পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষমতাধর সেনাপ্রধানদের একজন হিসেবে উঠে আসা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন এক জটিল আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া চাপে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা পরিকল্পনায় পাকিস্তানের সেনা পাঠানোর চাপ তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যেমন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণ করবে, তেমনি দেশের ভেতর বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও কূটনৈতিক চাপ
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আসিম মুনির আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে গাজা পরিকল্পনাই মূল আলোচ্য হবে। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য মুসলিম দেশগুলোর সেনা নিয়ে একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব হবে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া তদারকি করা।
গত কয়েক মাসে মুনির ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। জুনে হোয়াইট হাউসে একান্ত মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ পাওয়া ছিল সেই সম্পর্কের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে পাকিস্তানের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত করা।
সেনা পাঠালে ভেতরের ঝুঁকি
পাকিস্তান একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং তাদের সেনাবাহিনী দীর্ঘ যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযানে অভিজ্ঞ। তবু গাজায় সেনা পাঠানো হলে দেশে ইসলামপন্থী দলগুলোর তীব্র প্রতিবাদ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব দল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী মনোভাব নিয়ে রাস্তায় নামার শক্তি রাখে।

সম্প্রতি এক কট্টর ইসলামপন্থী দলকে নিষিদ্ধ করা হলেও তাদের আদর্শ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক গোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাপ্রধানের সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ। ফলে গাজায় সেনা মোতায়েন হলে একে অনেকেই ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান হিসেবে তুলে ধরতে পারে, যা দ্রুত অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
অভূতপূর্ব ক্ষমতা ও সিদ্ধান্তের ভার
সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনের ফলে আসিম মুনির বিমান ও নৌবাহিনীর ওপরও নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন এবং তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আজীবন বিচারিক সুরক্ষা ভোগ করবেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ক্ষমতা তাঁকে ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ দিলেও সেই ঝুঁকির ফলাফল সামলানোর দায়িত্বও তাঁর কাঁধেই পড়বে।
আঞ্চলিক পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ
গাজা বাহিনী নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে মুনির সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডান, মিসর ও কাতারের সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব যোগাযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি আঞ্চলিক মতামত বিবেচনায় নিচ্ছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাই হোক, তা পাকিস্তানের বৈদেশিক নীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
#পাকিস্তান #আসিমমুনির #গাজা #যুক্তরাষ্ট্র #ডোনাল্ডট্রাম্প #মধ্যপ্রাচ্য #আন্তর্জাতিকরাজনীতি
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















