০২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
রপ্তানি কম, আমদানি বেশি: বাংলাদেশের বহিঃখাতে চাপ বাড়ছে কেন ট্রাম্পের অস্থির কৌশল নিয়ে বেইজিংয়ের চিন্তা, শি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক হিসাব চীনের ইউয়ান লেনদেনে রেকর্ড, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন গতি দিল হরমুজ প্রণালিতে টোল নিয়ে নতুন ভাবনা, ফি বা চীনা টোকেনে নিষ্পত্তির প্রস্তাব এক কিশোরের বেঁচে ওঠার গল্প অভিজাত স্কুলের একাকিত্ব থেকে ইমোর ভিড়ে— সার উৎপাদনে গতি ফিরিয়ে আনতে বড় পদক্ষেপ, কৃষি ও শিল্প খাতে বাড়ানো হলো বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ কেরালার ভোটে লম্বা লাইন, নীরব বার্তা আর তৃতীয় মেয়াদের কঠিন পরীক্ষা গ্লোবাল ভিলেজ কবে খুলবে, এখনো নেই নিশ্চিত তারিখ ফুয়েল পাসে ঢাকার দুই পাম্পে জ্বালানি বিক্রি শুরু পরীক্ষামূলকভাবে শ্রম আইন সংশোধনী পাস, ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারে বড় পরিবর্তন

বিজ্ঞান রক্ষায় কংগ্রেসের লড়াই, থামেনি ট্রাম্প যুগের চাপ

২০২৫ সালজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী সমাজ গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটিয়েছে। বিপুলসংখ্যক গবেষণা অনুদান বাতিল, বিলিয়ন ডলার আটকে দেওয়া এবং অর্থসংকটে গবেষণাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সিদ্ধান্তে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি বড় ধাক্কা খায়। বিদেশি গবেষকদের আগ্রহ কমে যায়, আবার বহু মার্কিন বিজ্ঞানী বিদেশে কাজ খোঁজার চিন্তায় পড়ে। এর মধ্যেই ২০২৬ সালের বাজেট প্রস্তাবে প্রধান বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলোর অর্থ অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।

কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত প্রতিরোধ

এই চাপের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে বিরল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। প্রস্তাবিত প্রায় ত্রিশ বিলিয়ন ডলার কাটছাঁট প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ব্যয়ের আইনে এমন ভাষা যুক্ত করা হয় যাতে প্রশাসন ইচ্ছামতো অর্থ ব্যবহার করতে না পারে। এতে আইনপ্রণেতারা অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সাংবিধানিক ক্ষমতা নতুন করে প্রয়োগের ইঙ্গিত দেন।

তৃতীয়বারের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার জল্পনা উস্কে দিলেন ট্রাম্প

গবেষণা বাজেট রক্ষার লড়াই

প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব কার্যকর হলে স্বাস্থ্য গবেষণার প্রধান প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো বড় ধাক্কা খেত। কিন্তু কংগ্রেস সংস্থার কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখে এবং সামান্য বাজেট বাড়ায়। একইভাবে জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং জ্বালানি বিভাগের বিজ্ঞান দপ্তরের অর্থায়নও আগের বছরের কাছাকাছি রাখা হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা হঠাৎ ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা পায়।

আইনের ভেতরে কঠোর নির্দেশনা

শুধু বাজেট রক্ষা নয়, অর্থ ব্যয়ের সময় ও পদ্ধতি আইনের মধ্যেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আগে এসব নির্দেশনা ব্যাখ্যামূলক নথিতে থাকলেও এখন তা বাধ্যতামূলক বিধানে রূপ পেয়েছে। এতে প্রশাসনের জন্য অর্থ আটকে রাখা বা অন্যভাবে ব্যবহার করার সুযোগ কমে গেছে।

Federal Science Advisory Committees Are Being Defunded and Dismantled.  Here's a Toolkit to Help Independent Scientists Step Up - Union of  Concerned Scientists

