০২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা—কম উদার,বেশি শর্তসাপেক্ষ বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে দুর্নীতি বাড়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা ইরান-আমেরিকা সংঘাতের শেষ অধ্যায় চান ট্রাম্প, অনিশ্চয়তার মুখে মধ্যপ্রাচ্য দ্য ইকোনমিস্ট -এর প্রতিবেদন: নব্বই ও দুই হাজার দশকে বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় এলেও শাসনকাল খুব উজ্জ্বল ছিল না সীমান্তের গুলিতে আহত শিশু আফনানের মৃত্যু, টেকনাফজুড়ে শোক ও উদ্বেগ মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৭৭ অবৈধ অভিবাসী আটক, কঠোর অবস্থানে কর্তৃপক্ষ জামায়াতের জনসভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে আলোচনা, ব্যাখ্যায় এবি পার্টি নেতা কমার একদিন পরই আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ছুঁল দুই লাখ বাষট্টি হাজার শি চিনপিংয়ের শুদ্ধি অভিযান

চীনের প্রযুক্তি উত্থান, অর্থনীতির ভেতরে গভীর ফাটল

চীনের শহর ও ছোট নগরগুলোতে এখন একসঙ্গে দুই বিপরীত বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি, অন্যদিকে অর্থনীতির ভেতরে বাড়তে থাকা সংকট, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও ঋণের চাপ। প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান কমালেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না।

প্রযুক্তির দৌড়ে দ্রুত এগিয়ে চীন
চীনে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বৈদ্যুতিক গাড়ি, রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্প দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরে উন্নত বিমানবাহী রণতরী উদ্বোধন, কারখানায় ব্যাপক হারে রোবট বসানো এবং চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে প্রযুক্তি শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে দেশটি। গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় গত কয়েক বছরে বড় আকারে বেড়েছে, যা উদ্ভাবনের গতি বাড়িয়েছে।

অর্থনীতির ভেতরের অস্বস্তিকর বাস্তবতা
এই অগ্রগতির আড়ালে রয়েছে ভিন্ন চিত্র। আবাসন খাতের দীর্ঘ মন্দা, কমে যাওয়া মজুরি ও বাড়তে থাকা বেকারত্ব মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। শহরে তরুণদের একটি বড় অংশ কাজ পাচ্ছে না, গ্রামে বহু মানুষ ন্যূনতম আয়ে জীবন চালাচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রযুক্তি খাতে ব্যয় পুলিশের মতো মৌলিক খাতের চেয়েও বেশি হলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বকেয়া থাকছে।

রাষ্ট্রনির্ভর বিনিয়োগ ও অপচয়ের প্রশ্ন
রাষ্ট্রের নির্দেশনায় বিপুল অর্থ ঢালার ফলে বহু লোকসানি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও রোবট খাতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও অল্প কয়েকটি টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিনিয়োগ কাঠামোতে বড় ধরনের অপচয় হচ্ছে, যা শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থের ঘাটতি তৈরি করছে।

ঋণ, উৎপাদনশীলতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ে ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে, একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতার গতি কমছে। জনসংখ্যা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা আরও উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরামর্শ দিচ্ছে, বিনিয়োগ ও রপ্তানিনির্ভর মডেল থেকে সরে ভোগব্যয় বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী হতে পারে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরতে পারে।

নিজস্ব পথেই অনড় বেইজিং
তবে আপাতত নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতার পথেই এগোচ্ছে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বাড়ছে, রপ্তানি দিয়ে চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল অব্যাহত। নীতিনির্ধারকদের মতে, কৌশলগত খাতে স্বনির্ভরতা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য জরুরি, যদিও এর অর্থনৈতিক মূল্য চড়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা—কম উদার,বেশি শর্তসাপেক্ষ

চীনের প্রযুক্তি উত্থান, অর্থনীতির ভেতরে গভীর ফাটল

১০:০০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

চীনের শহর ও ছোট নগরগুলোতে এখন একসঙ্গে দুই বিপরীত বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি, অন্যদিকে অর্থনীতির ভেতরে বাড়তে থাকা সংকট, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও ঋণের চাপ। প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান কমালেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না।

প্রযুক্তির দৌড়ে দ্রুত এগিয়ে চীন
চীনে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বৈদ্যুতিক গাড়ি, রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্প দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরে উন্নত বিমানবাহী রণতরী উদ্বোধন, কারখানায় ব্যাপক হারে রোবট বসানো এবং চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে প্রযুক্তি শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে দেশটি। গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় গত কয়েক বছরে বড় আকারে বেড়েছে, যা উদ্ভাবনের গতি বাড়িয়েছে।

অর্থনীতির ভেতরের অস্বস্তিকর বাস্তবতা
এই অগ্রগতির আড়ালে রয়েছে ভিন্ন চিত্র। আবাসন খাতের দীর্ঘ মন্দা, কমে যাওয়া মজুরি ও বাড়তে থাকা বেকারত্ব মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। শহরে তরুণদের একটি বড় অংশ কাজ পাচ্ছে না, গ্রামে বহু মানুষ ন্যূনতম আয়ে জীবন চালাচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রযুক্তি খাতে ব্যয় পুলিশের মতো মৌলিক খাতের চেয়েও বেশি হলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বকেয়া থাকছে।

রাষ্ট্রনির্ভর বিনিয়োগ ও অপচয়ের প্রশ্ন
রাষ্ট্রের নির্দেশনায় বিপুল অর্থ ঢালার ফলে বহু লোকসানি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও রোবট খাতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও অল্প কয়েকটি টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিনিয়োগ কাঠামোতে বড় ধরনের অপচয় হচ্ছে, যা শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থের ঘাটতি তৈরি করছে।

ঋণ, উৎপাদনশীলতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ে ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে, একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতার গতি কমছে। জনসংখ্যা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা আরও উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরামর্শ দিচ্ছে, বিনিয়োগ ও রপ্তানিনির্ভর মডেল থেকে সরে ভোগব্যয় বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী হতে পারে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরতে পারে।

নিজস্ব পথেই অনড় বেইজিং
তবে আপাতত নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতার পথেই এগোচ্ছে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বাড়ছে, রপ্তানি দিয়ে চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল অব্যাহত। নীতিনির্ধারকদের মতে, কৌশলগত খাতে স্বনির্ভরতা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য জরুরি, যদিও এর অর্থনৈতিক মূল্য চড়া।