০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
গণতন্ত্রের মুখোশে সাংবাদিক দমন, বাড়ছে দুর্নীতির অন্ধকার সহায়তা প্রাপ্ত মৃত্যুর পথে আমেরিকার বড় মোড়, এক তৃতীয়াংশ মানুষের সামনে নতুন আইন ইরানের ক্ষমতার কাঠামো ভাঙার প্রশ্নে নতুন সমীকরণ, পরিবর্তনের পথে গণভোটের আহ্বান নতুন একক গানে আরও ব্যক্তিগত পথে নিক জোনাস চিকিৎসার খোঁজে চীনে বিদেশিদের ঢল, কম খরচে দ্রুত সেবায় বাড়ছে মেডিকেল পর্যটন বিজ্ঞান বাজেটে কংগ্রেসের প্রতিরোধ, ট্রাম্পের কাটছাঁট পরিকল্পনায় ধাক্কা কলম্বিয়ার সাবেক সেনাদের বিদেশযুদ্ধে টান, ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অস্থির ভবিষ্যৎ চীনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য ‘শেনলং’ মহাকাশযানের চতুর্থ মিশন কক্ষপথে মাগুরায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য নিহত ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, জানিয়েছে সেনাবাহিনী

বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রিয়াদ: সংঘাত নিরসনে সৌদি আরবের সংজ্ঞায়িত বছর

২০২৫ সাল সৌদি আরবের জন্য কেবল আরেকটি কূটনৈতিক বছর নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সময়। ইউক্রেন থেকে গাজা, সুদান থেকে সিরিয়া—বিভিন্ন সংঘাত ও সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রিয়াদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বছরেই সৌদি কূটনীতি আঞ্চলিক প্রভাবের গণ্ডি পেরিয়ে বহুপাক্ষিক বৈশ্বিক শক্তিতে রূপ নিয়েছে

আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী

ইউরোপীয় ফরেন রিলেশনস কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির ব্যবস্থাপক কেলি পেটিলোর ভাষায়, সৌদি আরব এতদিন যে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল, ২০২৫ সালে সেটিই বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে রূপ পেয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ প্রস্তাবে গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়। একইসঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দুই রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের বৈশ্বিক জোট গঠিত হয়, যার প্রথম বৈঠক হয় রিয়াদে।

সিরিয়া থেকে ইউক্রেন, রিয়াদের সক্রিয় ভূমিকা

বছরের শুরুতেই সিরিয়ায় নতুন সরকারের জন্য সহায়তা দ্রুত করার লক্ষ্যে রিয়াদে আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়। এরপর সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হয় সৌদি আরব। একই সময়ে রিয়াদে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক আয়োজিত হয়, যা সৌদি মধ্যস্থতার শক্ত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে। ইউক্রেন সংকটের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিতে জেদ্দায় বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক

যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপ—সব পক্ষের সঙ্গেই সমান তালে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে সৌদি আরব। চীনের উপ-রাষ্ট্রপতির রিয়াদ সফর, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের ঘোষণা এ কূটনীতির অংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ চুক্তি সৌদি-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

গাজা প্রশ্নে আপোষহীন অবস্থান

যদিও বাস্তববাদী কূটনীতি সৌদি আরবকে নানা জোটে যুক্ত করেছে, গাজা ইস্যুতে আপোষ করেনি রিয়াদ। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চাপ সত্ত্বেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে ন্যায়সঙ্গত সমাধান ছাড়া কোনো অগ্রগতি মানতে রাজি নয় দেশটি। সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জন জেনকিন্সের মতে, গত পাঁচ বছরে সৌদি কূটনীতি আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে, তবে সামনে গাজা ইস্যুই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সামনে চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা এবং ইসরায়েলের বাস্তব আলোচনায় আগ্রহ অপরিহার্য। সেই সঙ্গে সৌদি আরবকেই নিতে হবে সৃজনশীল নীতি প্রস্তাবের নেতৃত্ব। ২০২৫ সালে অর্জিত কূটনৈতিক উচ্চতা ধরে রাখা হবে রিয়াদের জন্য আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্রের মুখোশে সাংবাদিক দমন, বাড়ছে দুর্নীতির অন্ধকার

বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রিয়াদ: সংঘাত নিরসনে সৌদি আরবের সংজ্ঞায়িত বছর

০৪:২১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

২০২৫ সাল সৌদি আরবের জন্য কেবল আরেকটি কূটনৈতিক বছর নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সময়। ইউক্রেন থেকে গাজা, সুদান থেকে সিরিয়া—বিভিন্ন সংঘাত ও সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রিয়াদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বছরেই সৌদি কূটনীতি আঞ্চলিক প্রভাবের গণ্ডি পেরিয়ে বহুপাক্ষিক বৈশ্বিক শক্তিতে রূপ নিয়েছে

আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী

ইউরোপীয় ফরেন রিলেশনস কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির ব্যবস্থাপক কেলি পেটিলোর ভাষায়, সৌদি আরব এতদিন যে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল, ২০২৫ সালে সেটিই বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে রূপ পেয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ প্রস্তাবে গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়। একইসঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দুই রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের বৈশ্বিক জোট গঠিত হয়, যার প্রথম বৈঠক হয় রিয়াদে।

সিরিয়া থেকে ইউক্রেন, রিয়াদের সক্রিয় ভূমিকা

বছরের শুরুতেই সিরিয়ায় নতুন সরকারের জন্য সহায়তা দ্রুত করার লক্ষ্যে রিয়াদে আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়। এরপর সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হয় সৌদি আরব। একই সময়ে রিয়াদে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক আয়োজিত হয়, যা সৌদি মধ্যস্থতার শক্ত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে। ইউক্রেন সংকটের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিতে জেদ্দায় বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক

যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপ—সব পক্ষের সঙ্গেই সমান তালে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে সৌদি আরব। চীনের উপ-রাষ্ট্রপতির রিয়াদ সফর, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের ঘোষণা এ কূটনীতির অংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ চুক্তি সৌদি-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

গাজা প্রশ্নে আপোষহীন অবস্থান

যদিও বাস্তববাদী কূটনীতি সৌদি আরবকে নানা জোটে যুক্ত করেছে, গাজা ইস্যুতে আপোষ করেনি রিয়াদ। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চাপ সত্ত্বেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে ন্যায়সঙ্গত সমাধান ছাড়া কোনো অগ্রগতি মানতে রাজি নয় দেশটি। সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জন জেনকিন্সের মতে, গত পাঁচ বছরে সৌদি কূটনীতি আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে, তবে সামনে গাজা ইস্যুই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সামনে চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা এবং ইসরায়েলের বাস্তব আলোচনায় আগ্রহ অপরিহার্য। সেই সঙ্গে সৌদি আরবকেই নিতে হবে সৃজনশীল নীতি প্রস্তাবের নেতৃত্ব। ২০২৫ সালে অর্জিত কূটনৈতিক উচ্চতা ধরে রাখা হবে রিয়াদের জন্য আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।