বিজ্ঞান নীতিতে হস্তক্ষেপের প্রভাব

গত এক বছরে ফেডারেল বিজ্ঞান সংস্থাগুলোতে কর্মীসংখ্যা কমেছে এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ কমিটিগুলোর কাজ স্থগিত বা পরিবর্তন করা হয়েছে। অনুদান মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে বিতর্কিত হয়েছে। এর বাস্তব প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। শিশুদের নিয়মিত টিকা তালিকা হঠাৎ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হতে পারে।

পর্যবেক্ষণ জোরদারের আহ্বান

এ পরিস্থিতিতে সিনেটের উচিত স্বাস্থ্য বিভাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক কমিটি ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে তদারক করা। বিজ্ঞান গবেষণা ও জনস্বার্থ রক্ষায় কংগ্রেসের এই ভূমিকা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি কম, আমদানি বেশি: বাংলাদেশের বহিঃখাতে চাপ বাড়ছে কেন

বিজ্ঞান রক্ষায় কংগ্রেসের লড়াই, থামেনি ট্রাম্প যুগের চাপ

০৩:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৫ সালজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী সমাজ গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটিয়েছে। বিপুলসংখ্যক গবেষণা অনুদান বাতিল, বিলিয়ন ডলার আটকে দেওয়া এবং অর্থসংকটে গবেষণাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সিদ্ধান্তে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি বড় ধাক্কা খায়। বিদেশি গবেষকদের আগ্রহ কমে যায়, আবার বহু মার্কিন বিজ্ঞানী বিদেশে কাজ খোঁজার চিন্তায় পড়ে। এর মধ্যেই ২০২৬ সালের বাজেট প্রস্তাবে প্রধান বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলোর অর্থ অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।

কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত প্রতিরোধ

এই চাপের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে বিরল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। প্রস্তাবিত প্রায় ত্রিশ বিলিয়ন ডলার কাটছাঁট প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ব্যয়ের আইনে এমন ভাষা যুক্ত করা হয় যাতে প্রশাসন ইচ্ছামতো অর্থ ব্যবহার করতে না পারে। এতে আইনপ্রণেতারা অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সাংবিধানিক ক্ষমতা নতুন করে প্রয়োগের ইঙ্গিত দেন।

তৃতীয়বারের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার জল্পনা উস্কে দিলেন ট্রাম্প

গবেষণা বাজেট রক্ষার লড়াই

প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব কার্যকর হলে স্বাস্থ্য গবেষণার প্রধান প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো বড় ধাক্কা খেত। কিন্তু কংগ্রেস সংস্থার কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখে এবং সামান্য বাজেট বাড়ায়। একইভাবে জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং জ্বালানি বিভাগের বিজ্ঞান দপ্তরের অর্থায়নও আগের বছরের কাছাকাছি রাখা হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা হঠাৎ ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা পায়।

আইনের ভেতরে কঠোর নির্দেশনা

শুধু বাজেট রক্ষা নয়, অর্থ ব্যয়ের সময় ও পদ্ধতি আইনের মধ্যেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আগে এসব নির্দেশনা ব্যাখ্যামূলক নথিতে থাকলেও এখন তা বাধ্যতামূলক বিধানে রূপ পেয়েছে। এতে প্রশাসনের জন্য অর্থ আটকে রাখা বা অন্যভাবে ব্যবহার করার সুযোগ কমে গেছে।

Federal Science Advisory Committees Are Being Defunded and Dismantled.  Here's a Toolkit to Help Independent Scientists Step Up - Union of  Concerned Scientists

বিজ্ঞান নীতিতে হস্তক্ষেপের প্রভাব

গত এক বছরে ফেডারেল বিজ্ঞান সংস্থাগুলোতে কর্মীসংখ্যা কমেছে এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ কমিটিগুলোর কাজ স্থগিত বা পরিবর্তন করা হয়েছে। অনুদান মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে বিতর্কিত হয়েছে। এর বাস্তব প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। শিশুদের নিয়মিত টিকা তালিকা হঠাৎ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হতে পারে।

পর্যবেক্ষণ জোরদারের আহ্বান

এ পরিস্থিতিতে সিনেটের উচিত স্বাস্থ্য বিভাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক কমিটি ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে তদারক করা। বিজ্ঞান গবেষণা ও জনস্বার্থ রক্ষায় কংগ্রেসের এই ভূমিকা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।