১০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা “চাবিটি হারিয়ে গেছে” হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি কৌশলগত চাপ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম পোপাইসের বেইজিংয়ে প্রত্যাবর্তন, ২৪ বছর পর নতুন করে চীনা বাজারে জোরালো উপস্থিতি ট্রাম্পের ‘আনুগত্য পরীক্ষা’ কি ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে? কুষ্টিয়ার স্কুলে অচেতন অবস্থায় ছাত্রী উদ্ধার, যৌন নির্যাতনের আশঙ্কা শি–চেং বৈঠকে নতুন সমীকরণ, তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত

ইউরোপের কাছে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে ইউক্রেন—আলোচনায় বিভাজন স্পষ্ট

কাগুজে আশ্বাস নয়, কার্যকর নিরাপত্তার দাবি
ইউক্রেন ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি জোরালো করছে, ঠিক এমন সময় যখন যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক তৎপরতা দ্রুত বাড়ছে। কিয়েভের আশঙ্কা—তড়িঘড়ি সমঝোতা হলে বাস্তব সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হতে পারে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া কোনো চুক্তি ভবিষ্যৎ আগ্রাসন ঠেকাতে পারবে না এবং ইউরোপের পূর্ব সীমান্তকেও অস্থিতিশীল করে রাখবে।
এই আলোচনার কেন্দ্রে আছে—যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমে গেলে ইউরোপ কতটা এগোতে প্রস্তুত। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহায়তা, যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে কী প্রতিক্রিয়া হবে—এসব নিয়ে ভাবনা চলছে। ইউক্রেন বলছে, অতীত চুক্তির বারবার ভাঙনের অভিজ্ঞতার পর শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি আর যথেষ্ট নয়।
তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান এক নয়। কেউ কেউ ইউক্রেনকে মহাদেশীয় নিরাপত্তার প্রথম সারি হিসেবে দেখছে এবং গভীর সম্পৃক্ততায় আগ্রহী। অন্যরা আইনি সীমাবদ্ধতা, ঘরোয়া রাজনীতি, এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে কিয়েভকে আশ্বস্ত করা আর বাস্তবায়নযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খোঁজা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বনাম জোটে যোগদান
ইউক্রেন এখনও চায় ন্যাটো সদস্যপদ বা সমমানের কোনো কাঠামো। কিন্তু ইউরোপীয় কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, আনুষ্ঠানিক জোট সম্প্রসারণ এখনই সম্ভব নয়। সেই বাস্তবতা থেকে অন্তর্বর্তী সমাধানের কথা উঠছে—যা পূর্ণ সদস্যপদের মতো না হলেও কিছুটা সমষ্টিগত প্রতিরক্ষার অনুভূতি দেবে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আছে দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, এবং ইউক্রেনের ভেতরে স্থায়ী প্রশিক্ষণ মিশন। সমর্থকদের মতে, এতে ভবিষ্যৎ আক্রমণের মূল্য বাড়বে। সমালোচকেরা বলছেন, এগুলো এখনও স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষার সমান নয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ধূসর অঞ্চল তৈরি করতে পারে।
এই বিতর্ক আসলে ইউরোপের বড় প্রশ্নের অংশ—নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার সক্ষমতা কি তারা গড়ে তুলতে পারবে। বহু বছর ধরে এই দায়িত্ব মূলত যুক্তরাষ্ট্র বহন করেছে। এখন ওয়াশিংটন অগ্রাধিকার বদলালে ইউরোপকে তার ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বাস্তবে কী—তা নির্ধারণ করতে হবে।
খরচ, রাজনীতি, আর জনসমর্থনের সীমা
ইউরোপীয় নেতারা ঘরোয়া চাপও অনুভব করছেন। প্রতিরক্ষা ব্যয় ইতিমধ্যেই বেড়েছে, আর মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতি ভোটারদের স্পর্শকাতর ইস্যু। যুদ্ধ যদি স্থবির হয়ে থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।
ইউক্রেন পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে—অস্পষ্টতাই বেশি ব্যয়বহুল। দুর্বল সমঝোতা ইউরোপকে বছরের পর বছর সতর্ক অবস্থায় রাখবে, বারবার সংকট তৈরি করবে, আর জরুরি ব্যয় বাড়াবে। কিয়েভের বক্তব্য, এখন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের অস্থিরতা কমাতে পারে।
আলোচনা চললেও ইউক্রেনের চাহিদা আর ইউরোপের প্রস্তুতির মধ্যে ব্যবধান রয়ে গেছে। সামনে সময়ই বলবে—এই ব্যবধান কমানো যায় কি না, নাকি নিরাপত্তার প্রশ্ন আবারও ‘পরে দেখা যাবে’ তালিকায় যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা

ইউরোপের কাছে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে ইউক্রেন—আলোচনায় বিভাজন স্পষ্ট

০৫:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

কাগুজে আশ্বাস নয়, কার্যকর নিরাপত্তার দাবি
ইউক্রেন ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি জোরালো করছে, ঠিক এমন সময় যখন যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক তৎপরতা দ্রুত বাড়ছে। কিয়েভের আশঙ্কা—তড়িঘড়ি সমঝোতা হলে বাস্তব সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হতে পারে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া কোনো চুক্তি ভবিষ্যৎ আগ্রাসন ঠেকাতে পারবে না এবং ইউরোপের পূর্ব সীমান্তকেও অস্থিতিশীল করে রাখবে।
এই আলোচনার কেন্দ্রে আছে—যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমে গেলে ইউরোপ কতটা এগোতে প্রস্তুত। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহায়তা, যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে কী প্রতিক্রিয়া হবে—এসব নিয়ে ভাবনা চলছে। ইউক্রেন বলছে, অতীত চুক্তির বারবার ভাঙনের অভিজ্ঞতার পর শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি আর যথেষ্ট নয়।
তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান এক নয়। কেউ কেউ ইউক্রেনকে মহাদেশীয় নিরাপত্তার প্রথম সারি হিসেবে দেখছে এবং গভীর সম্পৃক্ততায় আগ্রহী। অন্যরা আইনি সীমাবদ্ধতা, ঘরোয়া রাজনীতি, এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে কিয়েভকে আশ্বস্ত করা আর বাস্তবায়নযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খোঁজা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বনাম জোটে যোগদান
ইউক্রেন এখনও চায় ন্যাটো সদস্যপদ বা সমমানের কোনো কাঠামো। কিন্তু ইউরোপীয় কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, আনুষ্ঠানিক জোট সম্প্রসারণ এখনই সম্ভব নয়। সেই বাস্তবতা থেকে অন্তর্বর্তী সমাধানের কথা উঠছে—যা পূর্ণ সদস্যপদের মতো না হলেও কিছুটা সমষ্টিগত প্রতিরক্ষার অনুভূতি দেবে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আছে দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, এবং ইউক্রেনের ভেতরে স্থায়ী প্রশিক্ষণ মিশন। সমর্থকদের মতে, এতে ভবিষ্যৎ আক্রমণের মূল্য বাড়বে। সমালোচকেরা বলছেন, এগুলো এখনও স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষার সমান নয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ধূসর অঞ্চল তৈরি করতে পারে।
এই বিতর্ক আসলে ইউরোপের বড় প্রশ্নের অংশ—নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার সক্ষমতা কি তারা গড়ে তুলতে পারবে। বহু বছর ধরে এই দায়িত্ব মূলত যুক্তরাষ্ট্র বহন করেছে। এখন ওয়াশিংটন অগ্রাধিকার বদলালে ইউরোপকে তার ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বাস্তবে কী—তা নির্ধারণ করতে হবে।
খরচ, রাজনীতি, আর জনসমর্থনের সীমা
ইউরোপীয় নেতারা ঘরোয়া চাপও অনুভব করছেন। প্রতিরক্ষা ব্যয় ইতিমধ্যেই বেড়েছে, আর মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতি ভোটারদের স্পর্শকাতর ইস্যু। যুদ্ধ যদি স্থবির হয়ে থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।
ইউক্রেন পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে—অস্পষ্টতাই বেশি ব্যয়বহুল। দুর্বল সমঝোতা ইউরোপকে বছরের পর বছর সতর্ক অবস্থায় রাখবে, বারবার সংকট তৈরি করবে, আর জরুরি ব্যয় বাড়াবে। কিয়েভের বক্তব্য, এখন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের অস্থিরতা কমাতে পারে।
আলোচনা চললেও ইউক্রেনের চাহিদা আর ইউরোপের প্রস্তুতির মধ্যে ব্যবধান রয়ে গেছে। সামনে সময়ই বলবে—এই ব্যবধান কমানো যায় কি না, নাকি নিরাপত্তার প্রশ্ন আবারও ‘পরে দেখা যাবে’ তালিকায় যাবে।