ভারতের শহুরে জীবনে দ্রুত সেবা পাওয়ার অভ্যাস এখন দৈনন্দিন বাস্তবতা। খাবার থেকে শুরু করে উৎসবের নাস্তা, নতুন ফোন কিংবা একটি সাবান—সবই কয়েক মিনিটে দরজায় পৌঁছে যাচ্ছে। এই দ্রুততার পেছনে রয়েছে বিপুল সংখ্যক স্বল্প আয়ের গিগ শ্রমিকের শ্রম, যাদের ওপর নির্ভর করে দেশটির ডেলিভারি নির্ভর অর্থনীতি দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে।
দ্রুত বিস্তারের আড়ালে শ্রম বাস্তবতা
সরকারি নীতি নির্ধারণী সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েক বছরের মধ্যেই ভারতের গিগ শ্রমিকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু এই সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ডেলিভারি কর্মীদের কাজের পরিবেশ, আয় এবং নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় বিতর্ক ও তীব্র হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ, প্রতিবাদ এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কম আয়, জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এবং অ্যালগরিদম ভিত্তিক কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। অনেক শ্রমিক নিরাপদ পরিবেশ, ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা দাবি করে আন্দোলনে ও নেমেছেন।

তবু কেন আকর্ষণ হারায় না গিগ কাজ
সমালোচনা সত্ত্বেও নতুন গবেষণা বলছে, গিগ কাজ সবসময় হতাশার চিত্র নয়। অধিকাংশ ডেলিভারি কর্মী স্থায়ী চাকরি ছেড়ে নয়, বরং অনানুষ্ঠানিক কাজের জগৎ থেকেই এই খাতে আসেন। পরবর্তীতে তাদের বড় অংশই আনুষ্ঠানিক চাকরির দিকে অগ্রসর হন। গড়ে তরুণ পুরুষ খণ্ডকালীন কর্মীরা গিগ কাজকে উন্নত সুযোগের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করছেন। এমনকি পূর্ণকালীন ডেলিভারি কর্মীদের মাসিক আয় অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ অস্থায়ী শ্রমের চেয়ে বেশি।
অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
পশ্চিমা বিশ্বে গিগ কাজকে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণহীন নমনীয়তার প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও ভারতের বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ আগে থেকেই অনানুষ্ঠানিক শ্রমে যুক্ত। ফলে গিগ অর্থনীতির বিস্তার উল্টোভাবে শ্রমিক সুরক্ষা ও আইনি স্বীকৃতির আলোচনা সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক শ্রম আইন ডিজিটাল গিগ কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করার পথ খুলে দিয়েছে। এমনকি দ্রুত ডেলিভারির ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিশ্রুতি কমানোর নির্দেশ ও এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে।

প্রবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও শিক্ষিত তরুণদের দ্বন্দ্ব
ভারত বড় অর্থনীতি গুলোর মধ্যে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও বিপুল সংখ্যক তরুণকে কর্মসংস্থানে যুক্ত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষিতদের একটি বড় অংশ বেকার, অথচ কম শিক্ষিতরা অনানুষ্ঠানিক খাতে সহজে কাজ পাচ্ছেন। গবেষণায় দেখা যায়, অনেক ডেলিভারি কর্মীরই উচ্চশিক্ষা রয়েছে, কারণ এই খাতে প্রবেশের বাধা কম এবং দ্রুত আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে চালকের যোগ্যতা যাচাইয়ের ঘাটতি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















