শক্তি অবকাঠামো রক্ষায় নতুন ব্যবস্থা
ইউক্রেন জানায়, জানুয়ারির শুরুতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকলেও নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ আঘাত প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে হামলার ফলে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও জরুরি মেরামতের মাধ্যমে দ্রুত সেবা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, শীতকাল পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিদ্যুৎ, পানি ও গরমের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, ফলে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সমন্বয় এখন যুদ্ধ কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে। হামলার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, একসঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ভেদ করার চেষ্টা চলছে।
নতুন স্তর ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়

ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, নতুন রাডার সংযোগ ও প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ শহর ও পরিবহন করিডরের সুরক্ষা বেড়েছে। পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জ্বালানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি দল আগেভাগেই সরঞ্জাম ও জেনারেটর প্রস্তুত রেখেছে। হাসপাতাল ও পানি সরবরাহ স্থাপনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে দূরবর্তী গ্রামীণ এলাকায় প্রতিরক্ষা কভারেজ তুলনামূলক কম থাকায় কখনো কখনো বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হচ্ছে।
সরকারি বার্তায় সম্পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি না দিয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাবস্টেশনের আশপাশে ড্রোন প্রতিরোধে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা ও সুরক্ষামূলক কাঠামো স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ধ্বংসাবশেষের ক্ষতি কমে।
কূটনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
শীতকালীন হামলা বাড়ায় অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। ইউক্রেনের নেতৃত্ব বলছে, প্রতিটি প্রতিহত আঘাত পুনর্গঠনের খরচ ও মানবিক ক্ষতি কমায়। তবে পশ্চিমা দেশগুলোও নিজেদের মজুত ও বাজেট সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে।
রাশিয়া বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবুও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শক্তি অবকাঠামোর কাছে বারবার আঘাত লেগেছে। সামনে কয়েক সপ্তাহে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও জনসাধারণের সহনশীলতা কতটা টিকে থাকে, সেটিই শীতকালীন পর্বের ফল নির্ধারণ করবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















