০১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ জাপানি কোম্পানির বিরল খনিজ আমদানি ব্যয় ২২% বেড়েছে, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চাপ এআই একচেটিয়া হতে পারে না, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার আহ্বান শি জিনপিংয়ের এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার গ্যাং সদস্য নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯% কমেছে, দামে ও পরিমাণে একসঙ্গে ধাক্কা বিশ্বকাপের শেষ বাঁশির পর: ফুটবল যে আয়নায় আমেরিকা ও বিশ্বের ভবিষ্যৎ দেখা গেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষত ও অনশনের আর্তনাদ: আমরা কবে শুনব ক্ষুধার ভাষা? শুধু শ্রদ্ধা নয়, শহীদ সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়িত্ব এখনই পালন করতে হবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সতর্কবার্তা: প্রবৃদ্ধি ৩.৫%, মধ্যমেয়াদে ৩ শতাংশের নিচে নামার শঙ্কা

ট্রাম্প কি মধ্যবর্তী নির্বাচন জিততে চান, নাকি রিপাবলিকান পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই তাঁর আসল লক্ষ্য?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে এসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তিনি কি সত্যিই আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় নিশ্চিত করতে চাইছেন, নাকি তাঁর প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে রিপাবলিকান পার্টির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা?

নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য এজরা ক্লেইন শো’-তে রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিয়াম ডোনোভানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় এই প্রশ্নটিই উঠে আসে। আলোচনায় বলা হয়, ট্রাম্প বর্তমানে এমন সব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনী সাফল্যের চেয়ে দলীয় আনুগত্য নিশ্চিত করার দিকে বেশি মনোযোগী বলে মনে হচ্ছে।

জনপ্রিয়তা কমলেও অবস্থান বদলাচ্ছেন না

Trump's grip on the Republican party has never been tighter. Will Democrats  take Texas from its grasp? | US midterm elections 2026 | The Guardian

বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কমেছে। তবু তিনি রাজনৈতিক কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে ভোটারদের আস্থা ফেরানোর বদলে নিজের সমর্থক ঘাঁটিকে আরও দৃঢ় করার কৌশল নিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আলোচনায় উঠে আসে, ট্রাম্প এমন কিছু রিপাবলিকান নেতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, যারা কখনও তাঁর সমালোচনা করেছেন বা তাঁর প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত ছিলেন না। এর ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনা জটিল হয়ে উঠলেও তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেননি।

দল নাকি কংগ্রেস?

আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল ট্রাম্পের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার। ডোনোভানের মতে, ট্রাম্প ঐতিহ্যগত রিপাবলিকান রাজনীতির প্রতিনিধি নন। তিনি বরাবরই নিজস্ব রাজনৈতিক ব্র্যান্ডকে দলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

এজরা ক্লেইনের যুক্তি ছিল, ট্রাম্প হয়তো কংগ্রেসে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেয়ে রিপাবলিকান পার্টির ওপর নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব বজায় রাখাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। কারণ দলীয় নিয়ন্ত্রণ তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রভাবের ভিত্তি।

Trump, With More Honey Than Vinegar, Cements an Iron Grip on Republicans -  The New York Times

সেনেট নির্বাচনে ঝুঁকির রাজনীতি

টেক্সাসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনের প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে। কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্প এমন প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন, যাদের ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। এতে রিপাবলিকানদের জন্য কিছু আসন ধরে রাখা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ডোনোভানের মতে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক টিম আগের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিতভাবে কাজ করছে এবং অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে তারা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবু কিছু ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক মূল্য দাবি করতে পারে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের চিত্র

আলোচনায় উত্তর ক্যারোলাইনা, মেইন, ওহাইও, টেক্সাস, আলাস্কা ও আইওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের সম্ভাব্য নির্বাচনী লড়াই বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটরা যদি বড় ধরনের জয়ের আশা করে, তাহলে তাদেরকে কয়েকটি কঠিন রাজ্যে একসঙ্গে সাফল্য পেতে হবে।

4 ways the election results could influence the government shutdown : NPR

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং দলের নির্বাচনী সম্ভাবনার মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা তারা কীভাবে সামাল দেবে।

ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান পার্টি

আলোচনার শেষদিকে উঠে আসে আরও বড় একটি প্রশ্ন—ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান পার্টি কেমন হবে?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ট্রাম্প এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি দলের ভেতরের নানা মতাদর্শিক বিভাজনকে একসঙ্গে ধরে রেখেছেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক যুগ শেষ হলে দলটির মধ্যে নতুন ধরনের ক্ষমতার লড়াই দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ও বয়স্ক রিপাবলিকানদের মধ্যে পররাষ্ট্রনীতি, ইসরায়েল, জাতীয়তাবাদ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সব মিলিয়ে আলোচনার মূল বার্তা হলো, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না; এটি একই সঙ্গে দেখাবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তি কতটা টেকসই এবং রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

ট্রাম্প কি মধ্যবর্তী নির্বাচন জিততে চান, নাকি রিপাবলিকান পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই তাঁর আসল লক্ষ্য?

