০৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রিয়াদ: সংঘাত নিরসনে সৌদি আরবের সংজ্ঞায়িত বছর

২০২৫ সাল সৌদি আরবের জন্য কেবল আরেকটি কূটনৈতিক বছর নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সময়। ইউক্রেন থেকে গাজা, সুদান থেকে সিরিয়া—বিভিন্ন সংঘাত ও সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রিয়াদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বছরেই সৌদি কূটনীতি আঞ্চলিক প্রভাবের গণ্ডি পেরিয়ে বহুপাক্ষিক বৈশ্বিক শক্তিতে রূপ নিয়েছে

আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী

ইউরোপীয় ফরেন রিলেশনস কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির ব্যবস্থাপক কেলি পেটিলোর ভাষায়, সৌদি আরব এতদিন যে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল, ২০২৫ সালে সেটিই বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে রূপ পেয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ প্রস্তাবে গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়। একইসঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দুই রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের বৈশ্বিক জোট গঠিত হয়, যার প্রথম বৈঠক হয় রিয়াদে।

সিরিয়া থেকে ইউক্রেন, রিয়াদের সক্রিয় ভূমিকা

বছরের শুরুতেই সিরিয়ায় নতুন সরকারের জন্য সহায়তা দ্রুত করার লক্ষ্যে রিয়াদে আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়। এরপর সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হয় সৌদি আরব। একই সময়ে রিয়াদে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক আয়োজিত হয়, যা সৌদি মধ্যস্থতার শক্ত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে। ইউক্রেন সংকটের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিতে জেদ্দায় বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক

যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপ—সব পক্ষের সঙ্গেই সমান তালে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে সৌদি আরব। চীনের উপ-রাষ্ট্রপতির রিয়াদ সফর, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের ঘোষণা এ কূটনীতির অংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ চুক্তি সৌদি-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

গাজা প্রশ্নে আপোষহীন অবস্থান

যদিও বাস্তববাদী কূটনীতি সৌদি আরবকে নানা জোটে যুক্ত করেছে, গাজা ইস্যুতে আপোষ করেনি রিয়াদ। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চাপ সত্ত্বেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে ন্যায়সঙ্গত সমাধান ছাড়া কোনো অগ্রগতি মানতে রাজি নয় দেশটি। সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জন জেনকিন্সের মতে, গত পাঁচ বছরে সৌদি কূটনীতি আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে, তবে সামনে গাজা ইস্যুই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সামনে চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা এবং ইসরায়েলের বাস্তব আলোচনায় আগ্রহ অপরিহার্য। সেই সঙ্গে সৌদি আরবকেই নিতে হবে সৃজনশীল নীতি প্রস্তাবের নেতৃত্ব। ২০২৫ সালে অর্জিত কূটনৈতিক উচ্চতা ধরে রাখা হবে রিয়াদের জন্য আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রিয়াদ: সংঘাত নিরসনে সৌদি আরবের সংজ্ঞায়িত বছর

০৪:২১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

২০২৫ সাল সৌদি আরবের জন্য কেবল আরেকটি কূটনৈতিক বছর নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সময়। ইউক্রেন থেকে গাজা, সুদান থেকে সিরিয়া—বিভিন্ন সংঘাত ও সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রিয়াদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বছরেই সৌদি কূটনীতি আঞ্চলিক প্রভাবের গণ্ডি পেরিয়ে বহুপাক্ষিক বৈশ্বিক শক্তিতে রূপ নিয়েছে

আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী

ইউরোপীয় ফরেন রিলেশনস কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির ব্যবস্থাপক কেলি পেটিলোর ভাষায়, সৌদি আরব এতদিন যে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল, ২০২৫ সালে সেটিই বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে রূপ পেয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ প্রস্তাবে গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়। একইসঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দুই রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের বৈশ্বিক জোট গঠিত হয়, যার প্রথম বৈঠক হয় রিয়াদে।

সিরিয়া থেকে ইউক্রেন, রিয়াদের সক্রিয় ভূমিকা

বছরের শুরুতেই সিরিয়ায় নতুন সরকারের জন্য সহায়তা দ্রুত করার লক্ষ্যে রিয়াদে আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়। এরপর সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হয় সৌদি আরব। একই সময়ে রিয়াদে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক আয়োজিত হয়, যা সৌদি মধ্যস্থতার শক্ত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে। ইউক্রেন সংকটের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিতে জেদ্দায় বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক

যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপ—সব পক্ষের সঙ্গেই সমান তালে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে সৌদি আরব। চীনের উপ-রাষ্ট্রপতির রিয়াদ সফর, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের ঘোষণা এ কূটনীতির অংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ চুক্তি সৌদি-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

গাজা প্রশ্নে আপোষহীন অবস্থান

যদিও বাস্তববাদী কূটনীতি সৌদি আরবকে নানা জোটে যুক্ত করেছে, গাজা ইস্যুতে আপোষ করেনি রিয়াদ। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চাপ সত্ত্বেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে ন্যায়সঙ্গত সমাধান ছাড়া কোনো অগ্রগতি মানতে রাজি নয় দেশটি। সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জন জেনকিন্সের মতে, গত পাঁচ বছরে সৌদি কূটনীতি আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে, তবে সামনে গাজা ইস্যুই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সামনে চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা এবং ইসরায়েলের বাস্তব আলোচনায় আগ্রহ অপরিহার্য। সেই সঙ্গে সৌদি আরবকেই নিতে হবে সৃজনশীল নীতি প্রস্তাবের নেতৃত্ব। ২০২৫ সালে অর্জিত কূটনৈতিক উচ্চতা ধরে রাখা হবে রিয়াদের জন্য আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।