০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র জিন কেটে চিরতরে উচ্চ কোলেস্টেরল দূর করার আশায় বিজ্ঞানীরা

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিলিয়নিয়ার কর নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভাজন, ধনীদের দেশ ছাড়ার আশঙ্কা

ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রস্তাবিত বিলিয়নিয়ার করকে ঘিরে রাজনীতি, অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের অতি ধনী ব্যক্তিদের একাংশ ইতিমধ্যে কম করের রাজ্যে ব্যবসা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্ভাব্য এই কর কেবল রাজস্ব নীতি ই নয়, ভবিষ্যতের জনসেবা ব্যয় এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে ও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

বিলিয়নিয়ার কর প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য

প্রস্তাবিত আইনের অধীনে নির্দিষ্ট সীমার বেশি সম্পদ থাকা বাসিন্দাদের ওপর এককালীন পাঁচ শতাংশ সম্পদ কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশ স্বাস্থ্যসেবায় এবং অবশিষ্ট অংশ শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। সমর্থকদের মতে, কেন্দ্রীয় তহবিল কমে যাওয়ার ফলে যে ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণে এই কর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এখনও এই উদ্যোগ ভোটে তোলার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে না পারলে প্রস্তাবটি এগোবে না। তবুও সম্ভাবনাটাই রাজ্যের ব্যবসায়িক পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

California: Who Pays? 6th Edition – ITEP

ধনীদের দেশত্যাগ ও রাজস্ব ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করছেন, উচ্চ আয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিলে অতি ধনী করদাতারা অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের বড় অংশই শীর্ষ আয়ের মানুষদের কাছ থেকে আসে। ফলে তারা সরে গেলে জনসেবা ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে সংকটে পড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অঙ্গরাজ্য ভিত্তিক সম্পদ কর কার্যকর করা কঠিন, কারণ ধনীরা দেশ ছাড়াই অন্য রাজ্যে স্থানান্তর হয়ে কর এড়াতে পারেন। ইতিমধ্যে অনেক ধনী ব্যক্তি সম্ভাব্য বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আইনজীবী ও হিসাবরক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন বলে ও শোনা যাচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগ

প্রস্তাবিত করের আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো অদৃশ্য বা নগদে রূপান্তরিত না হওয়া সম্পদের ওপর কর আরোপ। বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মতো কাগুজে মূল্যের ওপর কর বসানো হলে উদ্যোক্তাদের জন্য তা বড় চাপ তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

How Much the Top 1% of Californians Pay in Taxes

ডেমোক্র্যাট রাজনীতির ভেতরের মতভেদ

ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ করে সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানোর ধারণা ডেমোক্র্যাট রাজনীতির একটি শক্তিশালী ধারা। অন্যদিকে আরেকটি অংশ মনে করে, বাড়ি নির্মাণ সহজ করা বা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মতো সরবরাহ ভিত্তিক নীতি গ্রহণ করলে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো সম্ভব। এই মতভেদ ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

অঙ্গরাজ্যের নেতৃত্ব ও দ্বিধায় রয়েছে। একদিকে ধনীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে তাদের রাজ্যেই ধরে রাখতে চাওয়ার প্রবণতা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ব্যয় সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক চাপ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিলিয়নিয়ার কর নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভাজন, ধনীদের দেশ ছাড়ার আশঙ্কা

০৩:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রস্তাবিত বিলিয়নিয়ার করকে ঘিরে রাজনীতি, অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের অতি ধনী ব্যক্তিদের একাংশ ইতিমধ্যে কম করের রাজ্যে ব্যবসা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্ভাব্য এই কর কেবল রাজস্ব নীতি ই নয়, ভবিষ্যতের জনসেবা ব্যয় এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে ও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

বিলিয়নিয়ার কর প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য

প্রস্তাবিত আইনের অধীনে নির্দিষ্ট সীমার বেশি সম্পদ থাকা বাসিন্দাদের ওপর এককালীন পাঁচ শতাংশ সম্পদ কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশ স্বাস্থ্যসেবায় এবং অবশিষ্ট অংশ শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। সমর্থকদের মতে, কেন্দ্রীয় তহবিল কমে যাওয়ার ফলে যে ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণে এই কর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এখনও এই উদ্যোগ ভোটে তোলার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে না পারলে প্রস্তাবটি এগোবে না। তবুও সম্ভাবনাটাই রাজ্যের ব্যবসায়িক পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

California: Who Pays? 6th Edition – ITEP

ধনীদের দেশত্যাগ ও রাজস্ব ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করছেন, উচ্চ আয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিলে অতি ধনী করদাতারা অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের বড় অংশই শীর্ষ আয়ের মানুষদের কাছ থেকে আসে। ফলে তারা সরে গেলে জনসেবা ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে সংকটে পড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অঙ্গরাজ্য ভিত্তিক সম্পদ কর কার্যকর করা কঠিন, কারণ ধনীরা দেশ ছাড়াই অন্য রাজ্যে স্থানান্তর হয়ে কর এড়াতে পারেন। ইতিমধ্যে অনেক ধনী ব্যক্তি সম্ভাব্য বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আইনজীবী ও হিসাবরক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন বলে ও শোনা যাচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগ

প্রস্তাবিত করের আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো অদৃশ্য বা নগদে রূপান্তরিত না হওয়া সম্পদের ওপর কর আরোপ। বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মতো কাগুজে মূল্যের ওপর কর বসানো হলে উদ্যোক্তাদের জন্য তা বড় চাপ তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

How Much the Top 1% of Californians Pay in Taxes

ডেমোক্র্যাট রাজনীতির ভেতরের মতভেদ

ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ করে সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানোর ধারণা ডেমোক্র্যাট রাজনীতির একটি শক্তিশালী ধারা। অন্যদিকে আরেকটি অংশ মনে করে, বাড়ি নির্মাণ সহজ করা বা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মতো সরবরাহ ভিত্তিক নীতি গ্রহণ করলে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো সম্ভব। এই মতভেদ ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

অঙ্গরাজ্যের নেতৃত্ব ও দ্বিধায় রয়েছে। একদিকে ধনীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে তাদের রাজ্যেই ধরে রাখতে চাওয়ার প্রবণতা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ব্যয় সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক চাপ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।