জাপানের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে ছিল একমুখী সড়কের মতো। অধিকাংশ ক্ষমতা ঘুরে বেড়াত দীর্ঘদিনের শাসক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চারপাশে, আর অসন্তুষ্টদের স্রোত যেত বামপন্থার দিকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলাচ্ছে দ্রুত। এখন দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্র অনেকটাই টোকিওর ব্যস্ত শিবুয়া মোড়ের মতো, যেখানে নতুন নতুন দল ভিন্ন ভিন্ন পথে ছুটে চলেছে এবং পুরোনো সমীকরণ ভেঙে দিচ্ছে।
নতুন দলের উত্থানে বদলাচ্ছে সমীকরণ
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রধান দশটি দলের মধ্যে মাত্র তিনটির অস্তিত্ব ছিল ২০১২ সালের আগে। একটি আবার পুরোনো দুটি দলের সাম্প্রতিক জোট। এই পরিবর্তন শুধু সংখ্যায় নয়, রাজনীতির চরিত্রেও বড় রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শিবুয়া এলাকাতেই সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নতুন দলের নেতা সমাবেশ করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা জনমনে পরিবর্তনের চাহিদার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনসংখ্যা সংকট ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিশ্রুতি
জাপানের দ্রুত কমে যাওয়া ও বার্ধক্যের দিকে ধাবিত জনসংখ্যা নিয়ে নতুন দলগুলোর উদ্বেগ এক হলেও সমাধানের পথ একেবারেই আলাদা। কেউ বড় কর ছাড়ের মাধ্যমে আশঙ্কাগ্রস্ত প্রজন্মকে আশাবাদী করতে চান। কেউ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট ও স্বয়ংচালিত যান ব্যবহারের গতি বাড়িয়ে শ্রম সংকট কাটানোর কথা বলছেন। আবার কেউ অভিবাসনবিরোধী অবস্থান জোরদার করে অতীতের বিচ্ছিন্নতাবাদী স্থিতিশীলতার আদর্শ সামনে আনছেন। ফলে একই সমস্যার ভিন্ন দর্শন রাজনীতিকে আরও বহুমুখী করে তুলছে।
ছোট দল, তবু বাড়ছে প্রভাব
নতুন দলগুলোর আসনসংখ্যা এখনো সীমিত। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দক্ষতা এবং কৌশলগত সমঝোতার মাধ্যমে তারা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। কেউ শাসক জোটের অংশ হয়েছে, কেউ করনীতিতে প্রভাব ফেলেছে, আবার কেউ অভিবাসন প্রশ্নকে জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ফলে ক্ষমতায় না গিয়েও এগিয়ে থাকা এখন তাদের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাপানের রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
সব মিলিয়ে নতুন দলগুলোর উত্থান দেখাচ্ছে যে জাপানের রাজনীতি আর আগের মতো স্থির নয়। সমাজের ভেতরের উদ্বেগ, অর্থনৈতিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা মিলেই তৈরি করছে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। এই প্রবণতা টিকে থাকলে দেশটির ক্ষমতার সমীকরণে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















