বন্ডি সমুদ্রসৈকতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ক্ষত এখনও শুকায়নি। এর মধ্যেই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের অস্ট্রেলিয়া সফর দেশটির সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতাদের আমন্ত্রণে ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশটিতে পৌঁছে সরাসরি বন্ডি এলাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সফরের বিস্তারিত প্রকাশ করা না হলেও পর্যবেক্ষকদের মতে, সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে উঠেছে।
ইহুদি সম্প্রদায়ের শোক ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার পর ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বন্ডির এক তরুণ ইহুদি জানিয়েছে, সে আর নিজেকে নিরাপদ মনে করছে না এবং দেশ ছাড়ার কথা ও ভাবছে। আবার অনেকে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি নতুন করে আকৃষ্ট হচ্ছে। ধর্মীয় নেতারা বলছেন, এই সংকট মানুষকে বিশ্বাস ও পরিচয়ের দিকে ফিরিয়ে নিচ্ছে।
প্রতিবাদ নিষেধাজ্ঞা ও আইনি বিতর্ক
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান ক্রিস মিনস জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শোকাহত সম্প্রদায়কে সহায়তা দিতে সিডনির বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। বন্ডি হামলার পর দ্রুত পাস হওয়া নতুন আইনে সন্ত্রাসী ঘটনার পর নব্বই দিন পর্যন্ত বিক্ষোভ বন্ধ রাখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে, শুনানি হবে প্রেসিডেন্টের সফরের পর। তবু এক প্রো-প্যালেস্টাইন গোষ্ঠী পার্লামেন্ট ভবনের দিকে মিছিল করার পরিকল্পনা করেছে, ফলে সম্ভাব্য সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রাজনৈতিক চাপ ও বিভক্ত সংসদ
রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের রাজনীতিকদের মধ্যে ও মতভেদ স্পষ্ট। শাসক দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যই মিছিলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আবার ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট হারজগের বিতর্কিত একটি ঘটনার উল্লেখ করে সফরের আমন্ত্রণ নিয়ে ও প্রশ্ন উঠছে। ফলে সফরটি শুধু কূটনৈতিক নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরীক্ষায়ও পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য কঠিন সময়
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবার নিজের জন্য সফরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বন্ডির স্মরণসভায় তাকে বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছিল, আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের সঙ্গে হামলাকে যুক্ত করে সমালোচনা করেছিলেন। সফর শান্তিপূর্ণ হলে ইহুদি সম্প্রদায়ের আস্থা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে, আর বিশৃঙ্খলা হলে রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে।
বিরোধী জোটে ভাঙন ও সামাজিক উত্তেজনা
হামলার পর নতুন আইন নিয়ে মতভেদের কারণে মধ্য-ডানপন্থী বিরোধী জোটে ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনমত জরিপে ডানপন্থী জনপ্রিয়তাবাদী শক্তির উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গাজা সংঘাত ও বন্ডি হামলাকে ঘিরে আবেগঘন বিতর্ক অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সংহতিকে চাপের মুখে ফেলেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল সতর্ক করে বলেছেন, বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি যুদ্ধের প্রতিফলন ঘটতে দেওয়া যায় না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















