ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং সাময়িকভাবে দেশ চালানোর ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নজিরবিহীন পথে হাঁটলেন। দীর্ঘদিন বিদেশি যুদ্ধে জড়ানো থেকে দূরে থাকার যে অঙ্গীকার তিনি করে আসছেন, এই পদক্ষেপ তার স্পষ্ট বিচ্যুতি দেখা গেল। ফ্লোরিডার পাম বিচে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনায় থাকবে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আরও সামরিক উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও দেন তিনি
বিদেশনীতি নিয়ে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার সংঘাত
দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেকে ট্রাম্প বলেছিলেন, সাফল্য মাপা হবে কোন যুদ্ধ এড়ানো গেল তা দিয়ে। কিন্তু ভেনিজুয়েলা অভিযানের আগে সিরিয়া, ইরাক, ইরানসহ একাধিক দেশে হামলার ঘটনা সেই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক বাহী নৌকা ধ্বংস এবং বিভিন্ন দেশে কঠোর হুমকি ও তার পররাষ্ট্রনীতিকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলেছে।

কারাকাসে হামলা ও মাদুরোর আটক
রাতের অভিযানে রাজধানী কারাকাস সহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়। অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার কথা জানানো হয়। যদিও মাদুরোর শীর্ষ সহযোগীরা এখনও ক্ষমতার বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় বলে ইঙ্গিত মিলছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকি
ভেনেজুয়েলা হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন সামরিক পদক্ষেপ বেপরোয়া। রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেও বিভক্তি স্পষ্ট, কেউ কেউ একে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পরিপন্থী বলে আখ্যা দিচ্ছেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ইস্যু ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ ও জটিল রূপান্তর প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে ফেলতে পারে। অতীতে গ্রেনাডা ও পানামায় সামরিক অভিযানের নজির টেনে তারা বলছেন, সরকার পরিবর্তনের পর দেশ পরিচালনা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশ্ন উঠছে, মাদুরোকে সরানোর পর ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব হবে কি না।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















