০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্ট কর্মবিরতি রোববার থেকে, নতুন মুরিং টার্মিনাল ইস্যুতে উত্তাল শ্রমিক আন্দোলন হাইতির শেষ প্রহর: সহিংসতার অন্ধকারে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্ধার অভিযান গাজায় শান্তির পথ খুললেও বাস্তবতা অন্ধকার ইরানে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা: রক্তাক্ত দমন-পীড়নে ভেঙে পড়ছে রাষ্ট্রের ভিত সৌদি আরব কেন লাখ লাখ উটকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? জামায়াতের হিন্দু প্রার্থী কি ভোটারদের টানতে পারবেন? তরুণ ভোট, নৌকা সমর্থকসহ যেসব ‘ফ্যাক্টর’ হিসাব পাল্টে দিতে পারে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিলিয়নিয়ার কর নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভাজন, ধনীদের দেশ ছাড়ার আশঙ্কা ভারতের গিগ অর্থনীতির বিস্ফোরণ: অনিশ্চিত শ্রম থেকে আনুষ্ঠানিক সুরক্ষার পথে নতুন বাস্তবতা অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি হামলার পর ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের সফর, সামাজিক সম্প্রীতির বড় পরীক্ষা

এক বছরে ২৫৮ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন এক লাখ শ্রমিক: এএফডব্লিউএ

গত এক বছরে দেশে অন্তত ২৫৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে এক লাখের বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। এ পরিস্থিতি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে জানিয়েছে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (এএফডব্লিউএ)।

সংলাপে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন ও বিদ্যমান শ্রম পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের জেন্ডার কর্মকর্তা আমরিন হোসাইন অ্যানি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফৌজিয়া মোসলেম এবং এএফডব্লিউএর বাংলাদেশ প্রতিনিধি আরিফুর রহমান।

প্রযুক্তি, জলবায়ু ও শ্রম সংকটের যৌথ চাপ
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট ও নাজুক শ্রম পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবে তৈরি পোশাক খাত এখন আরও জটিল ও অনিশ্চিত বাস্তবতায় পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং শ্রমিক অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে একীভূত করে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরির ওপর তারা জোর দেন।

একের পর এক কারখানা বন্ধ, বাড়ছে বেকারত্ব

মজুরি ও মুনাফার বৈষম্য
আমরিন হোসাইন অ্যানি বলেন, পোশাক শিল্প থেকে যে পরিমাণ মুনাফা অর্জিত হয়, তার সঙ্গে শ্রমিকদের প্রাপ্ত মজুরির স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের মজুরি এখনও জীবনধারণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপ প্রায়শই শ্রমিকদের ওপরই চাপানো হয়, যার ফলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ও সীমাবদ্ধতা
বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি নারী। নারীদের এই অংশগ্রহণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মস্থল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রবেশাধিকার এখনও সীমিত। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়া, রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা—সব মিলিয়ে খাতটির অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে তিনি জানান।

ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমিক ঐক্যের আহ্বান
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, এই সংকট সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি মানবিক ও জীবনধারণযোগ্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। কোনো শ্রমিকের মজুরি যেন দারিদ্র্যসীমার নিচে না থাকে, সে জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং সব খাতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেন।

সব পক্ষের অংশগ্রহণে সমাধানের তাগিদ
সমাপনী বক্তব্যে শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, শিল্পখাতের সমস্যার সমাধানে শ্রমিক, মালিক ও সরকার—সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি কম মজুরি ও মজুরি বৈষম্যের অবসান এবং কারখানায় স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্ট কর্মবিরতি রোববার থেকে, নতুন মুরিং টার্মিনাল ইস্যুতে উত্তাল শ্রমিক আন্দোলন

এক বছরে ২৫৮ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন এক লাখ শ্রমিক: এএফডব্লিউএ

০৯:০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

গত এক বছরে দেশে অন্তত ২৫৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে এক লাখের বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। এ পরিস্থিতি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে জানিয়েছে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (এএফডব্লিউএ)।

সংলাপে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন ও বিদ্যমান শ্রম পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের জেন্ডার কর্মকর্তা আমরিন হোসাইন অ্যানি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফৌজিয়া মোসলেম এবং এএফডব্লিউএর বাংলাদেশ প্রতিনিধি আরিফুর রহমান।

প্রযুক্তি, জলবায়ু ও শ্রম সংকটের যৌথ চাপ
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট ও নাজুক শ্রম পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবে তৈরি পোশাক খাত এখন আরও জটিল ও অনিশ্চিত বাস্তবতায় পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং শ্রমিক অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে একীভূত করে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরির ওপর তারা জোর দেন।

একের পর এক কারখানা বন্ধ, বাড়ছে বেকারত্ব

মজুরি ও মুনাফার বৈষম্য
আমরিন হোসাইন অ্যানি বলেন, পোশাক শিল্প থেকে যে পরিমাণ মুনাফা অর্জিত হয়, তার সঙ্গে শ্রমিকদের প্রাপ্ত মজুরির স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের মজুরি এখনও জীবনধারণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপ প্রায়শই শ্রমিকদের ওপরই চাপানো হয়, যার ফলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ও সীমাবদ্ধতা
বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি নারী। নারীদের এই অংশগ্রহণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মস্থল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রবেশাধিকার এখনও সীমিত। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়া, রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা—সব মিলিয়ে খাতটির অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে তিনি জানান।

ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমিক ঐক্যের আহ্বান
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, এই সংকট সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি মানবিক ও জীবনধারণযোগ্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। কোনো শ্রমিকের মজুরি যেন দারিদ্র্যসীমার নিচে না থাকে, সে জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং সব খাতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেন।

সব পক্ষের অংশগ্রহণে সমাধানের তাগিদ
সমাপনী বক্তব্যে শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, শিল্পখাতের সমস্যার সমাধানে শ্রমিক, মালিক ও সরকার—সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি কম মজুরি ও মজুরি বৈষম্যের অবসান এবং কারখানায় স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।