছে বেকারত্ব

মজুরি ও মুনাফার বৈষম্য
আমরিন হোসাইন অ্যানি বলেন, পোশাক শিল্প থেকে যে পরিমাণ মুনাফা অর্জিত হয়, তার সঙ্গে শ্রমিকদের প্রাপ্ত মজুরির স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের মজুরি এখনও জীবনধারণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপ প্রায়শই শ্রমিকদের ওপরই চাপানো হয়, যার ফলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ও সীমাবদ্ধতা
বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি নারী। নারীদের এই অংশগ্রহণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মস্থল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রবেশাধিকার এখনও সীমিত। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়া, রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা—সব মিলিয়ে খাতটির অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে তিনি জানান।

ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমিক ঐক্যের আহ্বান
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, এই সংকট সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি মানবিক ও জীবনধারণযোগ্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। কোনো শ্রমিকের মজুরি যেন দারিদ্র্যসীমার নিচে না থাকে, সে জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং সব খাতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেন।

সব পক্ষের অংশগ্রহণে সমাধানের তাগিদ
সমাপনী বক্তব্যে শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, শিল্পখাতের সমস্যার সমাধানে শ্রমিক, মালিক ও সরকার—সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি কম মজুরি ও মজুরি বৈষম্যের অবসান এবং কারখানায় স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

 নিকোলাস ওতামেন্দি: এক বিদায়, যা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের একটি যুগের সমাপ্তি

এক বছরে ২৫৮ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন এক লাখ শ্রমিক: এএফডব্লিউএ

০৯:০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

গত এক বছরে দেশে অন্তত ২৫৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে এক লাখের বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। এ পরিস্থিতি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে জানিয়েছে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (এএফডব্লিউএ)।

সংলাপে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন ও বিদ্যমান শ্রম পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের জেন্ডার কর্মকর্তা আমরিন হোসাইন অ্যানি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফৌজিয়া মোসলেম এবং এএফডব্লিউএর বাংলাদেশ প্রতিনিধি আরিফুর রহমান।

প্রযুক্তি, জলবায়ু ও শ্রম সংকটের যৌথ চাপ
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট ও নাজুক শ্রম পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবে তৈরি পোশাক খাত এখন আরও জটিল ও অনিশ্চিত বাস্তবতায় পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং শ্রমিক অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে একীভূত করে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরির ওপর তারা জোর দেন।

একের পর এক কারখানা বন্ধ, বাড়ছে বেকারত্ব

মজুরি ও মুনাফার বৈষম্য
আমরিন হোসাইন অ্যানি বলেন, পোশাক শিল্প থেকে যে পরিমাণ মুনাফা অর্জিত হয়, তার সঙ্গে শ্রমিকদের প্রাপ্ত মজুরির স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের মজুরি এখনও জীবনধারণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপ প্রায়শই শ্রমিকদের ওপরই চাপানো হয়, যার ফলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ও সীমাবদ্ধতা
বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি নারী। নারীদের এই অংশগ্রহণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মস্থল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রবেশাধিকার এখনও সীমিত। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়া, রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা—সব মিলিয়ে খাতটির অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে তিনি জানান।

ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমিক ঐক্যের আহ্বান
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, এই সংকট সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি মানবিক ও জীবনধারণযোগ্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। কোনো শ্রমিকের মজুরি যেন দারিদ্র্যসীমার নিচে না থাকে, সে জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং সব খাতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেন।

সব পক্ষের অংশগ্রহণে সমাধানের তাগিদ
সমাপনী বক্তব্যে শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, শিল্পখাতের সমস্যার সমাধানে শ্রমিক, মালিক ও সরকার—সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি কম মজুরি ও মজুরি বৈষম্যের অবসান এবং কারখানায় স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।