১২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার পর্যটন খাতে নতুন সংকট, ভ্রমণ ব্যয় বাড়ায় কমছে পর্যটক মার্সিয়া লুকাস আর নেই: ‘স্টার ওয়ার্স’-এর সাফল্যের নেপথ্যের কিংবদন্তি সম্পাদক মারা গেলেন ৮০ বছর বয়সে ২০৩৫ সালের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে চাপের মুখে যুক্তরাজ্য, উদ্বিগ্ন জাপান ও ইতালি ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ধীরগতির ইরান আলোচনা, প্রয়োজনে ‘ভিন্ন পথে’ সমাধানের ইঙ্গিত দীর্ঘ সময় চার্জে রাখা ফোনের ঝুঁকি কতটা? মানিকগঞ্জে পারিবারিক বিরোধে ভাশুরের হামলা, নিহত ভাবি ও দেড় বছরের শিশু দিল্লিতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শোনা যাচ্ছে আর্তচিৎকার উড়োজাহাজ ভাড়ার সংকট: জ্বালানি নয়, আসল সমস্যা বাজারের কাঠামো নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ শুধু অস্ত্রে নয়, উৎপাদন সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করছে নেতানিয়াহুকে দক্ষিণ বৈরুত ‘মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার’ আহ্বান বেন-গভিরের

দিল্লিতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শোনা যাচ্ছে আর্তচিৎকার

ভারতের রাজধানী দিল্লির সাইদুলাজাব এলাকায় চারতলা একটি ভবন ধসে অন্তত একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ফলে রাতভর চলেছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় বিভীষিকা

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার পর চারদিকে ধুলোর মেঘ ছড়িয়ে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আর্তচিৎকার শোনা যাচ্ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের চিৎকারই শুধু শোনা যাচ্ছিল। ধুলোর আস্তরণ সরে যাওয়ার পর দেখা যায়, পাশের একটি ভবনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পশ্চিম মার্গ এলাকায় অবস্থিত ভবনটিতে একটি কোচিং সেন্টার, কয়েকটি ক্যাফে এবং বিভিন্ন অফিস পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় ভবনের তৃতীয় তলায় নির্মাণকাজ চলছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

স্বজনদের উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ

ধসের পর ঘটনাস্থলে বহু মানুষ তাদের স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষা করতে থাকেন। আটকে পড়াদের একজনের স্বজন অভিযোগ করেন, উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা সন্তোষজনক তথ্য পাচ্ছিলেন না।

তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমদিকে বেশি সক্রিয়ভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তার দাবি, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং এ নিয়ে আগে অভিযোগও করা হয়েছিল। তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে কোচিং সেন্টারে পড়তে আসা এবং মেসে খাওয়া বহু শিক্ষার্থী উদ্বেগ নিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে অপেক্ষা করছিলেন। তারা অ্যাম্বুলেন্সের যাতায়াত দেখছিলেন এবং ভেতরে থাকা পরিচিতদের খবর জানার চেষ্টা করছিলেন।

আটকে থাকতে পারেন আরও অনেকে

স্থানীয়দের মতে, ভবনটিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং অফিসগামীদের আনাগোনা ছিল। কয়েকজন বাসিন্দা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত মানুষ আটকে থাকতে পারেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ভবনটিতে একাধিক ক্যাফে, কোচিং সেন্টার এবং করপোরেট অফিস চালু ছিল। ভবনটি তুলনামূলক নতুন এবং চার থেকে পাঁচ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাতভর উদ্ধার অভিযান

জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, পৌর করপোরেশন, সিভিল ডিফেন্স এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবা যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

রবিবার ভোর পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে নয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম রবি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেছেন, পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন নিবিড় নজর রাখছে এবং উদ্ধার অভিযানে সব ধরনের সম্পদ ও জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। আটকে পড়াদের উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

তদন্ত চলছে

পুলিশ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রত্যেককে শনাক্ত না করা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। তবে কী কারণে ভবনটি ধসে পড়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

#দিল্লি #ভবনধস #সাইদুলাজাব #সাকেতমেট্রো #উদ্ধারঅভিযান #ভারত #দুর্ঘটনা #ব্রেকিংনিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার পর্যটন খাতে নতুন সংকট, ভ্রমণ ব্যয় বাড়ায় কমছে পর্যটক

দিল্লিতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শোনা যাচ্ছে আর্তচিৎকার

১০:৫৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লির সাইদুলাজাব এলাকায় চারতলা একটি ভবন ধসে অন্তত একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ফলে রাতভর চলেছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় বিভীষিকা

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার পর চারদিকে ধুলোর মেঘ ছড়িয়ে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আর্তচিৎকার শোনা যাচ্ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের চিৎকারই শুধু শোনা যাচ্ছিল। ধুলোর আস্তরণ সরে যাওয়ার পর দেখা যায়, পাশের একটি ভবনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পশ্চিম মার্গ এলাকায় অবস্থিত ভবনটিতে একটি কোচিং সেন্টার, কয়েকটি ক্যাফে এবং বিভিন্ন অফিস পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় ভবনের তৃতীয় তলায় নির্মাণকাজ চলছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

স্বজনদের উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ

ধসের পর ঘটনাস্থলে বহু মানুষ তাদের স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষা করতে থাকেন। আটকে পড়াদের একজনের স্বজন অভিযোগ করেন, উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা সন্তোষজনক তথ্য পাচ্ছিলেন না।

তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমদিকে বেশি সক্রিয়ভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তার দাবি, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং এ নিয়ে আগে অভিযোগও করা হয়েছিল। তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে কোচিং সেন্টারে পড়তে আসা এবং মেসে খাওয়া বহু শিক্ষার্থী উদ্বেগ নিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে অপেক্ষা করছিলেন। তারা অ্যাম্বুলেন্সের যাতায়াত দেখছিলেন এবং ভেতরে থাকা পরিচিতদের খবর জানার চেষ্টা করছিলেন।

আটকে থাকতে পারেন আরও অনেকে

স্থানীয়দের মতে, ভবনটিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং অফিসগামীদের আনাগোনা ছিল। কয়েকজন বাসিন্দা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত মানুষ আটকে থাকতে পারেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ভবনটিতে একাধিক ক্যাফে, কোচিং সেন্টার এবং করপোরেট অফিস চালু ছিল। ভবনটি তুলনামূলক নতুন এবং চার থেকে পাঁচ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাতভর উদ্ধার অভিযান

জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, পৌর করপোরেশন, সিভিল ডিফেন্স এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবা যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

রবিবার ভোর পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে নয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম রবি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেছেন, পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন নিবিড় নজর রাখছে এবং উদ্ধার অভিযানে সব ধরনের সম্পদ ও জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। আটকে পড়াদের উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

তদন্ত চলছে

পুলিশ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রত্যেককে শনাক্ত না করা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। তবে কী কারণে ভবনটি ধসে পড়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

#দিল্লি #ভবনধস #সাইদুলাজাব #সাকেতমেট্রো #উদ্ধারঅভিযান #ভারত #দুর্ঘটনা #ব্রেকিংনিউজ