মার্কিন কোস্ট গার্ডের জাহাজ জব্দের ঘটনার পর ভেনিজুয়েলার তেল রপ্তানিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিএস এর কাছে এখন বড় অঙ্কের মূল্যছাড় এবং চুক্তির শর্ত বদলের দাবি তুলছে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা। এর প্রভাব পড়েছে মূলত চীনা বাজারে, যেখানে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।
চুক্তির শর্ত বদলের চাপ
বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাহাজ জব্দের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা আগের চুক্তি অনুযায়ী তেল নিতে চাইছে না। তারা মূল্যছাড় বাড়ানোর পাশাপাশি পরিশোধের শর্ত শিথিল করা, দেরিতে পণ্য খালাসের ক্ষতিপূরণ এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা ধারা যুক্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছে। এর ফলে পিডিভিএসএর জন্য চুক্তি বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
চীনে তেলের দাম আরও কমছে
ভেনেজুয়েলার ভারী ক্রুড তেলের ওপর চীনে দেওয়া ছাড় সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি বড় অঙ্কের ছাড়ে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে, কারণ একই বাজারে রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশ থেকেও কম দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভেনেজুয়েলাকে আরও ছাড় দিতে হচ্ছে।

জাহাজ আটকে পড়া ও রপ্তানি অনিশ্চয়তা
একাধিক তেলবাহী জাহাজ ভেনিজুয়েলার উপকূলে অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। কিছু জাহাজ মাঝপথে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। যদি নতুন শর্তে সমঝোতা না হয়, তাহলে আরও জাহাজ আটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে চীনে ভেনিজুয়েলার তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।
সাইবার হামলায় বাড়তি সংকট
এর মধ্যেই পিডিএস এর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। সাময়িকভাবে কিছু টার্মিনাল থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে, যা রপ্তানির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। সরকার দাবি করছে, এসব বাধা সত্ত্বেও উৎপাদন ও রপ্তানি চালু থাকবে।
#VenezuelaOil #PDVSA #GlobalOilMarket #ChinaEnergy #OilSanctions #EnergyCrisis
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















