১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
হলিউডের ভাটা, বিশ্ব সিনেমার জোর—কান উৎসব ২০২৬-এ আর্টহাউস ঝলক এনভিডিয়ার বাইরে নতুন পথ? নিজস্ব এআই চিপ ভাবনায় অ্যানথ্রপিক চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা “চাবিটি হারিয়ে গেছে” হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি কৌশলগত চাপ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম পোপাইসের বেইজিংয়ে প্রত্যাবর্তন, ২৪ বছর পর নতুন করে চীনা বাজারে জোরালো উপস্থিতি ট্রাম্পের ‘আনুগত্য পরীক্ষা’ কি ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে?

ছয় বছর পরও কি আমরা পরবর্তী মহামারির জন্য প্রস্তুত?

অজান্তেই শুরু হওয়া এক বৈশ্বিক বিপর্যয়
এই সপ্তাহেই ছয় বছর আগে, ২০১৯ সালের আনন্দমুখর বড়দিনের মৌসুমে বিশ্ব যখন উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন চীনের উহানে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছিল কোভিড-১৯ ভাইরাস। সে সময় আমি অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, যা পরবর্তী তিন বছরে আমার শেষ বিদেশ সফর হয়ে থাকবে—কিন্তু আসন্ন মহামারির ব্যাপারে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম।

অকল্পনীয় ক্ষয়ক্ষতির বাস্তবতা
পরবর্তী তিন বছরে যে ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসবে, তা তখন বিশ্ব কল্পনাও করেনি। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন হিসাবে সাত মিলিয়ন থেকে ছত্রিশ মিলিয়নের কথা বলা হয়। সাতশ মিলিয়নের বেশি মানুষ সংক্রমিত হন। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয় প্রায় বারো দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে একশ মিলিয়নের বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েন। আমি নিজেও সেইসব মানুষের একজন, যারা এই বিপর্যয়ের মাত্রা ভীষণভাবে কম করে ভেবেছিলাম। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে লেখা এক নিবন্ধে আমি সরলভাবে ধরে নিয়েছিলাম, ২০০৩ সালের সার্সের মতো কয়েক মাসের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাবে।

মহামারির পরের আত্মতুষ্টি
কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে আসার দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্বের অনেক অংশে এমন আচরণ দেখা যাচ্ছে, যেন এই মহামারি কখনো ঘটেইনি, কিংবা এমন স্বাস্থ্য সংকট আবার শিগগিরই ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।

দায় চাপানোর বিতর্ক ও আসল শিক্ষা
মহামারি থেকে শিক্ষা নেওয়ার বদলে অনেকেই এখনো ব্যস্ত দোষারোপের বিতর্কে—কেন এবং কীভাবে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেল, তা নিয়ে তর্ক চলছে। এতে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যটি: মহামারির মতো সংকটে এক বা দুই দিনের বিলম্বও, যা মানুষের স্বাভাবিক ভুলের মধ্যেই পড়ে, ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

শুরুর দিনগুলোর সতর্কবার্তা
মহামারির প্রাথমিক সময়রেখা যেমন বিস্ময়কর, তেমনি কঠোর বাস্তবতার স্মারক। ২০১৯ সালের নভেম্বরেই কিছু বিচ্ছিন্ন সংক্রমণের ঘটনা দেখা গেলেও, ৩০ ডিসেম্বর উহান কর্তৃপক্ষ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে অজানা নিউমোনিয়ার কথা জানায়। এদিকে পশ্চিমা বিশ্বের বড় একটি অংশ তখন বড়দিন ও নববর্ষের ছুটিতে ব্যস্ত। সেই সুযোগে ভাইরাসটি চীনের সীমানা পেরিয়ে হংকংয়ের মতো আন্তর্জাতিক যোগাযোগকেন্দ্র ব্যবহার করে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।

জিনগত তথ্য ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার দেরি
২ জানুয়ারিতেই ভাইরাসটির জিনগত গঠন শনাক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশ করতে চীনা কর্তৃপক্ষের আরও দশ দিন সময় লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। এই দেরিগুলোই দেখিয়ে দেয়, সংকট মোকাবিলায় সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হলিউডের ভাটা, বিশ্ব সিনেমার জোর—কান উৎসব ২০২৬-এ আর্টহাউস ঝলক

ছয় বছর পরও কি আমরা পরবর্তী মহামারির জন্য প্রস্তুত?

