০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
দর্পণের সামনে নিজেই আলোকচিত্রী: দুবাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর নতুন আত্মপ্রতিকৃতি অভিজ্ঞতা কিনলিং পর্বতমালার নিষিদ্ধ আওতাই ট্রেইল অনুসন্ধান সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্বতারোহণ প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঐতিহাসিক সাফল্য চীনের অর্থনীতি, জিডিপি ছুঁল ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বাড়ির আঙিনায় সবার জন্য সবজি বাগান, দুবাইয়ে এক আমিরাতির নীরব মানবিক বিপ্লব শীতের গভীরে বেইজিংয়ে বছরের প্রথম তুষারপাত, সাদা চাদরে ঢাকল নগরীর ঐতিহাসিক উদ্যান চীনা সংস্কৃতির উত্থান: বৈশ্বিক ধারণার উপর নরম শক্তির প্রভাব চীনে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ধস, বরফ ঝড়ে বন্ধ স্কুল, জারি জরুরি ব্যবস্থা দুই পুরুষ পান্ডার মিলন গুজব ছড়িয়ে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি, চেংদুতে ভুয়া খবরের পর্দাফাঁস শ্রীলঙ্কার দাবি: বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেগুনি তারকা নীলা উন্মোচন উত্তর চীনের বিরল ধাতু ইস্পাত কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৯

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, অর্থনীতি নিয়ে অস্বস্তিতে হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আবারও নিম্নমুখী। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, তার কাজের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ঊনচল্লিশ শতাংশে। অর্থনীতি সামলাতে ব্যর্থতার অভিযোগই এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।

জনমত জরিপে কী উঠে এলো
রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ঊনচল্লিশ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। ডিসেম্বরের শুরুতে এই হার ছিল একচল্লিশ শতাংশ। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তার জনপ্রিয়তা নেমেছিল আটত্রিশ শতাংশে, যা চলতি বছরে ছিল সর্বনিম্নের কাছাকাছি। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার সময় তার সমর্থন ছিল সাতচল্লিশ শতাংশ, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সমর্থন গলে যেতে শুরু করে।

অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে চাপ
জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখছেন মাত্র তেত্রিশ শতাংশ মানুষ। এটি চলতি বছরে এই বিষয়ে তার সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহে ব্যাঘাত ঘটে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিতে পিছিয়ে যাচ্ছেন, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে এক ধরনের ধাক্কা তৈরি করেছে।

রিপাবলিকানদের মনোভাব বদলাচ্ছে
ট্রাম্প এখনো রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন ধরে রেখেছেন। জরিপ অনুযায়ী, তার সামগ্রিক কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পঁচাশি শতাংশ রিপাবলিকান। তবে অর্থনীতি পরিচালনায় তাকে ভালো করছেন বলে মনে করেন এমন রিপাবলিকানের হার নেমে এসেছে বাহাত্তর শতাংশে, যা মাসের শুরুতে ছিল আটাত্তর শতাংশ। এই পরিবর্তন হোয়াইট হাউসের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব
গত নির্বাচনে অর্থনীতি ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরেছিলেন। আগের প্রশাসনের সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে নাজেহাল হয়েছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু ট্রাম্পের শাসনামলেও মূল্যস্ফীতি প্রায় তিন শতাংশের কাছাকাছি রয়ে গেছে, যা নীতিনির্ধারকদের কাঙ্ক্ষিত দুই শতাংশের চেয়ে বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র সাতাশ শতাংশে, যা ডিসেম্বরের শুরুতে ছিল একত্রিশ শতাংশ।

জরিপের পদ্ধতি
অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে সারা দেশ থেকে এক হাজার ষোল জন অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির মাত্রা ছিল তিন শতাংশের মধ্যে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দর্পণের সামনে নিজেই আলোকচিত্রী: দুবাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর নতুন আত্মপ্রতিকৃতি অভিজ্ঞতা

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, অর্থনীতি নিয়ে অস্বস্তিতে হোয়াইট হাউস

১১:৩৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আবারও নিম্নমুখী। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, তার কাজের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ঊনচল্লিশ শতাংশে। অর্থনীতি সামলাতে ব্যর্থতার অভিযোগই এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।

জনমত জরিপে কী উঠে এলো
রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ঊনচল্লিশ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। ডিসেম্বরের শুরুতে এই হার ছিল একচল্লিশ শতাংশ। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তার জনপ্রিয়তা নেমেছিল আটত্রিশ শতাংশে, যা চলতি বছরে ছিল সর্বনিম্নের কাছাকাছি। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার সময় তার সমর্থন ছিল সাতচল্লিশ শতাংশ, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সমর্থন গলে যেতে শুরু করে।

অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে চাপ
জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখছেন মাত্র তেত্রিশ শতাংশ মানুষ। এটি চলতি বছরে এই বিষয়ে তার সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহে ব্যাঘাত ঘটে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিতে পিছিয়ে যাচ্ছেন, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে এক ধরনের ধাক্কা তৈরি করেছে।

রিপাবলিকানদের মনোভাব বদলাচ্ছে
ট্রাম্প এখনো রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন ধরে রেখেছেন। জরিপ অনুযায়ী, তার সামগ্রিক কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পঁচাশি শতাংশ রিপাবলিকান। তবে অর্থনীতি পরিচালনায় তাকে ভালো করছেন বলে মনে করেন এমন রিপাবলিকানের হার নেমে এসেছে বাহাত্তর শতাংশে, যা মাসের শুরুতে ছিল আটাত্তর শতাংশ। এই পরিবর্তন হোয়াইট হাউসের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব
গত নির্বাচনে অর্থনীতি ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরেছিলেন। আগের প্রশাসনের সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে নাজেহাল হয়েছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু ট্রাম্পের শাসনামলেও মূল্যস্ফীতি প্রায় তিন শতাংশের কাছাকাছি রয়ে গেছে, যা নীতিনির্ধারকদের কাঙ্ক্ষিত দুই শতাংশের চেয়ে বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র সাতাশ শতাংশে, যা ডিসেম্বরের শুরুতে ছিল একত্রিশ শতাংশ।

জরিপের পদ্ধতি
অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে সারা দেশ থেকে এক হাজার ষোল জন অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির মাত্রা ছিল তিন শতাংশের মধ্যে।