তত্ত্বে গাজা পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। যুদ্ধবিরতির পর নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং সীমান্ত আংশিক খোলার মতো ঘটনাগুলো আশা জাগালেও মাটির বাস্তবতা এখনো গভীর সংকটে আটকে আছে। ঘরে ফেরার স্বপ্ন দেখা মানুষদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা।
রাফাহ সীমান্ত খুললেও স্বস্তি নেই
ফেব্রুয়ারির শুরুতে মিসরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু বাস্তবে খুব অল্পসংখ্যক মানুষ যাতায়াতের সুযোগ পেয়েছে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন হাজার হাজার মানুষের তুলনায় মাত্র কয়েকজন রোগীকে বাইরে যেতে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে গাজায় ফেরার অনুমতিও সীমিত ছিল। সীমান্ত পার হতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, জিজ্ঞাসাবাদ এবং কঠোর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।
মানবিক সংকট আরও তীব্র
যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় বিমান হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। খাদ্য সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সাধারণ খাবার এখনো বিলাসিতার মতো। এক মিলিয়নের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপ বা তাঁবুতে বসবাস করছে, বিদ্যুৎ প্রায় নেই বললেই চলে। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থাগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে, ফলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নতুন প্রশাসন কার্যত অচল
হামাসের পরিবর্তে গাজা পরিচালনার জন্য যে জাতীয় প্রশাসনিক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে, তারা এখনো গাজায় প্রবেশের অনুমতি পায়নি। অর্থায়ন, ব্যাংক হিসাব কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতা—কোনোটিই কার্যকর হয়নি। নেতৃত্বের সদস্যরা কায়রোর একটি হোটেলে অপেক্ষা করছেন। অর্থ প্রবাহ নিয়েও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পুনর্গঠন পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায়
গাজা পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো স্পষ্ট অঙ্গীকার দেয়নি। ফলে পুনর্গঠন পরিকল্পনা কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বাস্তব অগ্রগতি খুব কম।
সহিংসতার চক্র থামেনি
নিরস্ত্রীকরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। একদিকে নিরস্ত্রীকরণের শর্ত, অন্যদিকে অবিশ্বাস—এই দ্বন্দ্বের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ও ঘটছে। সাম্প্রতিক গোলাগুলি ও পাল্টা হামলা আবারও সীমান্ত বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ফলে শান্তির পথ এখনো অনিশ্চিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















