রামপুরা–নতুনবাজার সড়কের পরিস্থিতি
বুধবার বিকেলে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধের পর রাজধানীর রামপুরা–নতুনবাজার সড়কে আবার যান চলাচল শুরু হয়েছে। জুলাই ঐক্যের ডাকে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। সংগঠনটির দাবি ছিল, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
অবরোধ ও মিছিলের সূচনা
বিকেলের দিকে জুলাই ঐক্যের নেতাকর্মীরা রামপুরা–বাড্ডা সড়ক অবরোধ করে। তারা ভারতীয় হাই কমিশনের দিকে পদযাত্রা করার ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি শুরু করেন। এর আগে বিকেল প্রায় তিনটার দিকে রামপুরা সেতু থেকে একটি মিছিল শুরু হয়, যা উত্তর বাড্ডার দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ বি জুবায়ের।
পুলিশি বাধা ও অবস্থান কর্মসূচি
মিছিলটি এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা উত্তর বাড্ডার হোসেন মার্কেটের সামনে সড়কে বসে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেখানে ঢাকার মর্যাদা ও হাদীর ওপর হামলার প্রতিবাদ উঠে আসে।
সমাবেশে বক্তব্য
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ বি জুবায়ের বলেন, তারা আর সামনে এগোতে চান না। তাদের উদ্দেশ্য শুধু এটুকুই জানানো যে, বাংলাদেশের ওপর কোনো ধরনের আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং ভারতীয় হাই কমিশনে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে কেউ যদি দেশের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
যানজট ও জনদুর্ভোগ
অবরোধের কারণে পুরো এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড এবং এক পাশে বিক্ষোভকারীদের অবস্থানের ফলে নতুনবাজার থেকে রামপুরা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। একই সময়ে গুলশান–বাড্ডা সংযোগ সড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
কর্মসূচি প্রত্যাহার ও হুঁশিয়ারি
বিকেল পাঁচটার দিকে জুলাই ঐক্য তাদের কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দেয়। তবে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, হাদীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে না আনা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনে নামা হবে।
পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা
পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার পর রামপুরা–নতুনবাজার সড়কে যান চলাচল শুরু হলেও, আটকে থাকা গাড়ির চাপের কারণে এলাকায় দীর্ঘ সময় যানজট রয়ে যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















