১১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে সতর্ক বিজিবি, ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি বক্স অফিসের নায়ক থেকে তামিল রাজনীতির বিস্ময়, কীভাবে ‘থালাপতি’ বিজয় বদলে দিলেন তামিলনাড়ুর সমীকরণ ক্রেনশর পথ ও “আন্তঃসংযোগ”-এর জন্ম চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব মধ্যবিত্ত পৃথিবীর শেষ আশ্রয়: বারো বছরের কিশোরীরা কেন এখনও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান বি পজিটিভ রক্তের জরুরি আহ্বান, সিজার-পরবর্তী সংকটে তরুণী মৌসুমির জন্য প্রয়োজন ৮ ব্যাগ রক্ত

জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমছে, ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফা কাটছাঁট

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি হবে দ্বিতীয়বারের মতো মুনাফা হ্রাস। ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রস্তাব তৈরি ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফা হার নির্ধারণ করে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। সেই প্রস্তাব অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলেই অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

ব্যাংক খাতের চাপ ও সরকারের অবস্থান
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি হাতে পাননি। তবে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর জন্য চাপ রয়েছে। তাঁর মতে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে সঞ্চয়পত্রের উচ্চ মুনাফা একটি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছয় মাস অন্তর মুনাফা পর্যালোচনার নীতি
চলতি বছরের ৩০ জুন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার প্রতি ছয় মাস অন্তর পর্যালোচনা ও প্রয়োজনে সমন্বয় করা হবে। নতুন এই উদ্যোগ সেই সিদ্ধান্তেরই ধারাবাহিকতা।

প্রস্তাবিত মুনাফা কমানোর ধরন
অর্থ বিভাগের ভেতরের সূত্র জানায়, নতুন প্রস্তাবে গড়ে প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ মুনাফা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যমান স্তরভিত্তিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ কম অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি মুনাফা এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগে কম মুনাফার ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

বর্তমানে সর্বোচ্চ মুনাফা হার প্রায় ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন প্রায় ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। সবচেয়ে জনপ্রিয় পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এখন মুনাফা ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা সামান্য কমতে পারে। একইভাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রেও কিছুটা হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

যেসব খাতে পরিবর্তন নেই
মজুরি আয়কারী উন্নয়ন বন্ড, ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ডলার বিনিয়োগ বন্ড এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।

ব্যাংক মালিকদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সঞ্চয়পত্রের উচ্চ মুনাফা সাধারণত বেসরকারি ব্যাংক থেকে আমানত সরিয়ে নেয়। মুনাফা কমলে সেই অর্থ ব্যাংক খাতে ফিরে আসবে এবং বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে সহায়ক হবে।

সরকারি ঋণের সাম্প্রতিক চিত্র
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকার ঋণ নিয়েছে প্রায় দুই হাজার তিনশ ঊনসত্তর কোটি টাকা। অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন লাখ একচল্লিশ হাজার কোটি টাকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের

জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমছে, ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফা কাটছাঁট

০৮:১৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি হবে দ্বিতীয়বারের মতো মুনাফা হ্রাস। ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রস্তাব তৈরি ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফা হার নির্ধারণ করে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। সেই প্রস্তাব অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলেই অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

ব্যাংক খাতের চাপ ও সরকারের অবস্থান
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি হাতে পাননি। তবে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর জন্য চাপ রয়েছে। তাঁর মতে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে সঞ্চয়পত্রের উচ্চ মুনাফা একটি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছয় মাস অন্তর মুনাফা পর্যালোচনার নীতি
চলতি বছরের ৩০ জুন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার প্রতি ছয় মাস অন্তর পর্যালোচনা ও প্রয়োজনে সমন্বয় করা হবে। নতুন এই উদ্যোগ সেই সিদ্ধান্তেরই ধারাবাহিকতা।

প্রস্তাবিত মুনাফা কমানোর ধরন
অর্থ বিভাগের ভেতরের সূত্র জানায়, নতুন প্রস্তাবে গড়ে প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ মুনাফা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যমান স্তরভিত্তিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ কম অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি মুনাফা এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগে কম মুনাফার ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

বর্তমানে সর্বোচ্চ মুনাফা হার প্রায় ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন প্রায় ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। সবচেয়ে জনপ্রিয় পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এখন মুনাফা ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা সামান্য কমতে পারে। একইভাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রেও কিছুটা হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

যেসব খাতে পরিবর্তন নেই
মজুরি আয়কারী উন্নয়ন বন্ড, ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ডলার বিনিয়োগ বন্ড এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।

ব্যাংক মালিকদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সঞ্চয়পত্রের উচ্চ মুনাফা সাধারণত বেসরকারি ব্যাংক থেকে আমানত সরিয়ে নেয়। মুনাফা কমলে সেই অর্থ ব্যাংক খাতে ফিরে আসবে এবং বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে সহায়ক হবে।

সরকারি ঋণের সাম্প্রতিক চিত্র
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকার ঋণ নিয়েছে প্রায় দুই হাজার তিনশ ঊনসত্তর কোটি টাকা। অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন লাখ একচল্লিশ হাজার কোটি টাকা।