০২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধের প্রভাবে এলপিজি ও বিমান ভ্রমণের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শেনানডোহ তেলের ক্ষেত্রের জন্য বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানিগুলোর দৌড়, মার্কিন উপসাগরীয় প্রযুক্তিগত তেলে বিপুল আগ্রহ তেলের দাম আকাশছোঁয়া, মার্কিন–ইরান সংঘাতের তীব্র প্রভাব বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ল, শেয়ারবাজারে অস্থিরতার ছায়া নেমেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে: আসিফ মাহমুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী-ছাত্রদের হেলমেট পরিধান, ছাদ ভেঙে পড়ার আতঙ্ক লক্ষ্মীপুরে স্কুলের ছাদ ধসে তিন শিক্ষার্থী আহত চীনের দূরদর্শী শক্তি নীতি হঠাৎ তেলের দাম বৃদ্ধির মধ্যেও অটল, বিনিয়োগকারীরা পাচ্ছে রেকর্ড লাভ দিল্লিতে রেঁস্তোরাস্দাম বাড়ানোর চিন্তা রাশিয়ার উরালস ক্রুডের দাম $১২৩.৪৫-এ পৌঁছালো, ব্রেন্ট $১০৯

ভারত যদি শেখ হাসিনাকে থামাতে না চায়, আমরা পারবো না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারত যদি শেখ হাসিনাকে থামাতে না চায়, তাহলে বাংলাদেশের পক্ষে তাকে থামানো সম্ভব নয়। এই বাস্তবতাটি আমাদের বুঝে নিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় ভারত যেন তাকে থামায়, যাতে দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার মতো উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ থাকে। ভারত যদি এ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়, সেটিকে বাংলাদেশ ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখবে। তবে ভারত না চাইলে তাকে জোর করার কোনো সুযোগ নেই।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন নিয়ে উপদেশ গ্রহণযোগ্য নয়

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতের দিক থেকে সর্বশেষ যে বক্তব্য এসেছে, তাতে বাংলাদেশকে কিছু উপদেশ দেওয়া হয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হবে সে বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ নিজের নির্বাচন নিজেরাই পরিচালনা করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে, মানুষ যেন কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। গত পনেরো বছরে এমন পরিবেশ ছিল না। সেই সময় ভারতের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, অথচ তখনকার প্রহসনমূলক নির্বাচন নিয়ে ভারত কোনো আপত্তি তোলেনি। এখন যখন একটি ভালো নির্বাচনের দিকে দেশ এগোচ্ছে, তখন উপদেশ দেওয়াকে তিনি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

ভালো নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার জানে কী করতে হবে। এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা হবে, যেখানে মানুষ ভোট দিতে পারবে এবং যাদের ভোট দেবে তারাই নির্বাচিত হবে। গত পনেরো বছরে যা হয়নি। এ বিষয়ে ভারতের মন্তব্য বা উপদেশ বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, সেটাকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করেন না।

হাসনাত আবুদল্লাহর বক্তব্য প্রসঙ্গ

ভারতকে নিয়ে হাসনাত আবুদল্লাহর বক্তব্যে ভারতের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসনাত সরকার বা সরকারের অংশ নন। ফলে তার বক্তব্যকে সরকারি বক্তব্য হিসেবে দেখা অবান্তর। সরকারের অবস্থান জানাতে হলে তা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই আসতো।

ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক টানাপড়েন

শেখ হাসিনার ইস্যুতে বাংলাদেশ ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাদের অবস্থান জানিয়েছে, যদিও ভারত সব বিষয়ে একমত হয়নি। একইভাবে বাংলাদেশি হাইকমিশনারকেও ভারত ডেকেছে। এটিকে অস্বাভাবিক বলা যায় না। তবে সম্পর্ক নতুন কোনো পর্যায়ে যাচ্ছে কি না, তা বলা কঠিন।

তিনি বলেন, এই সরকারের শুরু থেকেই ভারতের সঙ্গে কিছুটা টানাপড়েন রয়েছে। তা মেনেই বাংলাদেশ সবসময় ভালো কার্যকর সম্পর্ক চেয়েছে। কিন্তু সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে দুই পক্ষেরই উদ্যোগ প্রয়োজন। এখনো সেই জায়গায় পুরোপুরি অগ্রগতি হয়নি।

উসকানিমূলক বক্তব্য ও আপত্তি

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগে শেখ হাসিনার বক্তব্য মূলত সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। পরে তা মূলধারার গণমাধ্যমেও এসেছে এবং সেখানে স্পষ্ট উসকানি লক্ষ্য করা গেছে। যিনি বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত, তিনি পাশের দেশে বসে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে আপত্তি জানানো বা তাকে ফেরত পাঠানোর সহযোগিতা চাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু ভারত সে পথে এগোয়নি বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের প্রভাবে এলপিজি ও বিমান ভ্রমণের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

ভারত যদি শেখ হাসিনাকে থামাতে না চায়, আমরা পারবো না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

০৬:৩৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারত যদি শেখ হাসিনাকে থামাতে না চায়, তাহলে বাংলাদেশের পক্ষে তাকে থামানো সম্ভব নয়। এই বাস্তবতাটি আমাদের বুঝে নিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় ভারত যেন তাকে থামায়, যাতে দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার মতো উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ থাকে। ভারত যদি এ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়, সেটিকে বাংলাদেশ ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখবে। তবে ভারত না চাইলে তাকে জোর করার কোনো সুযোগ নেই।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন নিয়ে উপদেশ গ্রহণযোগ্য নয়

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতের দিক থেকে সর্বশেষ যে বক্তব্য এসেছে, তাতে বাংলাদেশকে কিছু উপদেশ দেওয়া হয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হবে সে বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ নিজের নির্বাচন নিজেরাই পরিচালনা করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে, মানুষ যেন কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। গত পনেরো বছরে এমন পরিবেশ ছিল না। সেই সময় ভারতের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, অথচ তখনকার প্রহসনমূলক নির্বাচন নিয়ে ভারত কোনো আপত্তি তোলেনি। এখন যখন একটি ভালো নির্বাচনের দিকে দেশ এগোচ্ছে, তখন উপদেশ দেওয়াকে তিনি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

ভালো নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার জানে কী করতে হবে। এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা হবে, যেখানে মানুষ ভোট দিতে পারবে এবং যাদের ভোট দেবে তারাই নির্বাচিত হবে। গত পনেরো বছরে যা হয়নি। এ বিষয়ে ভারতের মন্তব্য বা উপদেশ বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, সেটাকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করেন না।

হাসনাত আবুদল্লাহর বক্তব্য প্রসঙ্গ

ভারতকে নিয়ে হাসনাত আবুদল্লাহর বক্তব্যে ভারতের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসনাত সরকার বা সরকারের অংশ নন। ফলে তার বক্তব্যকে সরকারি বক্তব্য হিসেবে দেখা অবান্তর। সরকারের অবস্থান জানাতে হলে তা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই আসতো।

ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক টানাপড়েন

শেখ হাসিনার ইস্যুতে বাংলাদেশ ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাদের অবস্থান জানিয়েছে, যদিও ভারত সব বিষয়ে একমত হয়নি। একইভাবে বাংলাদেশি হাইকমিশনারকেও ভারত ডেকেছে। এটিকে অস্বাভাবিক বলা যায় না। তবে সম্পর্ক নতুন কোনো পর্যায়ে যাচ্ছে কি না, তা বলা কঠিন।

তিনি বলেন, এই সরকারের শুরু থেকেই ভারতের সঙ্গে কিছুটা টানাপড়েন রয়েছে। তা মেনেই বাংলাদেশ সবসময় ভালো কার্যকর সম্পর্ক চেয়েছে। কিন্তু সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে দুই পক্ষেরই উদ্যোগ প্রয়োজন। এখনো সেই জায়গায় পুরোপুরি অগ্রগতি হয়নি।

উসকানিমূলক বক্তব্য ও আপত্তি

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগে শেখ হাসিনার বক্তব্য মূলত সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। পরে তা মূলধারার গণমাধ্যমেও এসেছে এবং সেখানে স্পষ্ট উসকানি লক্ষ্য করা গেছে। যিনি বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত, তিনি পাশের দেশে বসে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে আপত্তি জানানো বা তাকে ফেরত পাঠানোর সহযোগিতা চাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু ভারত সে পথে এগোয়নি বলে জানান তিনি।