রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে সোমবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড শুনানিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তাকে নির্দিষ্ট কোনো দলের অনুগত বানানোর চেষ্টা যাদের আছে, সেটি তাদের নিজস্ব সমস্যা। তার দাবি, ড. ইউনূস যদি চান, সারা বাংলাদেশকেই কারাগারে পরিণত করতে পারেন।
রিমান্ড চেয়ে পুলিশের আবেদন
এই মামলায় পুলিশ আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদনটি করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান। বিকাল পাঁচটা আট মিনিটের দিকে আনিস আলমগীরকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
আদালতে আনিস আলমগীরের বক্তব্য
আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আনিস আলমগীর বলেন, তিনি একজন সাংবাদিক এবং দীর্ঘ দুই যুগ ধরে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে আসছেন। তার কাজ কারও কাছে নতজানু হওয়া নয়। তিনি জানান, তার সব বক্তব্য প্রকাশ্য, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে গোপন বা অপ্রকাশিত কিছু নেই।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে হামলার প্রসঙ্গ এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। তার মতে, এমন রাজনীতি শেষ পর্যন্ত ফিরে আসে। জুলাইয়ের চেতনা কীভাবে বিস্তৃত হতে পারে, সে বিষয়েও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। এসব বক্তব্যে তার কোনো ভুল কোথায় হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও আদালতে জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে কোনো সংগঠনের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র নেই।
গ্রেপ্তারের আগের ঘটনা
রোববার সন্ধ্যার পর আনিস আলমগীরকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে জানানো হয়, ডিবিপ্রধান তার সঙ্গে কথা বলবেন।
ডিবির বক্তব্য
সোমবার বিকাল তিনটা চল্লিশ মিনিটের দিকে ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার পটভূমি
পরে জানা যায়, ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ রোববার রাত দুইটার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















