০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
৩৫ বছর পর প্রথম নিজস্ব চিপ বানাল আর্ম, এআই ডেটা সেন্টারের জন্য মেটা-ওপেনএআই প্রথম গ্রাহক মেক্সিকোয় মোনার্ক প্রজাপতির সংখ্যা ৬৪ শতাংশ বেড়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদি হুমকি কাটেনি আইওএস ২৭-এ প্রতিযোগী এআই সেবা যুক্ত করবে সিরি, নেটফ্লিক্সের সাবস্ক্রিপশন মূল্য বাড়ল আজ নেটফ্লিক্সে বিটিএসের ডকুমেন্টারি মুক্তি, কোরিয়ান গোয়েন্দা চলচ্চিত্র ‘হিউমিন্ট’ আসছে ৩১ মার্চ ইরান যুদ্ধের মোড়ে ট্রাম্প: এগোবেন না কি পিছু হটবেন—চাপে আমেরিকা, দোলাচলে বিশ্ব ট্রাম্পের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ইরান যুদ্ধ: বিভ্রান্ত বার্তা, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ইরান যুদ্ধের পরও মধ্যপ্রাচ্যে বদল আসবে না, সতর্ক বিশ্লেষণ মন্দা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব শিল্পবাজার, নিউইয়র্কের নিলামেই জোয়ার পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটেই মহাকাশ দৌড়ে বিপ্লব, খরচ কমিয়ে নতুন যুগের সূচনা ইরান সংকটে ট্রাম্পের অপ্রথাগত কূটনীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

বিজ্ঞানেই প্রতিরোধ: আগ্রাসী প্রজাতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন কৌশল

যুক্তরাজ্যে পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে এবার সামনে আসছে এক ভিন্নধর্মী বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ। আগ্রাসী বিদেশি উদ্ভিদ ও প্রাণীর দাপটে বিপন্ন দেশীয় জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে গবেষণাগারে জন্মানো বিশেষ প্রজাতিকে প্রকৃতিতে ছাড়ছে সরকারি বিজ্ঞানীরা। লক্ষ্য একটাই—প্রকৃতির ভেতর থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

আগ্রাসী প্রজাতির চাপে সংকট
ব্রিটেনে জাপানি নটউইড, হিমালয়ান বালসাম, সিগন্যাল ক্রে-ফিশ কিংবা ভাসমান পেনিওয়ার্টের মতো আগ্রাসী প্রজাতি নদী, জলাভূমি ও বনাঞ্চলে দেশীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীকে ঠেলে দিচ্ছে বিলুপ্তির দিকে। এই প্রজাতিগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে, বাড়াচ্ছে অর্থনৈতিক ক্ষতিও।

বিজ্ঞানীদের নতুন অস্ত্র
এই সংকট মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করছেন জীববৈজ্ঞানিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। দক্ষিণ আমেরিকার এক ধরনের পোকা ব্যবহার করে ভাসমান পেনিওয়ার্টের বিস্তার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েক বছর ধরে যেসব এলাকায় এই পোকা ছাড়া হয়েছে, সেখানে উদ্ভিদের ঘনত্ব কমতে দেখা গেছে। একইভাবে জাপানি নটউইড দমনে বিশেষ এক পোকা এবং হিমালয়ান বালসামের বিরুদ্ধে ছত্রাক পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

Experts identify the 108 species with the highest risk of becoming invasive  in Spain

কেন এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জীবন্ত নিয়ন্ত্রক একবার কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে মানুষের শ্রম ও খরচ কমে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদে আগ্রাসী প্রজাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এই পদ্ধতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

দেশীয় প্রজাতি রক্ষার লড়াই
আগ্রাসী সিগন্যাল ক্রে-ফিশের কারণে ব্রিটেনের দেশীয় সাদা নখওয়ালা ক্রে-ফিশ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এদের বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। ইয়র্কশায়ার ও ডেভনে বিশেষ হ্যাচারিতে এদের বংশবিস্তার করে নিরাপদ এলাকায় ছাড়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে শতাধিক ক্রে-ফিশকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও পরিবেশের দ্বৈত চাপ
সরকারি হিসাব অনুযায়ী আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতির কারণে ব্রিটেনের অর্থনীতিতে বছরে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। তাই পরিবেশ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রজাতির বিস্তার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও নীতিনির্ধারণের সমন্বয়েই এই লক্ষ্য পূরণের আশা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৫ বছর পর প্রথম নিজস্ব চিপ বানাল আর্ম, এআই ডেটা সেন্টারের জন্য মেটা-ওপেনএআই প্রথম গ্রাহক

বিজ্ঞানেই প্রতিরোধ: আগ্রাসী প্রজাতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন কৌশল

১২:২৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাজ্যে পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে এবার সামনে আসছে এক ভিন্নধর্মী বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ। আগ্রাসী বিদেশি উদ্ভিদ ও প্রাণীর দাপটে বিপন্ন দেশীয় জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে গবেষণাগারে জন্মানো বিশেষ প্রজাতিকে প্রকৃতিতে ছাড়ছে সরকারি বিজ্ঞানীরা। লক্ষ্য একটাই—প্রকৃতির ভেতর থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

আগ্রাসী প্রজাতির চাপে সংকট
ব্রিটেনে জাপানি নটউইড, হিমালয়ান বালসাম, সিগন্যাল ক্রে-ফিশ কিংবা ভাসমান পেনিওয়ার্টের মতো আগ্রাসী প্রজাতি নদী, জলাভূমি ও বনাঞ্চলে দেশীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীকে ঠেলে দিচ্ছে বিলুপ্তির দিকে। এই প্রজাতিগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে, বাড়াচ্ছে অর্থনৈতিক ক্ষতিও।

বিজ্ঞানীদের নতুন অস্ত্র
এই সংকট মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করছেন জীববৈজ্ঞানিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। দক্ষিণ আমেরিকার এক ধরনের পোকা ব্যবহার করে ভাসমান পেনিওয়ার্টের বিস্তার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েক বছর ধরে যেসব এলাকায় এই পোকা ছাড়া হয়েছে, সেখানে উদ্ভিদের ঘনত্ব কমতে দেখা গেছে। একইভাবে জাপানি নটউইড দমনে বিশেষ এক পোকা এবং হিমালয়ান বালসামের বিরুদ্ধে ছত্রাক পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

Experts identify the 108 species with the highest risk of becoming invasive  in Spain

কেন এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জীবন্ত নিয়ন্ত্রক একবার কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে মানুষের শ্রম ও খরচ কমে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদে আগ্রাসী প্রজাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এই পদ্ধতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

দেশীয় প্রজাতি রক্ষার লড়াই
আগ্রাসী সিগন্যাল ক্রে-ফিশের কারণে ব্রিটেনের দেশীয় সাদা নখওয়ালা ক্রে-ফিশ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এদের বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। ইয়র্কশায়ার ও ডেভনে বিশেষ হ্যাচারিতে এদের বংশবিস্তার করে নিরাপদ এলাকায় ছাড়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে শতাধিক ক্রে-ফিশকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও পরিবেশের দ্বৈত চাপ
সরকারি হিসাব অনুযায়ী আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতির কারণে ব্রিটেনের অর্থনীতিতে বছরে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। তাই পরিবেশ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রজাতির বিস্তার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও নীতিনির্ধারণের সমন্বয়েই এই লক্ষ্য পূরণের আশা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।