১২:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে এসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তিনি কি সত্যিই আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় নিশ্চিত করতে চাইছেন, নাকি তাঁর প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে রিপাবলিকান পার্টির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা?

নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য এজরা ক্লেইন শো’-তে রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিয়াম ডোনোভানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় এই প্রশ্নটিই উঠে আসে। আলোচনায় বলা হয়, ট্রাম্প বর্তমানে এমন সব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনী সাফল্যের চেয়ে দলীয় আনুগত্য নিশ্চিত করার দিকে বেশি মনোযোগী বলে মনে হচ্ছে।

জনপ্রিয়তা কমলেও অবস্থান বদলাচ্ছেন না

Trump's grip on the Republican party has never been tighter. Will Democrats  take Texas from its grasp? | US midterm elections 2026 | The Guardian

বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কমেছে। তবু তিনি রাজনৈতিক কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে ভোটারদের আস্থা ফেরানোর বদলে নিজের সমর্থক ঘাঁটিকে আরও দৃঢ় করার কৌশল নিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আলোচনায় উঠে আসে, ট্রাম্প এমন কিছু রিপাবলিকান নেতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, যারা কখনও তাঁর সমালোচনা করেছেন বা তাঁর প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত ছিলেন না। এর ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনা জটিল হয়ে উঠলেও তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেননি।

দল নাকি কংগ্রেস?

আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল ট্রাম্পের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার। ডোনোভানের মতে, ট্রাম্প ঐতিহ্যগত রিপাবলিকান রাজনীতির প্রতিনিধি নন। তিনি বরাবরই নিজস্ব রাজনৈতিক ব্র্যান্ডকে দলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

এজরা ক্লেইনের যুক্তি ছিল, ট্রাম্প হয়তো কংগ্রেসে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেয়ে রিপাবলিকান পার্টির ওপর নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব বজায় রাখাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। কারণ দলীয় নিয়ন্ত্রণ তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রভাবের ভিত্তি।

Trump, With More Honey Than Vinegar, Cements an Iron Grip on Republicans -  The New York Times

সেনেট নির্বাচনে ঝুঁকির রাজনীতি

টেক্সাসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনের প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে। কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্প এমন প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন, যাদের ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। এতে রিপাবলিকানদের জন্য কিছু আসন ধরে রাখা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ডোনোভানের মতে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক টিম আগের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিতভাবে কাজ করছে এবং অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে তারা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবু কিছু ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক মূল্য দাবি করতে পারে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের চিত্র

আলোচনায় উত্তর ক্যারোলাইনা, মেইন, ওহাইও, টেক্সাস, আলাস্কা ও আইওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের সম্ভাব্য নির্বাচনী লড়াই বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটরা যদি বড় ধরনের জয়ের আশা করে, তাহলে তাদেরকে কয়েকটি কঠিন রাজ্যে একসঙ্গে সাফল্য পেতে হবে।

4 ways the election results could influence the government shutdown : NPR

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং দলের নির্বাচনী সম্ভাবনার মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা তারা কীভাবে সামাল দেবে।

ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান পার্টি

আলোচনার শেষদিকে উঠে আসে আরও বড় একটি প্রশ্ন—ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান পার্টি কেমন হবে?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ট্রাম্প এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি দলের ভেতরের নানা মতাদর্শিক বিভাজনকে একসঙ্গে ধরে রেখেছেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক যুগ শেষ হলে দলটির মধ্যে নতুন ধরনের ক্ষমতার লড়াই দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ও বয়স্ক রিপাবলিকানদের মধ্যে পররাষ্ট্রনীতি, ইসরায়েল, জাতীয়তাবাদ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সব মিলিয়ে আলোচনার মূল বার্তা হলো, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না; এটি একই সঙ্গে দেখাবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তি কতটা টেকসই এবং রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোচ্ছে।