০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ইউএই-তে পরিবারকেন্দ্রিক ইস্টার উদযাপন: ডিনার থেকে ডিম খোঁজা, সবকিছুই মিলেমিশে উৎসবের আনন্দ বাড়াচ্ছে দামার হ্যামলিনের জীবন বদলে দেওয়া হৃদরোগ সচেতনতার সংগ্রাম: বাঁচার লড়াই থেকে অন্যদের জীবন বাঁচানো পর্যন্ত আত্মার বন্ধুত্বের রহস্যে হারানো: ইমপারফেক্ট উইমেন-এর শোবিশ্লেষণ চাকরি ও শ্রমিকের সমন্বয়, তবে সন্তুষ্টি নেই কম্বোডিয়ার সাইবার অপরাধ দমন আইন প্যাম বন্ডি চেয়ার করেছিলেন মার্জিত বিদায়, কিন্তু ট্রাম্প চাইলেন তাকে বিদায় দিতে কিউবায় দুই হাজারের বেশি বন্দি মুক্তি যুদ্ধ থামাতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন পোপের ইরান ইস্যুতে ন্যাটোতে নতুন অস্বস্তি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ফরাসি মালিকানাধীন জাহাজ

রাউজানে একের পর এক হিন্দু বাড়িতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ, তথ্য দিলে পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একের পর এক হিন্দু পরিবারের বসতঘরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিলে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় একটি হিন্দু পরিবারের বসতঘরে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর পুলিশ তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণার কথা জানায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পুরস্কারের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা
বুধবার ২৪ ডিসেম্বর রাউজান উপজেলার সুলতানপুর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক আহসান হাবীব পলাশ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যারা এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দেবেন, তাদের আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করা হবে।

কীভাবে ঘটেছে অগ্নিসংযোগ
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে কাতারপ্রবাসী সুখ শীলের বসতঘরে বাইরে থেকে দরজা আটকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় ঘরে ছিলেন সুখ শীলের বোন ও বোন জামাই অনিল শীল। তারা প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বহু জিনিসপত্র পুড়ে যায়।

ক্ষয়ক্ষতি ও আলামত উদ্ধার
পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা। ঘটনাস্থল থেকে হাতে লেখা কিছু ব্যানার ও কাগজ জব্দ করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের ব্যক্তিদের নাম এবং মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। বুধবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস
পুলিশ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই কায়দায় আগের ঘটনাগুলো
এই ঘটনার কয়েক দিন আগেও রাউজানে একই কৌশলে একাধিক হিন্দু পরিবারের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। গত শনিবার ভোর রাতে রাউজান পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশের বাড়িতে বাইরে থেকে দরজা আটকে আগুন ধরানো হয়। আগুনের তীব্রতা টের পেয়ে বাসিন্দারা বের হতে চাইলে দরজা বাইরে থেকে বাঁধা থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ঘরের দরজা কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং উঠানে কেরোসিনমাখা কাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এর আগেও শুক্রবার ভোর রাতে রাউজানের কেউটিয়া সাত নম্বর ওয়ার্ডে সাধন বড়ুয়ার এবং নয় নম্বর ওয়ার্ডে সোনা পাল ও কামিনী মোহন পালের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেও কেরোসিনমিশ্রিত কাপড় এবং রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা কাগজ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত জোরদার
পুলিশ জানিয়েছে, ধারাবাহিক এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউএই-তে পরিবারকেন্দ্রিক ইস্টার উদযাপন: ডিনার থেকে ডিম খোঁজা, সবকিছুই মিলেমিশে উৎসবের আনন্দ বাড়াচ্ছে

রাউজানে একের পর এক হিন্দু বাড়িতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ, তথ্য দিলে পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের

০২:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একের পর এক হিন্দু পরিবারের বসতঘরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিলে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় একটি হিন্দু পরিবারের বসতঘরে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর পুলিশ তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণার কথা জানায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পুরস্কারের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা
বুধবার ২৪ ডিসেম্বর রাউজান উপজেলার সুলতানপুর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক আহসান হাবীব পলাশ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যারা এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দেবেন, তাদের আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করা হবে।

কীভাবে ঘটেছে অগ্নিসংযোগ
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে কাতারপ্রবাসী সুখ শীলের বসতঘরে বাইরে থেকে দরজা আটকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় ঘরে ছিলেন সুখ শীলের বোন ও বোন জামাই অনিল শীল। তারা প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বহু জিনিসপত্র পুড়ে যায়।

ক্ষয়ক্ষতি ও আলামত উদ্ধার
পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা। ঘটনাস্থল থেকে হাতে লেখা কিছু ব্যানার ও কাগজ জব্দ করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের ব্যক্তিদের নাম এবং মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। বুধবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস
পুলিশ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই কায়দায় আগের ঘটনাগুলো
এই ঘটনার কয়েক দিন আগেও রাউজানে একই কৌশলে একাধিক হিন্দু পরিবারের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। গত শনিবার ভোর রাতে রাউজান পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশের বাড়িতে বাইরে থেকে দরজা আটকে আগুন ধরানো হয়। আগুনের তীব্রতা টের পেয়ে বাসিন্দারা বের হতে চাইলে দরজা বাইরে থেকে বাঁধা থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ঘরের দরজা কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং উঠানে কেরোসিনমাখা কাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এর আগেও শুক্রবার ভোর রাতে রাউজানের কেউটিয়া সাত নম্বর ওয়ার্ডে সাধন বড়ুয়ার এবং নয় নম্বর ওয়ার্ডে সোনা পাল ও কামিনী মোহন পালের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেও কেরোসিনমিশ্রিত কাপড় এবং রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা কাগজ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত জোরদার
পুলিশ জানিয়েছে, ধারাবাহিক এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।