১০:০১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

অজান্তেই শুরু হওয়া এক বৈশ্বিক বিপর্যয়
এই সপ্তাহেই ছয় বছর আগে, ২০১৯ সালের আনন্দমুখর বড়দিনের মৌসুমে বিশ্ব যখন উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন চীনের উহানে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছিল কোভিড-১৯ ভাইরাস। সে সময় আমি অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, যা পরবর্তী তিন বছরে আমার শেষ বিদেশ সফর হয়ে থাকবে—কিন্তু আসন্ন মহামারির ব্যাপারে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম।

অকল্পনীয় ক্ষয়ক্ষতির বাস্তবতা
পরবর্তী তিন বছরে যে ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসবে, তা তখন বিশ্ব কল্পনাও করেনি। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন হিসাবে সাত মিলিয়ন থেকে ছত্রিশ মিলিয়নের কথা বলা হয়। সাতশ মিলিয়নের বেশি মানুষ সংক্রমিত হন। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয় প্রায় বারো দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে একশ মিলিয়নের বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েন। আমি নিজেও সেইসব মানুষের একজন, যারা এই বিপর্যয়ের মাত্রা ভীষণভাবে কম করে ভেবেছিলাম। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে লেখা এক নিবন্ধে আমি সরলভাবে ধরে নিয়েছিলাম, ২০০৩ সালের সার্সের মতো কয়েক মাসের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাবে।

মহামারির পরের আত্মতুষ্টি
কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে আসার দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্বের অনেক অংশে এমন আচরণ দেখা যাচ্ছে, যেন এই মহামারি কখনো ঘটেইনি, কিংবা এমন স্বাস্থ্য সংকট আবার শিগগিরই ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।

দায় চাপানোর বিতর্ক ও আসল শিক্ষা
মহামারি থেকে শিক্ষা নেওয়ার বদলে অনেকেই এখনো ব্যস্ত দোষারোপের বিতর্কে—কেন এবং কীভাবে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেল, তা নিয়ে তর্ক চলছে। এতে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যটি: মহামারির মতো সংকটে এক বা দুই দিনের বিলম্বও, যা মানুষের স্বাভাবিক ভুলের মধ্যেই পড়ে, ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

শুরুর দিনগুলোর সতর্কবার্তা
মহামারির প্রাথমিক সময়রেখা যেমন বিস্ময়কর, তেমনি কঠোর বাস্তবতার স্মারক। ২০১৯ সালের নভেম্বরেই কিছু বিচ্ছিন্ন সংক্রমণের ঘটনা দেখা গেলেও, ৩০ ডিসেম্বর উহান কর্তৃপক্ষ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে অজানা নিউমোনিয়ার কথা জানায়। এদিকে পশ্চিমা বিশ্বের বড় একটি অংশ তখন বড়দিন ও নববর্ষের ছুটিতে ব্যস্ত। সেই সুযোগে ভাইরাসটি চীনের সীমানা পেরিয়ে হংকংয়ের মতো আন্তর্জাতিক যোগাযোগকেন্দ্র ব্যবহার করে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।

জিনগত তথ্য ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার দেরি
২ জানুয়ারিতেই ভাইরাসটির জিনগত গঠন শনাক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশ করতে চীনা কর্তৃপক্ষের আরও দশ দিন সময় লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। এই দেরিগুলোই দেখিয়ে দেয়, সংকট মোকাবিলায় সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ।